মেঘালয়ে আবদ্ধ আরও ৪৭০ শ্রমিককে অসম পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে প্রতিবেশী রাজ্যের প্রশাসন

গুয়াহাটি, ৭ মার্চ (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়ালের সরাসরি হস্তক্ষেপে মেঘালয়ে গত সাতদিন ধরে আবদ্ধ অসমের আরও ৪৭০ জন বাঙালি শ্রমিককে অক্ষত অবস্থায় রাজ্যে পাঠিয়েছে প্রতিবেশী রাজ্যটির সরকার। এঁরা খাসি ছাত্র ইউনিয়নের ভয়ে মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গলে, বনবাঁদারে আত্মগোপন করেছিলেন। গত সাতদিন ধরে অনাহারে চরম বিপত্তির মধ্যে ছিলেন তাঁরা।

শনিবার বেশ কয়েকটি বাস ও ট্রাকে করে তাঁদের অসমের আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এলাকায় জোড়াবাট থানার হাতে তুলে দিয়েছে মেঘালয় প্রশাসন। হস্তান্তরের সময় অসমের কয়েকজন শীর্ষ সাধারণ ও অসম পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা শাখার আইজিপি দীপক কুমার কেডিয়া-সহ অন্য বেশ কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ অফিসার।। ছিলেন ভারতীয় জনতা পাৰ্টির অসম প্ৰদেশ সংখ্যালঘু মোৰ্চা সভাপতি মুক্তার হুসেন খান-সহ বেশ কয়েকজন নেতা।

এর আগে গত ৫ মার্চ মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া ২৭৯ জন শ্রমিককে পাঁচটি ট্রাকে করে স্পেশাল এসকোর্ট দিয়ে আন্তঃরাজ্য সীমান্তবর্তী জোড়াবাটে অসমের ফাঁড়ি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে মেঘালয় পুলিশ। আজকের মতো তাঁরাও মধ্য অসমের কামরূপ, নিম্ন অসমের ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বরপেটা, কোকরাঝাড়-সহ অন্য কয়েকটি জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

গতদিনের মতো আজও রাজ্য পুলিশের সহায়তায় ৪৭০ জন শ্রমিককে তাঁদের নিজের নিজের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মেঘালয়ের পূর্ব খাসিপাহাড়ের শেলা বিধানসভা এলাকার সোহরা (চেরাপুঞ্জি)-য় খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ) এবং অউপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিকেল প্রায় চারটা নাগাদ প্রচণ্ড সংঘর্ষের পরিণতিতে এক জনজাতি যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাত দশটা থেকে দফায় দফায় রাজ্যের গৃহ দফতরের নির্দেশে পূর্ব খাসিপাহাড়ের জেলাশাসক এম ওয়ার নংব্রি শিলং-সহ গোটা জেলা এবং সোহরা মহকুমায় কারফিউ জারি করেছিলেন। ঘটনার পরেরদিন সকালে বড়বাজারে কয়েকটি ছুরিকাঘাত ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে এক অজনজাতি ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এদিকে গতকাল রাত দশটা থেকে আজ শনিবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত মেঘালয়ের স্পর্শকাতর এলাকায় কারফিউ বলবৎ করা হয়েছিল। শনিবারও গোটা দিন কারফিউ শিথিল করে রাতের দিকে ফের বলবৎ করা হবে কারফিউ।

ঘটনার দিন ইস্ট খাসিপাহাড়ের পুলিশ সুপার ক্লাউডিয়া লিংগোয়ার কাছে জানা গিয়েছিল, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (সিএএ)-এর বিরোধিতা এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) বলবতের দাবি প্ৰসঙ্গে ওইদিন বিকেল তিনটেয় ইস্ট খাসিপাহাড় জেলার অন্তর্গত শেলার সোহরা মহকুমার ইছামতি গ্রামে কেএসইউ এক সভার আয়োজন করেছিল। সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কয়েকজন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অজনজাতিভুক্ত যুবক। সভা শেষে অজনজাতি জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় সন্দেহভাজন কেএসইউ-এর সদস্যরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদ ক্রমে সংঘর্ষের রূপ নেয়। ওই সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং খাসি যুবক আহত হন। আহতদের নিয়ে ভরতি করা হয় সোহরা সিভিল হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে আহত লোকাল ট্যাক্সির ড্রাইভার খাসি জনগোষ্ঠীর জনৈক লুরসাই নিউতা (৩৫)-র মৃত্যু হয়। তার বাড়ি সোহরার একটি গ্রামে। ওই গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে করে মেঘালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে হিংসা ছড়িয়েছে।