আগরতলা, ১২ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরায় বুনোহাতির সংখ্যা ক্রমশ কমছে। বর্তমানে ত্রিপুরায় ৪৫ থেকে ৫০টি বুনোহাতি রয়েছে। ২০০৮ সালে সর্বশেষ হাতিশুমারিতে ত্রিপুরায় বুনোহাতি ছিল ৫৯টি। বর্তমানে সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভীষণ উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার। অবশ্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ফলেও হাতির সংখ্যা কমে গেছে। কারণ, আগে বাংলাদেশ থেকে হাতি সীমান্ত ডিঙিয়ে এপাড়ে ঢুকতে পারত। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, হাতির সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন ড. ডিকে শর্মা।
ড. শর্মা-র কথায়, ত্রিপুরায় এখন শুধু খোয়াই এবং গোমতি, এই দুই জেলায় বুনোহাতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক হাতিশুমারি অনুযায়ী ত্রিপুরায় ৪৫ থেকে ৫০টি বুনোহাতি রয়েছে। তাতে দুই জেলায় ২২ থেকে ২৫টি সংখ্যায় বিভক্ত হয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০২ সালে হাতিশুমারি অনুযায়ী ত্রিপুরায় তখন বুনোহাতির সংখ্যা ছিল ৩৮টি। যা ২০০৮ সালের সমীক্ষায় ত্রিপুরায় বন্য হাতির সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৫৯টি। কিন্তু গত ১২ বছরে রাজ্যে বুনোহাতির সংখ্যা কমেছে।
হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে ড. শর্মার যুক্তি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে হাতি ত্রিপুরায় প্রবেশ করতে পারে না। তাছাড়া দুই জেলায় বিভাজিত হয়ে যাওয়ায় তারা যৌনসঙ্গমও করতে পারছে না। ফলে, প্রজনন আগের অনুপাতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, অতীতেও হাতির সংখ্যা কমেছে ও বেড়েছে। কিন্তু, এখন শুধুই কমছে।
ড. শর্মা বলেন, হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, একটি হাতির গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কেজি খাবারের প্রয়োজন। কিন্তু জঙ্গলের অংশ কমে যাওয়ায় এবং হাতির বিচরণ ভূমিতে লোকালয় গড়ে ওঠায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই হাতির খাবার যোগানের প্রশ্নে বনে বাগান তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ফলের গাছ লাগানো হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং মৌমাছি পালন ও প্রয়োজনীয় খাবারের বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় আবদ্ধ রাখার চেষ্টা হচ্ছে। বিশেষ করে বাঁশ এবং কলা গাছ প্রচুর পরিমাণে জঙ্গলে লাগানো হচ্ছে। তাছাড়া হাতির প্রজননের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর আশা, কয়েক বছরের মধ্যে ত্রিপুরায় বুনোহাতির সংখ্যা বৃদ্ধি হবে।

