নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ মার্চ৷৷ করোনা ভাইরাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১৪৪ ধারা লাগু করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ণ তুললেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ আজ আগরতলায় আইজিএম হাসপাতালে এডহক শিক্ষকদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়ার পর এ-বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি ত্রিপুরা সরকারকে সমালোচনায় বিঁধেছেন৷ এদিন পুলিশের সাথে ধবস্তাধবস্তিতে কয়েকজন এডহক শিক্ষক আহত এবং অসুস্থ হন৷ ১৪৪ ধারা লাগু হওয়ার ফলে পুলিশ আজ তাঁদের গণ অবস্থান থেকে তুলে দিয়েছে৷ মানিক সরকারের কথায়, করোনা ভাইরাসের সতর্কতা হিসেবে বড় জমায়েত এড়ানো উচিত৷ কিন্তু, ভারতের কোথাও ওই মহামারীর জন্য ১৪৪ ধারা স্থাপনের নজির নেই, বিদ্রুপ করে বলেন তিনি৷
এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, চাকুরীর নিশ্চিয়তার দাবিতে ৩ দিন ধরে এডহক শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন৷ কিন্তু আজ ১৪৪ ধারার অজুহাতে তাঁদের বলপূর্বক তুলে দিয়েছে পুলিশ৷ তাঁর কথায়, করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে মহামারী রূপ নিয়েছে৷ ফলে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা খুবই জরুরি৷ কিন্তু, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় দেশে অন্য কোন রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করার নজির নেই, বিদ্রুপ করে বলেন তিনি৷ তিনি ১৪৪ ধারা জারি করার যৌক্তিকতা এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ণ তুলেন৷
তিনি বলেন, আলোচনার পথে না গিয়ে বলপূর্বক আন্দোলনকারীদের তুলে দেওয়া উচিত হয়নি৷ কারণ, এডহক শিক্ষকরা মনে করছেন তাঁদের জীবন এখন সংশয়ে রয়েছে৷ তাঁর দাবি, শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের ডেকে আলোচনা করতে পারতেন৷ সমাধানের পথ খুঁজতেন৷ তাতে, এডহক শিক্ষকরা একমত নাও হতেন৷ তবুও, পুলিশ দিয়ে বলপূর্বক গণ অবস্থানকারীদের তুলে দেওয়ার বিষয়কে কোনভাবেই সমর্থন করা যায় না, বলেন তিনি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, এডহক শিক্ষকদের সাথে কথা না বলে বলপ্রয়োগ ক্ষমতার অপব্যবহার এবং চরম অমানবিক৷
তাঁর কথায়, একজনেরও চাকুরী যাক চাইনা৷ তাই, ক্ষমতায় থাকার সময় হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল৷ তাঁর দাবি, আমরা বরাবরই বলছি ১০৩২৩ শিক্ষকদের কাউকেই ভেসে যেতে দেব না৷ সেজন্যই শিক্ষা ও আইন দফতরের পদস্থ এবং অভিজ্ঞ আধিকারিকদের আলোচনার মাধ্যমে ১৩০০০ পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল৷ ওই পদে এডহক শিক্ষকরা ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন৷ তাতে, অনেকেই ওই পদে চাকুরী পেতেন৷ আজকের ঘটনার প্রয়োজন হতো না, আক্ষেপের সুরে বলেন বিরোধী দলনেতা৷
এদিন মানিক সরকার আইজিএম হাসপাতালে গিয়ে এডহক শিক্ষকদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন৷ আইজিএম হাসপাতাল সুপার এবং চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন৷ প্রয়োজনে বিলম্ব না করে উন্নত চিকিৎসার জন্য জি বি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন তিনি৷ তার সাথে ছিলেন বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী, বিধায়ক সহিদ চৌধুরী, বিধায়ক রতন ভৌমিক, বিধায়ক সুধন দাস প্রমুখ৷ এদিকে, প্রাক্তন সাংসদ শঙ্কর প্রসাদ দত্ত এবং প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল রায় আজ হাসপাতালে গিয়ে এডহক শিক্ষকদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন৷ তাঁরা দুজনেই ত্রিপুরা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন৷

