নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ মার্চ৷৷ করোনা ভাইরাস আতঙ্কে ত্রিপুরার দুটি সীমান্ত হাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শ্রীনগর এবং সিপাহিজলা জেলার কমলাসাগর সীমান্ত হাট আপাতত বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷
এ-বিষয়ে সিপাহিজলার জেলাশাসক সি কে জমাতিয়া জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সতর্কতা অবলম্বনে বড় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ সে-ক্ষেত্রে সীমান্তহাটগুলিতে মানুষের যথেষ্ট ভিড় লক্ষ্য করা যায়৷ তাই সেখানেও সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে৷
তিনি বলেন, আগামী রবিবার কমলাসাগর সীমান্ত হাটে হাটবারের সূচি রয়েছে৷ তাই ওইদিন সীমান্ত হাট বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকেও ই-মেলে জানিয়ে দেওয়া হবে৷ তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সতর্কতার জন্য বেশ কিছু দিন ধরেই সীমান্ত হাটে যাঁরা যাচ্ছেন তাঁদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ এ-বিষয়ে সতর্কতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে৷ কিন্তু এখন ত্রিপুরা সরকার সীমান্ত হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তাই নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি৷
এদিকে, দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শ্রীনগর সীমান্ত হাটও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ আগামী সোমবার শ্রীনগর সীমান্ত হাটে হাটবারের সূচি থাকলেও ওইদিন বন্ধ থাকবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে৷ এ-বিষয়ে বাংলাদেশের আধিকারিকদের সাথে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ বৈঠকে সীমান্ত হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ সরকার৷ এতে পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সীমান্ত হাট৷
করোনা ভাইরাসের দরুন সীমান্ত হাটের ব্যবসায়ীরা প্রচুর লোকসানের মুখোমুখি হবেন৷ কারণ, প্রতি হাটবারে প্রচুর বেচা-কেনা হয় সীমান্ত হাটে৷ বিশেষ করে ভারতীয় সামগ্রীর প্রচুর চাহিদা থাকায় বিক্রির পরিমাণও অনেক বেশি৷ কিন্তু এখন সীমান্ত হাট বন্ধের সিদ্ধান্তে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখ দেখতে হবে৷ ইতিমধ্যে গত ১০ মার্চ শ্রীনগর সীমান্ত হাট বন্ধ রাখা হয়েছিল৷

