নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি৷৷ কাঞ্চনপুরে আগামীকাল থেকে সকাল-সন্ধ্যা অনির্দিষ্টকালের বনধ প্রত্যাহার করেছে নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বে যৌথ মঞ্চ৷ আজ জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের দফায় দফায় বৈঠকের পর দাবি পূরণের শর্তে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বনধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যৌথ মঞ্চ৷
এ-বিষয়ে নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি রঞ্জিত নাথ জানান, আজ সকাল থেকে উত্তর ত্রিপুরা জেলা ও কাঞ্চনপুর মহকুমা প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে৷ তিনি বলেন, উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসক রেভেল হেমেন্দ্র কুমার এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তীর সাথে জেলা শাসক কার্য্যালয়ে যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধি দলের দীর্ঘ বৈঠক কার্যত নিস্ফলা ছিল৷ তাঁর কথায়, আনন্দবাজার থানায় আশ্রিত বাঙালি উদ্বাস্তুদের রেশন সামগ্রী প্রদানে সম্মত হয়েছিল জেলা প্রশাসন৷ কিন্তু বাকি দাবিগুলি নিয়ে স্পষ্ট কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বনধের কর্মসূচি থেকে আমরা পিছিয়ে আসেনি৷
তিনি জানান, পরবর্তী সময়ে কাঞ্চনপুর মহকুমা শাসক চাঁদনী চন্দন বাঙালি উদ্বাস্তুদের সাথে দেখা করে তাদের সব রকম সহায়তার আশ্বাস দেন এবং আজ রাত থেকেই রেশন চালু করার সিদ্ধান্ত জানান৷ রঞ্জিতবাবু বলেন, বিকেলে জেলা শাসক ও মহকুমা শাসকের সাথে পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত আমাদের৷ ওই বৈঠকে জেলা শাসক আশ্বাস দেন, রিয়াং শরণার্থীদের কাঞ্চনপুর মহকুমার বাইরে পুনর্বাসন এবং বাঙালি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি বিবেচনা করা হবে৷ তাছাড়া আজ রাট থেকেই আনন্দবাজার থানায় আশ্রিত বাঙালি উদ্বাস্তুদের রেশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন উত্তর ত্রিপুরা জেলা শাসক৷ তাই, সমস্ত দাবি পূরণে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বনধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা, বলেন রঞ্জিত নাথ৷ তাঁর সাফ কথা, ৭ দিনের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বনধের পথে হাঁটব আমরা৷
প্রসঙ্গত, বাঙালি উদ্বাস্তুদের প্রতি ত্রিপুরা সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ এনে আগামীকাল থেকে কাঞ্চনপুর মহকুমায় সকাল-সন্ধ্যা অনির্দিষ্টকালের বনধের ডাক দিয়েছিল নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বে গঠিত সংযুক্ত কমিটি৷ মিজো কনভেনশন, ওয়াইএমএ, ওয়াইএমএজেড, এমসিওয়াইডব্লিও, নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ এবং যুব নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ, এই ছয়টি সংগঠন একত্রিত হয়ে সংযুক্ত কমিটি গঠন করে ওই বনধ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা৷
এদিকে, রাজধানী আগরতলার শিবনগর কলেজরোড স্থিত আমরা বাঙালীর রাজ্য কার্য্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়৷ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমরা বাঙালীর রাজ্য সম্পাদক গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল জানান কাঞ্চনপুরে ৯৩টি বাঙালী পরিবার সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় বাস্তুচ্যুত হয়ে আড়াই মাস ধরে থানা চত্বরে অবস্থান করছে৷
সরকার রিয়াং শরনার্থীদের জন্য প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এই ৯৩টি বাঙালী পরিবারের জন্য কোন কিছুই করছে না৷ এমনকি ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ন্যুনতম ত্রাণ সামগ্রীও বন্ধ করে দিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে চাপ সৃষ্টি করছে৷ কিন্তু নিরাপত্তাহীনতায় তারা বাড়িতে যেতে পারছে না৷ আমরা বাঙালী দল দাবি করছে তাদের পুনরায় ত্রাণের ব্যবস্থা করা সহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষতি পূরণ দিয়ে তাদের বাড়িতে যাওয়ায় ব্যবস্থা করতে হবে৷

