মেঘালয়ে গোষ্ঠী সংঘৰ্ষ, হত খাসি যুবক, চরম উত্তেজনা, কারফিউ শিলং ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়, বন্ধ ইন্টারনেট

শিলং, ২৯ ফেব্রয়ারি (হি.স.) : মেঘালয়ের পূর্ব খাসিপাহাড়ের শেলা বিধানসভা এলাকার সোহরা (চেরাপুঞ্জি)-য় খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (কেএসইউ) এবং অউপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রচণ্ড সংঘর্ষের পরিণতিতে এক জনজাতি যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল রাত দশটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত রাজ্যের গৃহ দফতরের নির্দেশে পূর্ব খাসিপাহাড়ের জেলাশাসক এম ওয়ার নংব্রি শিলং-সহ গোটা জেলা এবং সোহরা মহকুমায় বেলা একটা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছিলেন। কিন্তু আজ সকালে বড়বাজারে কয়েকটি ছুরিকাঘাত ও মারপিটের ঘটনা ঘটলে বেলা প্রায় ১২টা নাগাদ ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।

এদিকে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা। ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ দিয়ে অভিযুক্তদের শীঘ্র গ্রেফতার করতে রাজ্য পুলিশকে যৌথভাবে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী সাংমা এবং গৃহমন্ত্রী লাহকমেন রিমবুই।

আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল। যথারীতি দোকানপাট খুলেছিল বড়বাজার, পুলিশবাজার, রিনজা ইত্যাদি এলাকায়। মানুষজনও বেরিয়েছিলেন। কিন্তু বেলা প্রায় দশটা নাগাদ বড়বাজারে দোকানপাট ও অজনজাতি মানুষের ওপর হামলা চালায় কতিপয়। সঙ্গে সঙ্গে জেলাশাসক এম ওয়ার নংব্রি শিলং ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আবার কারফিউ জারি করেন। এছাড়া পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত গতকাল রাত থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য ছয় জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে মেঘালয় পুলিশের সদর দফতর থেকে হিংসা না ছড়াতে, যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস না করে সর্বতোপ্রকারে শান্তি-সম্প্ৰীতি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।।

ইস্ট খাসিপাহাড়ের পুলিশ সুপার ক্লাউডিয়া লিংগোয়ার কাছে জানা গেছে, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (সিএএ)-এর বিরোধিতা এবং ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) বলবতের দাবি প্ৰসঙ্গে শুক্রবার বিকেল তিনটেয় ইস্ট খাসিপাহাড় জেলার অন্তর্গত শেলার সোহরা মহকুমার ইছামতি গ্রামে কেএসইউ এক সভার আয়োজন করেছিল। সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কয়েকজন অজনজাতিভুক্ত যুবক (সন্দেহভাজন বাংলাদেশি)। সভায় অজ্ঞাত কোনও বিষয় নিয়ে অজনজাতি যুবকদের বিবাদ সৃষ্টি হয়। বিবাদ ক্রমে সংঘর্ষের রূপ নেয়। ওই সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশকর্মী এবং খাসি যুবক আহত হন। আহতদের নিয়ে ভরতি করা হয় সোহরা সিভিল হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে আহত লোকাল ট্যাক্সির ড্রাইভার জনৈক লুরসাই নিউতা (৩৫)-র মৃত্যু হয়। তার বাড়ি সোহরার একটি গ্রামে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে করে মেঘালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে হিংসা ছড়িয়েছে। গতকাল বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সোহরার বিভিন্ন গ্রামে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুর চালানো হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি গাড়িতে।

এদিকে যে ছয় জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে সেগুলো যথাক্রমে পূর্ব খাসিপাহাড়, পূর্ব জয়ন্তিয়াপাহাড়, পশ্চিম জয়ন্তিয়াপাহাড়, রি-ভই, পশ্চিম খাসাপাহাড় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম খাসিপাহাড়।