গরিবদের জন্য বিনামূল্যের চাল বণ্টনে দুৰ্নীতি হলে রক্ষে নেই, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে জেলাশাসকদের নিৰ্দেশ মুখ্যমন্ত্ৰীর

গুয়াহাটি, ২১ এপ্ৰিল (হি.স.) : লকডাউনের কবলে পড়ে রাজ্যের সাধারণ গরিব জনতা বিপাকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার দরিদ্ৰ শ্ৰেণির মানুষজনের জন্য বিনামূল্যে সামগ্ৰী বরাদ্দ করেছে। কিন্তু এই সব বিনামূল্যের সামগ্ৰী বিতরণে দুৰ্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গরিবদের জন্য প্ৰদত্ত সামগ্ৰী নিয়ে যারা দুৰ্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে কড়া নিৰ্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। মঙ্গলবার কামরূপ মহানগর জেলায় কোভিড-১৯ সংক্ৰমণ প্ৰতিরোধে জেলা প্ৰশাসন গৃহীত ব্যবস্থাবলী পৰ্যালোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্ৰী ফের এই নিৰ্দেশ দিয়েছেন।

আজ গুয়াহাটিতে কামরূপ মহানগর জেলাশাসকের কাৰ্যালয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাজ্যের মানুষ লকডাউনের নিয়ম সঠিকভাবে পালন করছেন কিনা এবং যে সব ক্ষেত্ৰে সামান্য শিথিলতা আনা হয়েছে সেই সব ক্ষেত্ৰে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে কিনা তা সুনিশ্চিত করতে প্ৰত্যেক জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের বলেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার দায়িত্বপ্ৰাপ্ত মন্ত্ৰীর সঙ্গে তিন দিন অন্তর অন্তর বৈঠকে বসার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী।

গুয়াহাটি উন্নয়ন দফতরের মন্ত্ৰী সিদ্ধাৰ্থ ভট্টাচাৰ্য, তিন বিধায়ক যথাক্ৰমে অতুল বরা, রমেন্দ্ৰ নারায়ণ কলিতা ও বিমল বরাকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে কামরূপ মহানগরের জেলাশাসক বিশ্বজিৎ পেগু, গুয়াহাটি মহানগর পুলিশ কমিশনার মুন্না গুপ্তা, গুয়াহাটি পুর কমিশনার দেবজ্যোতি হাজরিকা প্ৰমুখ শীৰ্ষ আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, গরিবদের জন্য প্ৰদত্ত সামগ্ৰী নিয়ে যারা দুৰ্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে হবে। খাদ্যদ্ৰব্য সরবরাহ প্ৰক্ৰিয়ায় যাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে তার প্ৰতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের আধিকারিককে নিৰ্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বলেন, যে বা যারা অনিয়মে জড়িত হবেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে ইতিমধ্যে রাজ্যের সব জেলাশাসকদের নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্ৰী জানান, রেশন কাৰ্ড নেই এমন দরিদ্ৰ পরিবারের প্ৰত্যেককে পাঁচ কেজি করে চাল দেওয়ার কথাও ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে। এই চাল সঠিকভাবে বিতরণ না হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাৰ্কল অফিসাররা দায়ী থাকবেন বলে সতৰ্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। সঙ্গে তিনি জানান, এই চাল বিতরণের সময় পঞ্চায়েত প্ৰতিনিধি, গাঁওবুড়া (গ্ৰামপ্ৰধান) এবং বিধায়কদের জড়িত করতে হবে। প্ৰকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে সঠিকভাবে চালগুলি লাভ করেন তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্ৰী সনোয়াল বলেন, উত্তর-পূৰ্বাঞ্চলের প্ৰবেশদ্বার হিসেবে কামরূপ মহানগর জেলার এক গুরুত্বপূৰ্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই জেলার গৃহীত ভূমিকা রাজ্যের, উত্তর-পূৰ্বাঞ্চল তথা দেশের দৃষ্টি আকৰ্ষণ করে। বলেন, জেলার বিভিন্ন জায়গায় প্ৰশাসন আশ্ৰয়ের জন্য ব্যবস্থা করেছে। এই সব আশ্ৰস্থলে বহিঃরাজ্যের ১,২৩০ জন মানুষ রয়েছেন। তাঁরা যাতে কোনও অসুবিধার সম্মুখিন না হন তা-ও সুনিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্ৰী কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের জরিপ করতে কৃষি বিভাগের আধিকারিকদের নিৰ্দেশ দিয়েছেন। কেননা তিনি চান না কৃষকদের উৎপাদিত সামগ্ৰী বাজারের অভাবে নষ্ট হয়ে যাক। তাই উৎপাদিত ফসল সংগ্ৰহ করে সেগুলি বিক্ৰির ব্যবস্থা শিগগির করতে বলেছেন সৰ্বানন্দ।

এছাড়া গুয়াহাটি মহানগরের প্ৰত্যেক ওয়াৰ্ডে জনসচেতনতা গড়তে জেলা প্ৰশাসন এবং পৌর নিগমকে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্ৰহণের নিৰ্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল। গুয়াহাটিতে কৃত্ৰিম বন্যা রোধে প্ৰয়োজনীয় নিৰ্মাণ কাৰ্য শুরু করা যায় কিনা তা পৰ্যালোচনা করার কথা বলে এ ক্ষেত্ৰে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে।

প্ৰশাসনিক পৰ্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদের লকডাউনে রাজ্যের জনসাধারণের স্বাৰ্থে অসম সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূৰ্ণ পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেছে। কেন্দ্ৰীয় সরকারের নিৰ্দেশাবলির ভিত্তিতে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্ৰে কাজ শুরু হয়েছে। রমজান মাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বগৃহে নামাজ আদায় করতে ইসলাম ধৰ্মাবলম্বীদের প্ৰতি আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্ৰী।