নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ আগস্ট৷৷ রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হলেন ২৫৩ জন৷ সেইসাথে মৃত্যু হয়েছে দুইজনের৷ যদিও আরও এক করোনা আক্রান্ত যুবক আত্মহত্যা করেছে৷ রাজ্যে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখনও পর্যন্ত হল ২৩ জনের৷ মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে৷ তাতে বিভিন্ন মহল থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে৷ এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় স্বাস্থ্য কর্মীরা ৪১৪৩ জনের লক্ষণ পেয়েছেন৷ কিন্তু, তারা কেউই কোভিড-১৯ পরীক্ষায় সম্মত হয়নি৷ এই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ জানান, যদি ভবিষ্যতে তাদের কোন সমস্যা হয় তার জন্য রাজ্য সরকার দায়ি থাকবে না৷
সংবাদ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সর্বমোট ৫ হাজার ৩৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তার মধ্যে ২৫৩ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷ এদিন করোনা সমীক্ষায় বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ৩ হাজার ৫০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে ১৫২ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷ অন্যদিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ও কন্টেইমেন্ট জোনের ৮১৯ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে ৪১ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷ সবমিলিয়ে এদিন ৫ হাজার ৩৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে ২৫৩ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷
তাতে দেখা গিয়েছে, পশ্চিম জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক৷ এই জেলায় ১০১ জন৷ অন্যদিকে, উত্তর জেলায় আক্রান্ত ৩২ জন, ঊনকোটি জেলায় ৩ জন, ধলাই জেলায় ১১ জন, খোয়াই জেলায় ৩৯ জন, সিপাহীজলা জেলায় ১৯ জন, গোমতী জেলায় ৩৮ জন এবং দক্ষিণ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জন৷
অন্যদিকে, করোনা সংক্রমিত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেছে৷ তাছাড়া জিবি হাসপাতালে আরও এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ যদিও ওই যুবক করোনা সংক্রমিত ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ ওই যুবকের বাড়ি বাইখোড়া থানার অধীন মুহুরিপুরের কালমা গ্রামে৷ ওই যুবক দুইদিন আগে বিষপান করেছিল৷ তাকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে আগরতলায় জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ জিবি হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়৷ তাতে দেখা যায় ওই যুবক করোনা সংক্রমিত৷ তার চিকিৎসা চলছিল জিবি হাসপাতালেই৷ গতকাল সে জি বি হাসপাতালের পাকা ভবনের ছাদ থেকে ঝাপিয়ে আত্মহত্যা করেছে৷ জানা গিয়েছে, ওই যুবক বিষপান করার আগেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে৷
করোনার খুঁজে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় সংক্রমণের লক্ষণ রয়েছে এমন ৪,১৪৩ জন কোভিড-১৯ পরীক্ষায় রাজি হননি৷ এদিকে, ওই সমীক্ষায় এখন পর্যন্ত সন্ধান মিলেছে ৬৫৫ জন করোনা আক্রান্তের৷ আগামী এক সপ্তাহে ওই সংক্রমিতদের সংস্পর্শে যারা ছিলেন তাদের খুঁজে বের করা হবে৷ আজ শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷
তিনি বলেন, ত্রিপুরায় করোনা-র খুঁজে রেশন কার্ড ভিত্তিক বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ তাতে, ৯,২১,৮৯৫টি বাড়িতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে৷ এখন পর্যন্ত ৮,৭৪,৬০৯টি বাড়ি সমীক্ষা করা হয়ে গেছে৷ তাঁর কথায়, বাকি ৪৭,২৬৮টি বাড়িতে সমীক্ষার কাজ শীঘ্রই সমাপ্ত হয়ে যাবে৷ তবে অনেকেই রেশন কার্ড থেকে পৃথক হয়ে গেছেন৷ ফলে আরও ১ লক্ষ বাড়ি ওই সমীক্ষার তালিকায় যুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত সমীক্ষায় করোনা-র লক্ষণ রয়েছে এমন ২৩,৮৬৯ জনকে চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ১৯,৭২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে৷ তাতে, ৬৫৫ জনের দেহে করোনা-র সংক্রমণ মিলেছে৷ শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ৪,১৪৩ জনের করোনা-র লক্ষণ রয়েছে৷ কিন্তু তারা কোভিড-১৯ পরীক্ষায় সম্মত হননি৷ তাই তাদেরকে আবারও পরীক্ষার জন্য বোঝানো হবে৷ প্রয়োজনে বার বার তাদের কাছে যাবেন সরকারি কর্মীরা এবং বুঝিয়ে পরীক্ষার জন্য রাজি করার চেষ্টা করবেন৷
এদিন তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় শনাক্ত ৬৫৫ জন করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে যাঁরা ছিলেন আগামী এক সপ্তাহে তাদের খুঁজে বের করা হবে৷ কারণ, তাদেরও নমুনা পরীক্ষা করার যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে৷ তাঁর দাবি, দেশে একমাত্র ত্রিপুরা করোনা-র খুঁজে বৃহৎ পরিসরে সমীক্ষার আয়োজন করেছে৷ তাতে সফলতাও আসছে৷

