নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জুলাই৷৷ রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড হল শুক্রবার৷ এদিন ২৭৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ এখনও পর্যন্ত এত সংখ্যায় আক্রান্ত হয়নি একদিনে৷ সরকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ৭১৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে৷ তাতে ২৭৫ জনের কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে৷
এই ২৭৫ জনের মধ্যেউত্তর জেলায় ৪৭ জন, ঊনকোটি জেলায় ৬ জন, ধলই জেলায় ৪ জন, খোয়াই জেলায় ২৬ জন, পশ্চিম জেলায় ১০৫ জন, সিপাহীজলা জেলায় ২৬ জন, গোমতী জেলায় ৪৩ জন এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ১৮ জন৷ এদিন, রাজ্যের বিভিন্ন কোভিড কেয়ার সেন্টার থেকে ৩৬৫ জন করোনী রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন৷
এদিকে, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাজ্য জুড়ে চলছে সম্পূর্ণ লকডাউন৷ কিন্তু এই লকডাউনকে অমান্য করে একাংশ অতিউৎসাহী মানুষ প্রায় প্রতিদিন বিনা প্রয়োজনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারগুলিতে ভিড় জমাচ্ছে৷ শুক্রবারও রাজধানীর বিভিন্ন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার গুলিতে একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়৷ বাজার গুলিতে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে কোন কিছুতেই সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছিল না৷ শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ময়দানে নামতে হয় পশ্চিম জেলা প্রশাসন ও আরক্ষা প্রশাসনকে৷
এইদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক এক করে রাজধানির বিভিন্ন বাজারগুলিতে অভিযান চালানো হয়৷ বিনা প্রয়োজনে যারা বাজারে এসে ভিড় জমিয়েছে তাদের এবং যারা মাস্ক সঠিক ভাবে ব্যবহার না করে বাজারের এসেছে তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এইদিন জরিমানা করা হয়৷ আবার যারা সরকারী নির্দেশিকা অমান্য করার পরও জরিমানা দিতে অস্বীকার করেছে তাদেরকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে৷ সদর মহকুমার ডিসিএম জানান রাজধানীর বাজারগুলিতে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে এবং বাজারগুলিতে যেন ভিড় না হয় তার জন্য সকাল থেকে বাজারগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে৷ লকডাউনের সময়সীমা বৃদ্ধি করার পর বাজারগুলিতে ক্রেতা বিক্রাতারা ভিড় জমাতে শুরু করেছে৷ অন্যদিকে রাজ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে প্রশাসনকে ময়দানে নামতে হয়েছে৷
এইদিন রাজধানীর মহারাজগঞ্জ বাজার, বটতলা বাজার, লেইক চৌমুহনী বাজার, দুর্গা চৌমুহনী বাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একের পর এক অভিযান চালানো হয়৷ এই অভিযানে পশ্চিম জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি সদর মহকুমার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নেতৃত্বে ছিলেন৷ সদর মহকুমার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক জানান সময় ও জায়গা বুঝে বাজার গুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রনে আনার প্রচেষ্টা চলছে৷ মাস্ক সঠিক ভাবে ব্যবহার না করার জন্য এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখার জন্য এইদিন আনুমানিক ৭ হাজার টাকা জরিমানা সংগ্রহ করা হয়েছে৷
যারা জরিমানা দিতে অস্বীকার করেছে তাদেরকে আটক করা হয়েছে৷ সকলকে সরকারী নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি৷এইদিন সকাল থেকে বাজার গুলিতে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে, যে কেউ দেখলে মনে করবে লকডাউন নয়, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বাজার চলছে৷ তবে আরক্ষা প্রশাসন ও পশ্চিম জেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে অভিযান শুরু করার পরও বাজার গুলিতে ভিড় হ্রাস পায়৷ এবং বাজার গুলি নিয়ন্ত্রনে আসে৷

