১৪৪ ধারাকে হাতিয়ার করে পুলিশী বলপ্রয়োগে মাঝপথেই থেমে গেল ১০৩২৩ এর আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ মার্চ৷৷ রাজ্যের অ্যাডহক শিক্ষকদের গণ-অবস্থান থেকে তুলতে পুলিশের বল প্রয়োগ করতে হয়েছে৷ ১৪৪ ধারা সত্ত্বেও গণ-অবস্থান জারি রাখায় কয়েকজন অ্যাডহক শিক্ষককে আজ পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷ এরই প্রতিবাদে অ্যাডহক শিক্ষক সংগঠনের অন্য সদস্যরা পশ্চিম আগরতলা থানা ঘেরাও করেন৷ শুধু তা-ই নয়, খালি থালা হাতে তাঁরা প্রতিবাদও দেখান৷ শেষে গণ-অবস্থান আন্দোলন প্রত্যাহারের শর্তে পুলিশ আটক অ্যাডহক শিক্ষকদের মুক্তি দিয়েছে৷ সোমবারের ঘটনায় দীর্ঘ সময় আগরতলার পোস্ট অফিস চৌমুহনি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল৷
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা এদিন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন৷ সাথে তাঁরা আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷ এদিকে, অ্যাডহক শিক্ষকদের অপর একটি সংগঠন আমরা ১০৩২৩-কেও আজ লাগাতর গণ-অবস্থান করতে দেয়নি পুলিশ৷ তাঁরাও ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার প্রকাশ করেছেন৷


প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ মার্চ অ্যাডহক শিক্ষকরা স্থায়ীভাবে চাকরি হারাচ্ছেন৷ এদিকে, করোনা ভাইরাসের সতর্কতা হিসেবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সমস্ত সুকল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে৷ এছাড়া, বড় জমায়েত এড়ানোর জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে আগরতলায়৷ অ্যাডহক শিক্ষকরা চারদিন ধরে আগরতলায় প্যারাডাইস চৌমুহনিতে গণ-অবস্থান পালন করছেন৷ মূলত, চাকরির নিশ্চিয়তার দাবিতেই তাঁরা গণ-অবস্থানে বসেছেন এবং ওই আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল জারি থাকবে বলে ঘোষণা করেছিলেন৷
গতকাল সন্ধ্যায় আগরতলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ রাতেই তাঁদের গণ-অবস্থান প্রত্যাহারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু, তাঁরা পুলিশের অনুরোধ রাখেননি৷ ফলে, আজ সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের গ্রেফতার করে এবং তাদের পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়৷ পুলিশের এই অভিযানে ছিলেন পশ্চিম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরবান এবং ডিসিএম আশিস বিশ্বাস৷


পশ্চিমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরবান বলেন, অ্যাডহক শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য গতকাল রাত থেকেই অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ কিন্তু তাঁরা শুনেননি৷ তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া ওই শিক্ষকরা গণ-অবস্থান করছিলেন৷ তাছাড়া, এখন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ ফলে, এ ধরনের আন্দোলনের কোনওভাবেই অনুমতি দেওয়া যায় না৷ তাই, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কথায়, শিক্ষকদের গণ-অবস্থান মঞ্চও ভেঙে ফেলা হবে৷ সদর ডিসিএম-এর অনুমতিতে ওই গণ-অবস্থান মঞ্চ ভাঙবে পুলিশ৷ এদিন তিনি জানান, প্রায় ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷


সহকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন অ্যাডহক শিক্ষক সংগঠনের অন্য সদস্যরা৷ সংগঠনের সভাপতি বিমল সাহা বলেন, বলপূর্বক শিক্ষকদের গ্রেফতার করে আন্দোলন থামাতে পারবে না রাজ্য সরকার৷ তাঁর কটাক্ষ, করোনা ভাইরাসের অজুহাতে অ্যাডহক শিক্ষকদের আন্দোলন ভেস্তে দেওয়ার জন্যই সরকারের এই কৌশলি চাল৷ কিন্তু, কৌশল করে আন্দোলন থামানো যায় না৷ এখন আমরা আইন অমান্য আন্দোলনে নামব, সুর চড়িয়ে বলেন তিনি৷ তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে৷


শিক্ষক সংগঠনের অপর এক সদস্য বিজয় কৃষ্ণ বলেন, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাব শিক্ষকদের গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাই, আমরা আজ আইন অমান্য আন্দোলনে নামছি৷ তাঁর অভিযোগ, করোনা ভাইরাসের অজুহাতে সুকল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে দুরভিসন্ধি রয়েছে৷ শুধুমাত্র শিক্ষকদের আন্দোলন রোখার জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার৷ তাঁর দাবি, গ্রেফতার শিক্ষকদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে৷ তা না-হলে থানা ঘেরাও করব আমরা৷


এদিন অ্যাডহক শিক্ষকরা পশ্চিম আগরতলা থানা ঘেরাও করেন৷ সহকর্মীদের মুক্তির দাবিতে তাঁরা থানা চত্বরে রাস্তায় শুয়ে পড়েন৷ শুধু তা-ই নয়, খালি থালা হাতেও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তাঁরা৷ তাঁদের সাফ কথা, চাকরির সুনিশ্চয়তা দেওয়া না হলে আন্দোলন থামবে না৷


এদিকে, অ্যাডহক শিক্ষকদের থানা ঘেরাওয়ের ফলে পোস্ট অফিস চৌমুহনি এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়৷ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল৷ দীর্ঘক্ষণ থানা ঘেরাওয়ের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের শর্তে পুলিশ গ্রেফতার শিক্ষকদের মুক্তি দেয়৷ তবে, আলোচনাক্রমে খুব শীঘ্রই আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা, জানালেন বিমল সাহা৷


অন্যদিকে আজ থানা ঘেরাও চলাকালীন প্রচণ্ড গরমে কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ তাঁদের জিবি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে৷
এদিকে, প্যারাডাইস চৌমুহনিতে অ্যাডহক শিক্ষকদের অপর সংগঠনকে গণ-অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি৷ তাঁরা কিছুক্ষণ ভাষণ দিয়ে ফিরে যান৷ তবে, সমস্যা এখানেই সমাপ্ত হচ্ছে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই৷