নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ২১ জুন৷৷ নেশা বিরোধী অভিযানে গিয়ে ২৪ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধারের পর নেশা কারবারিদের হাতে এক গোয়েন্দা পুলিশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করার মূল মাস্টারমাইন্ড তথা ব্রাউন সুগার কারবারি পুলিশের জালে৷ ধৃত নেশা কারবারির মিন্টু মিয়া (৫০) পিতা মৃত ইয়াসিন আলি৷ পানিসাগর মহুকুমা রৌয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা৷ চুরাইবারি থানার পুলিশ ধৃত নেশা কারবারিকে আজ জেলা আদালতে প্রেরণ করেছে৷
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ,গত ১৮ জুন উত্তর জেলার চুরাইবারি থানাধীন লক্ষীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ, চুরাইবারি থানার পুলিশ ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক যৌথভাবে নেশা বিরোধী অভিযানের জন্য উৎ পেতে বসে থাকেন৷ বেলা ঠিক ২:৩০ মিনিট নাগাদ লক্ষীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের প্রেমতলা গৌরীপুর সড়কের উপর ৪/৫ জনের একটি নেশা কারবারীদের দলকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের ৩ জন কর্মী৷ গোয়েন্দা পুলিশের কর্মীরা নেশা কারবারিদের পথ আটকিয়ে ২ প্যাকেট ব্রাউন সুগার তাদের হাতে নেওয়ার সাথে সাথে নেশা কারবারিদের দলটি গোয়েন্দা পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়৷
বিশেষ করে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মী জি এম উদ্দিনকে প্রচন্ড মারপিট করে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেঠ ও পিঠে আঘাত করে৷ তখন গুরুতরভাবে আহত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মী জিএম উদ্দিন প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখে চিৎকার করলে আশপাশে জনগণ ছুটে এলে ৪/৫ জনের নেশা কারবারির দলটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়৷চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ ও মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক রাজীব সূত্রধর ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর ভাবে আহত গোয়েন্দা পুলিশ কর্মীকে কদমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেন৷ চিকিৎসক গোয়েন্দা পুলিশ কর্মী জিএম উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করলে ধর্মনগর থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর নিয়ে যাওয়া হয়৷ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেন্সিং ডার্লং বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন৷ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া নেশা কারবারীদের পায়ের জুতো সহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ৷সাথে টট্ট০৫/৬৪৮৩ নম্বরের লাল রঙ্গের একটি এচিভার বাইক উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ৷পাশাপাশি চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে পড়ে৷
অবশেষে গতকাল উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ধর্মনগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, পানিসাগর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক, চুরাইবারি থানার ওসি, পানিসাগর থানার ওসি ও তদন্তকারী অফিসার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে পানিসাগর মহুকুমার পদ্মবিল বরার বাজার এলাকার গভীর জঙ্গলের মুসবিবর মিয়ার বাড়ি থেকে কুখ্যাত নেশা কারবারি ও গোয়েন্দা পুলিশের উপর আক্রমণের মূল মাস্টারমাইন্ড মিন্টু মিয়া(৫০) পিতা-মৃত ইয়াসিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ৷ ধৃত মিন্টু মিয়ার বাড়ি পানিসাগর মহাকুমার রৌয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চামটিল্লা এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডে৷
পাশাপাশি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন চুরাইবাড়ি থানাধীন লক্ষ্মীনগর ২ নং ওয়ার্ডে মিন্টু মিয়া তার দলবল নিয়ে ব্রাউন সুগার বিক্রির উদ্দেশ্যে এসেছিল৷আর যখন পুলিশ তাদেরকে আটক করতে যায় তখন পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায় মিন্টু মিয়ার নেতৃত্বে তার সাঙ্গ পাংগরা৷আর তাতে এক গোয়েন্দা পুলিশের কর্মী গুরুতর ভাবে ছুরির আঘাতে আহত হয়ে বর্তমানে বহিঃ রাজ্য শিলচরে চিকিৎসাধীন৷
তারপর থেকে মিন্টু মিয়াকে জালে তুলতে পুলিশ মাঠে নেমে পড়ে৷ অবশেষে গতকাল গভীর রাতে মিন্টু মিয়ার চামটিল্লার বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গভীর জঙ্গলে থাকা একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে৷ আজ ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে ধর্মনগর জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে৷ পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, এই ঘটনার সাথে জড়িত আরও এক মাস্টারমাইন্ড ধারালো ছুরি দিয়ে জি এম উদ্দিন নামের গোয়েন্দা পুলিশের কর্মীকে প্রাণের মারার চেষ্টাকারী খুবশীঘ্রই পুলিশের জালে ধরা পড়বে৷

