লালা (অসম), ১২ জুন (হি.স.) : শিবমন্দিরে শিবমূর্তি ভাংচুর, প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতার সড়ক অবরোধ, যানবাহন চলাচলে বাধা, পুলিশের লাঠিচার্জ, জখম বহু প্রতিবাদী ইত্যাদি বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হাইলাকান্দির সিঙ্গালা চা বাগান এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা এলাকায় পুলিশ ব্যাটালিয়নের জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দুষ্কৃতীরা লালা রাজস্ব চক্রের অধীন সিঙ্গালা চা বাগান এলাকার এক শিবমন্দিরে ভাংচুর চালায়। এতে শিবের মূর্তি সহ মন্দিরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। শুক্রবার সকালে বিষয়টি স্থানীয় জনগণের দৃষ্টিগোচর হতেই দাবানলের মতো খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের প্রতিনিধি সহ চা বাগান এলাকার শ্রমিক, সাধারণ জনতা হাজির হয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। প্রতিবাদী জনতা একসময় সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন গড়ে তুলেন।
লালা থানার ওসি লিটন নাথের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন৷ সেই সঙ্গে জেলা সদর থেকে আসেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুলেন্দ্রনাথ ডেকা বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। মোতায়েন করা হয় সিআরপিএফ। এর পর বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতা সহ স্থানীয় মানুষ রাস্তা অবরোধ করে দোষীর শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এই প্রতিবাদী আন্দোলনে যোগ দেন বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরঙ্গ দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, হিন্দুরক্ষী দলের নেতা সহ আরএসএস-এর স্বয়ংসেবকরা।
এক সময় রাস্তা অবরোধকারীদের সঙ্গে এক গাড়ি চালকের সঙ্গে সমস্যা বাঁধলে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। আর তখনই পুলিশ এবং সিআরপিএফ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠির আঘাতে কম করেও আঠারো জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অসুস্থ ব্যক্তিও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তারক্ষী মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শিব ভক্তদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এভাবে লাঠি চার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনগুলির নেতারা। হিন্দুবাদী নেতা বিক্রমাজিৎ ভট্টাচার্জ, মনোজ দেব, দীপ দেবরায়, বিষ্ণু ভট্টাচার্য, পৃথ্বীরাজ দাস, শিব মন্দির পরিচালন কমিটির সম্পাদক মনোজ কুমার দাস, রণোজয় নাথ, প্রাণতোষ নাথ, কিরণ কুমার তেলি, চৌধুরী চরণগৌড়, মিষ্টু নাথ প্রমুখ লাঠি চার্জর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পুলিশ মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে কেন ভক্তদের পেটালো এ নিযে প্রশ্ন তুলেছেন হিন্দু সংগঠনের নেতারা।
অবশ্য পুলিশের সাহায্যে আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে লালার সার্কল অফিসার অর্পিতা দত্তমজুমদার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। এদিনের লাঠিচার্জের ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জের বিকল্প ছিল না।

