নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ এপ্রিল৷৷ করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজ্যে শীগ্রই কমিউনিটি টেস্টিং শুরু হবে৷ আগামী ২১ এপ্রিল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে৷ এছাড়া উদয়পুর ও দামছড়ার সাতনালা যেখান থেকে দু’জন করোনা সংক্রমিত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে সেই জায়গার এক কিমি ব্যাসার্ধে বসবাসকারী ১০ শতাংশ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হবে৷ আজ সন্ধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ ত্রিপুরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়েছেন৷ সাথে তিনি যোগ করেন, গত দশদিনে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগও পরীক্ষার আওতায় আসবে৷ শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্তদের ইন্সেন্টিভ দেওয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে৷
এদিন তিনি বলেন, দু’জন করোনা সংক্রমিত রোগীর মধ্যে একজনকে গতকালই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে৷ তবে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে৷ অপর রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, এখন পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৮৬৫ জনের৷ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬২ জনের৷ এর মধ্যে ৭৬০ জনের নমুনা নেগেটিভ এসেছে৷
এদিকে, স্টেট সার্ভেইলেন্স অফিসার ডাঃ দ্বীপ দেববর্মা কমিউনিটি টেস্টিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২১ এপ্রিল থেকে ত্রিপুরার ৮টি জেলায় ২০০০টি নমুনা সংগ্রহ করা হবে৷ তাছাড়া উদয়পুর, সাতনালা এবং দামছড়ায় করোনা আক্রান্তের ১ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে ১০ মানুষের রেপিড এন্টিবডি টেস্ট করা হবে৷ তাঁর দাবি, ৮ জেলায় ২০০০ টি নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে জনসংখ্যায় প্রতি ২০০০ জনের একজনকে পরীক্ষা করা হবে৷ শিক্ষামন্ত্রী তাতে যোগ করেন, গত দশদিন ধরে যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন তাদেরকেও পরীক্ষার আওতায় আনা হবে৷
এদিন শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যারা যুক্ত সেই সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের তাদের স্কেল অনুসারে ইনসেনটিভ দেওয়ার বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছেন৷ তাই, তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ অন্যদিকে, ৭ জন চিকিৎসককে নিয়ে একটি টেকনিক্যাল এডভাইজারি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এই কমিটি প্রত্যেকটি জেলার চিকিৎসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন৷
এদিকে, রাজ্যে বর্তমানে মাস্ক বা চিকিৎসা কিটের কোনও সংকট নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ত্রিস্তরীয় মাস্ক রয়েছে ২ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৫৫টি৷ আরও ৫ হাজার মাস্ক আসছে৷ এন-৯৫ মাস্ক রয়েছে ৭ হাজার ৭৬১টি, গ্লাভস রয়েছে ৮ লক্ষ ৮১ হাজার ৩১৫টি৷ আরও ১ লক্ষ গ্লাভস আসছে৷ পাসর্োনাল প্রোটেকশন কিট রয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭টি৷ সেনিটাইজার পর্যাপ্ত রয়েছে বলে মী শ্রীনাথ জানান৷ প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানান, মাস্ক বিক্রিতে কেন্দ্রীয় সরকার দাম ধার্য করেছে৷ দ্বিস্তরীয় মাস্ক ৮ টাকা, ত্রিস্তরীয় মাস্ক ১০ টাকা এবং ৫০০ মিলি সেনিটাইজার ২৫০ টাকার বেশি বিক্রি করা যাবে না৷ বেশি দাম নিলে বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কড়া হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষামন্ত্রী৷

