মেয়ের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে বাবা কুপিয়ে হাসপাতালে পাঠাল ঝা, ভাসুর সহ চারজনকে

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ৩১ জানুয়ারি৷৷ মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে পিতার গুন্ডাগিরি৷ লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মেয়ের ভাসুর, ঝা সহ অপর দুজন৷ আহতরা হলেন ইব্রাহিম আলী, স্বপ্ণা বেগম, সুলতানা বেগম চৌধুরী ও তাহির আলী৷ কদমতলা থানায় মামলা রুজু৷ অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দিন পালাতক৷ ঘটনা কদমতলা থানাধীন উত্তর হুরুয়া এলাকায়৷
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন কালাগাঙ্গের পার গ্রাম পঞ্চায়েতের সিরাজ উদ্দিন পিতা মৃত মুছন আলীর মেয়ে ইমরানা বেগমকে ইসলামিক রীতিনীতি মেনে একই থানা এলাকার কালাছড়া ব্লকাধীন উত্তর হুরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুলতান আলী পিতা ফাতির আলীর সাথে বিয়ে দেন৷

বিয়ের পর থেকে ইমরানার পিতা অর্থাৎ সিরাজ উদ্দিন মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে মেয়ের অন্যায় আবদারের পক্ষ নিয়ে পরিবারের অন্যান্যদের গালিগালাজ ও মারপিটের হুমকি দেন৷ তা নিয়ে বেশ কয়েকবার উত্তর হুরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে স্তরে সালিশি সভাও বসে৷ কিন্তু সিরাজ উদ্দিন তা না মেনে উপরন্তু মেয়েকে প্রশ্রয় দিয়ে মেয়ের পরিবারের ভাসুর ও ঝা-কে গালিগালাজ ও মারপিটের হুমকি দিতে থাকে৷ অনুরূপ আজ সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ গৃহবধু ইমরানার পিতা সিরাজ উদ্দিন কালাগাঙ্গের পার থেকে গাড়ি করে কালাছড়ার উত্তর হুরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের নিজ কন্যার বাড়িতে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ৷ সেখানে গিয়ে মেয়ের ভাসুর ইব্রাহিম আলিকে গালিগালাজ করতে শুরু করে৷ এক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে৷ সিরাজ উদ্দিন রাগান্বিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাসুর ইব্রাহিম আলিকে আঘাত করতে শুরু করে৷ আর তাতে ইব্রাহিমের শরীরের বেশ কিছু জায়গা কেটে রক্তক্ষরণ হতে থাকে৷ তখন তাকে বাঁচাতে এলে তার স্ত্রী স্বপ্ণা বেগমের উপর লাঠি দিয়ে আঘাত করে সিরাজ উদ্দিন৷


সাথে কিল-ঘুষি-লাথি এমনকি স্বপ্ণা বেগমের গায়ের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ স্বপ্ণা বেগমের৷ তাদের আর্তনাদে বাঁচাতে এলে সুলতানা বেগম চৌধুরী ও তাহিরী আলী নামের অপর দুজুন গুরুতরভাবে আহত হন৷ তারপর আশপাশের মানুষজন জড়ো হতে থাকলে অবস্থা বেগতিক দেখে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দিন পালিয়ে যায়৷ আশেপাশের জনগণ ছুটে এসে আহতদের কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতাল চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন৷ কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ইব্রাহিম আলী ও তার স্ত্রী স্বপ্ণা বেগমকে জেলা হাসপাতালে করেন৷
পাশাপাশি স্বপ্ণা বেগম কদমতলা থানায় অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন৷ কদমতলা থানার পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ধারায় একটি মামলা হাতে নিয়ে তদন্ত শুরু করে দিলেও বর্তমানে অভিযুক্ত সিরাজ উদ্দিন পলাতক৷ তাছাড়া দিন দুপুরে বাড়িতে এসে এভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর পর গোটা উত্তর-হুরুয়া এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে৷