নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ জুন৷৷ আইজিএম হাসপাতালে আবারও সদ্যজাত শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে৷ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলার কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ৷ আইজিএম হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়৷ মৃত শিশুর আত্মীয় পরিজনরা হাসপাতালে হামলা ভাঙচুর চালান৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীকে আইজিএম হাসপাতালে তলব করা হয়৷ পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি আয়ত্তে আনা হয়৷
উল্লেখ্য, আইজিএম হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় এবং ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু এবং রোগী মৃত্যুর ঘটনার অভিযোগ নতুন কিছু নয়৷ পরপর এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইজিএম হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে রোগী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস পাচ্ছে৷ ঘটনার বিবরণে জানা যায় আইজিএম হাসপাতালে রেখা চক্রবর্তী নামে এক প্রসূতি মাকে ভর্তি করানো হয়৷ প্রসব বেদনায় কাতর ওই মা হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিৎকার-চেচামেচি করলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা দায়িত্ববোধের পরিচয় দেননি বলে অভিযোগ রোগীর পরিবারের লোকজনদের৷ রোগীদের পরিবারের লোকজনদেরকে জানানো হয় প্রিম্যাচিউরড রয়েছে শিশুটি৷
প্রসব বেদনায় প্রসূতি মা যখন চিৎকার করছিলেন তখন কর্তব্যরত নার্স একই ইনজেকশন পোস্ট করেন আর তাতেই ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনে বলে অভিযোগ৷ রোগিণীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটতে থাকলেও চিকিৎসক এবং নার্স রোগীর পরিবারের সবাইকে গেট থেকে বের করে দেন৷ গেইটে কর্তব্যরত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদেরকে রোগীর পরিবারের লোকজনরা বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেননি৷ রোগীর পরিবারের লোকজন কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তারা রোগিনীকে হাসপাতাল থেকে নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে চান৷ সেজন্য চিকিৎসক এবং নার্সের সঙ্গে তারা কথা বলতে চান কিন্তু নিরাপত্তাকর্মী তাদেরকে ভিতরে ঢুকতে দেয়নি৷ এরই মধ্যে প্রসূতি বিভাগ থেকে ডাক পড়ে রোগীর পরিবারের একজনকে ভেতরে যাওয়ার জন্য৷
সদ্যোজাত শিশু প্রসব হলেও সেটি মৃত বলে জানানো হয়৷ এই খবর জানার পরই মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম রোগীর পরিবারের লোকজনদের৷ চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতিতেই সদ্যজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন৷ এ ব্যাপারে পশ্চিম থানায় নার্স এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

