শাসক জোটে ফাটল ধরাতে ক্ষমতাচ্যুতরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, বিস্ফোরক বিজেপি ও আইপিএফটি নেতৃবৃন্দ

আগরতলা, ১৬ আগস্ট (হি.স.)৷৷ শাসক জোটে চিড় ধরিয়ে ত্রিপুরায় শান্তির পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে বিরোধীরা৷ তৈদু-তে সংগঠিত বিজেপি-আইপিএফটি সংঘর্ষকে ঘিরে দুই দলের নেতৃবৃন্দ বিরোধীদের নিশানা করে সুর চড়িয়েছেন৷ অবশ্য ওই ঘটনায় আইপিএফটি থানায় বিজেপি-র ১২ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েছে করেছে৷ পাল্টা বিজেপিও আইপিএফটি-র বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে, জানিয়েছেন গোমতির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার৷


বাজার কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে গোমতি জেলার তৈদু এলাকায় শনিবার উত্তেজনা ছড়িয়েছিল৷ দুই দলের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গিয়ে তৈদু মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং একজন সব-ইন্সপেক্টরও আহত হয়েছেন৷ এ-বিষয়ে গোমতির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, তৈদু বাজার কমিটিতে সদস্য রদবদল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল৷ তাতে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল৷ তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷ তাঁর কথায়, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তৈদু মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং তৈদু থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর আহত হয়েছেন৷ তবে এখন এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে৷ তিনি বলেন, ওই ঘটনায় দুই গোষ্ঠী থানায় এফআইআর করেছে৷

এদিকে, আইপিএফটি-র সহ-সাধারণ সম্পাদক মঙ্গল দেববর্মা ওই সংঘর্ষের ঘটনায় বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন, তৈদু বাজার কমিটি আইপিএফটি কর্মীরা পরিচালনা করছেন৷ কিন্তু বিজেপি ওই কমিটি বদল করে নিজেরা পরিচালনা করতে চাইছে৷ সে মোতাবেক তারা হাটবার পরিবর্তন করতে চাইছেন৷ তাঁর কথায়, তৈদু বাজারে হাটবার বসে মঙ্গল ও শুক্রবার৷ বিজেপি ওই দিনক্ষণ পরিবর্তন করে মঙ্গল ও শনিবার করতে চাইছে৷ কিন্তু তাতে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে৷ তিনি বলেন, আইপিএফটি কর্মীদের না ডেকে বিজেপি নিজেদের মতো কমিটি বদলের বৈঠকে নতুন হাটবার নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ তাতে, শুধু রচনা কলই আমন্ত্রিত ছিলেন৷ কিন্তু, বৈঠকে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং রচনা কলই সহ অন্যান্যরা বেরিয়ে যান৷ তাতেই দেখা দেয় বিপত্তি৷


মঙ্গলের দাবি, বিজেপি কর্মীরা নিজেদের পার্টি অফিস থেকে আইপিএফটি কর্মীদের লক্ষ্য করে মদের বোতল, ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকেন৷ তাতে বেশ কয়েকজন আইপিএফটি কর্মী আহত হন৷ তখন আইপিএফটি কর্মীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন৷ ফলে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে৷ তিনি অভিযোগ এনে বলেন, পুলিশ পরিস্থিতির মোকাবিলায় আইপিএফটি-র দলীয় পতাকা এবং পার্টি অফিস ভাংচুর করেছে৷ মঙ্গল বলেন, ওই ঘটনায় অধিকাংশ বিজেপি কর্মীই সিপিএম দল থেকে এসেছেন৷ তারা এখন বিজেপি-তে যোগ দিয়ে শাসক জোটের সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছেন৷ তাঁর দাবি, রূপকুমার জমাতিয়া, বিশু সাহা, রতন কলই, মঙ্গল কলই, কমল কলই, শিবসাং লিয়ান কাইপেং, মঙ্গল সিং কলই, জগদীশ দেবনাথ এবং নারায়ণ কাইপেং সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন৷ তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷

তাঁর সাফ কথা, বিরোধীরাই বিজেপি-আইপিএফটির মধ্যে ঝামেলা পাকিয়ে রাজ্যের শান্তির পরিবেশ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন৷ একই সুরে বিরোধীদের বিঁধলেন উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মাও৷ তিনি বলেন, বিজেপি-আইপিএফটি দুই দল আলাদা নীতি এবং আলাদা মতাদর্শে বিশ্বাসী৷ কিন্তু তবুও রাজ্যের স্বার্থে আমরা জোট বেঁধেছি৷ তবে এখন ত্রিপুরায় ক্ষমতাচ্যুতদের ইন্ধনেই ত্রিপুরায় শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে৷ তিনি দুই দলের কর্মীদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন৷ বিজেপি প্রদেশ কমিটির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, শরিক দলে সিপিএমের ক্যাডাররা প্রবেশ করেছেন৷ তাঁদের পরিচয় রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত বলে আমরা মনে করি৷ আইপিএফটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এই আশা রাখছি৷ তাঁর সাফ কথা, তৈদু-তে দুই শাসক দলের সংঘর্ষে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র রয়েছে৷ তাই, বিজেপি কর্মীদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ তবে তিনি দাবি করেন, বিজেপি-তে সিপিএম-এর ক্যাডারদের প্রবেশ কোনওভাবেই সম্ভব নয়৷

এদিকে, সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ, দুই শাসক দলের অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, সিপিএম-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে৷ এলাকা দখল নিয়েই শাসক জোটে বিরোধ দেখা দিয়েছে৷