করোনাতংক : অসমে এমভি মহাবাহু নামের জাহাজের ২৯ জন কৰ্মচারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ

গুয়াহাটি / মাজুলি, ৭ মার্চ (হি.স.) : বিশ্বত্ৰাস করোনা ভাইরাসের আতংক ছড়িয়েছে অসমেও। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য দফতর গড়ে তুলেছে ব্যাপক সজাগতা। আমেরিকা থেকে আগত জনৈক পৰ্যটক অসম ভ্ৰমণ করে ভুটানে গিয়েছিলেন। অসম থেকে সেখানে যাওয়ার পর তাঁর শরীরে করোনা পজিটিভের অবস্থান ধরা পড়েছে। এই খবর অসমে আছড়ে পড়লে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করেছে অসমের স্বাস্থ্য দফতর।

আমেরিকার পৰ্যটকটি অসমের কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কোথায় অবস্থান করেছেন, সেই সব প্ৰতিটি অঞ্চল, হোটেলের সর্বত্র সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যে এমভি মহাবাহু জাহাজে করে পৰ্যটকটি মাজুলি থেকে গুয়াহাটি আসছিলেন, সেই জাহাজকে যোরহাটের কমলাবাড়িঘাটে আটেকে দেওয়া হয়। জাহাজে ২২ জন পৰ্যটক সহ মোট ২৯ জন কর্মচারী রয়েছেন। পর্যটক সহ জাহাজকে যোরহাটের কমলাবাড়িঘাট থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে মাজুলির নিমাতিঘাটে। নিমাতিঘাটেই জাহাজের ২৯ জন কৰ্মচারী ও পৰ্যটকদের পর্যবেক্ষণে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে নভেল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মাজুলি জেলা প্ৰশাসন হাই এলাৰ্ট ঘোষণা করেছে। আমেরিকার জনৈক পৰ্যটক করোনায় আক্ৰান্ত হওয়ার পর গোটা মাজুলি জেলায় হাই এলাৰ্ট জারি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ফেব্ৰুয়ারি ওয়াশংটন থেকে লন্ডন হয়ে মুম্বাই এসেছিলেন ওই পর্যটক। ২১ ফেব্ৰুয়ারি মুম্বাই থেকে কলকাতায়। ২২ ফেব্ৰুয়ারি সকালের ইন্ডিগো বিমানে উজান অসমের যোরহাটে এসেছিলেন তিনি। ২৩ ফেব্ৰুয়ারি থেকে এমভি মহাবাহুতে শুরু করেছিলেন রিভার ক্ৰুইজ। তিনি ওই জাহাজের একটি বিলাসী কক্ষে ব্ৰহ্মপুত্ৰের বুকে সাত রাত কাটিয়েছিলেন। ওই সময়কালে মাজুলি ভ্ৰমণ করে মাজুলির সংস্কৃতি উপভোগ করেছিলেন আমেরিকার পৰ্যটক। তবে মাজুলিতে এক রাতও কাটাননি, রাত কাটিয়েছেন জাহাজ এমভি মহাবাহুতে। জাহাজের যে কোঠায় তিনি ছিলেন, সেই কোঠাকে ইতমধ্যে পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার মাজুলি জেলা প্ৰশাসন জেলা স্বাস্থ্য দফতর, পৰ্যটন দফতর এবং জেলার হোটেল-লজ-অতিথিশালাগুলির স্বত্বধিকারীদের নিয়ে এক জরুরি  বৈঠক করেছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) নরেন দাসের পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মাজুলিতে আগত প্ৰত্যেক বিদেশি পৰ্যটকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাজুলিতে পদাৰ্পণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি পৰ্যটন আধিকরিকদেরও নিৰ্দেশনা জারি করেছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক দাস। এছাড়া হোটেল-লজ-অতিথিশালার সকল আবাসিকদের ‘মাস্ক’ সরবরাহ করতেও স্বাস্থ্য আধিকারিককে নির্দেশ দিয়েছেন নরেন দাস।

বৈঠকে অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) নরেন দাস ছাড়াও অন্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক অতিরিক্ত জেলাশাসক পলাশরঞ্জন আহোম, সহকারী কমিশনার হিমাদ্ৰী বরা-সহ স্বাস্থ্য বিভাগে শীৰ্ষ আধিকারিক ও চিকিৎসকবর্গ।