গুয়াহাটি, ১৪ মে (হি.স.) : নয়াদিল্লি থেকে ০২৪২৪ নম্বরের রাজধানী এক্সপ্রেস (বিশেষ ট্রেন) অসমে এসে পৌঁছেছে। মোট ৮৮১ জন যাত্রী নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪:৪৫ মিনিটে দিল্লি রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়েছিল বিশেষ ট্রেনটি। ট্রেনটি কানপুর সেন্ট্ৰেল, প্ৰয়াগরাজ জংশন, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন, দানাপুর, বারাউনি জংশন, কাটিহার জংশন, নিউ জলপাইগুড়ি, কোকরাঝাড়, গুয়াহাটি, লামডিং জংশন, ডিমাপুর, মরিয়নি এবং শেষ গন্তব্যস্থল ডিব্ৰুগড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭.৩০ মিনিটে গিয়ে পৌঁছেছে।
অসমের বিভিন্ন জেলার ৮৮৯ জন যাত্ৰী দিল্লি থেকে উঠেছিলেন। বুধবার বিকেলে বেশ কয়েকজন যাত্রী নেমেছিলেন কোকরাঝাড়ে। এদিন রাত প্রায় ১২টা নাগাদ এসে পৌঁছে গুয়াহাটি। গুয়াহাটি রেলস্টেশনে ১৩০ জন আগত যাত্রীকে বরণ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তাঁর সামনেই সব যাত্রীর প্রথামিক স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্টেশনে মন্ত্রী ছাড়াও অন্যদের সঙ্গে ছিলেন সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসন এবং ডাক্তার সহ স্বাস্থ্য দফতরের বিভিন্ন স্তরের আধকারিকরা। এখান থেকে সকল যাত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় সরুসজাই স্টেডিয়ামের অস্থায়ী নিভৃতবাসে। সরুসজাইয়ে তাঁদের স্বাস্থ্যবিধির পাঠ দিয়েছেন মন্ত্রী নিজে।
গুয়াহাটি থেকে ট্রেন ছেড়ে লামডিং জংশনে গিয়ে পৌঁছে রাত ২.১০ মিনিটে৷ লামডিঙে নামেন মোট ৪৪ জন যাত্ৰী৷ তাঁদের মধ্যে লামডিঙে ১৬, হোজাই জেলার ৮, কারবি আংলঙে ৬, ডিমা হাসাওয়ের ৭, বিশ্বনাথ চারিআলির ৫ এবং মোরাঝাড়ের ১ জন যাত্ৰী ছিলেন। লামডিঙের বিধায়ক শিবু মিশ্র, হোজাইয়ের অতিরিক্ত জেলাশাসক, হোজাইয়ের পুলিশ সুপার, ডিএসপি সদর, রেল পুলিশের আধিকারিক ও জওয়ান, রেলওয়ের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক কর্মাচারী এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক ও ডাক্তাররা উপস্থিত ছিলেন৷ স্টেশনেই তাঁদের স্ক্রিনিং করে নিজ নিজ জেলায় পাঠিয়েছে প্ৰশাসন৷ নিজেদের গৃহজেলায় তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
ট্রেন তার সর্বশেষ গন্তব্যস্থল ডিব্রুগড়ে যাওয়ার আগে ভোর পাঁচটায় গিয়ে পৌঁছে মরিয়নি স্টেশনে। সেখানে বিধায়ক রূপজ্যোতি কুর্মি ৩৭ জন যাত্রীকে স্বাগত জানান। স্টেশনে এই সকল যাত্রীর স্ক্রিনিং করে নিয়ে যাওয়া হয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।
অবশেশে সকাল ৭.৩০ মিনিটে ৪৪২ জন যাত্রী নিয়ে ডিব্ৰুগড় স্টেশনে গিয়ে পৌঁছে বিশেষ ট্রিনটি। এঁদের মধ্যে কয়েকজন পার্শ্ববর্তী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশেরও আছেন। তাঁদের সকলকেই স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্টেশনে এই সব যাত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই মন্ত্রী সঞ্জয় কিষাণ ও যোগেন মহন এবং বিধায়ক সুরেন ফুকন ফুকন, জেলাশাসক ভাস্কর পেগু, পুলিশ সুপার শিলাদিত্য চেতিয়া সহ স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকবর্গ।
দিল্লি থেকে ডিব্রুগড়ে আগতদেরে মধ্যে তিনসুকিয়া জেলার ৮৩ জন যাত্ৰীকে চারটি বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনসুকিয়ার বড়গুড়িতে সাই হস্টেলে তৈরি অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হস্টেলে প্রবেশের আগে আবার তাঁদের সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে৷
গুয়াহাটিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বহিঃরাজ্য থেকে অসমে যতজন এসেছেন তাঁদের সকলের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষায় যাঁদের নেগেটিভ আসবে তাঁদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন থেকে ছুটি দেওয়া হবে। তবে বাড়িতে গিয়ে কিন্তু তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি আনুযায়ী হোম কেয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন থাকতে হবে।

