কাল থেকে কাঞ্চনপুর মহকুমায় সকাল-সন্ধ্যা অনির্দিষ্টকালের বন্ধের ডাক সংযুক্ত কমিটির

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ ফেব্রুয়ারি৷৷ বাঙালি উদ্বাস্তুদের প্রতি ত্রিপুরা সরকারের বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ এনে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে কাঞ্চনপুর মহকুমায় সকাল-সন্ধ্যা অনির্দিষ্টকালের বনধের ডাক দিয়েছে নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চের নেতৃত্বে গঠিত সংযুক্ত কমিটি৷ আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়েছেন মঞ্চের সভাপতি রঞ্জিত নাথ৷


তিনি বলেন, ছয়টি সংগঠন মিলে সংযুক্ত কমিটি একত্রিত হয়ে ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে ঝাঁপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ তাঁর দাবি, মিজো কনভেনশন, ওয়াইএমএ, ওয়াইএমএজেড, এমসিওয়াইডব্লিও, নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ এবং যুব নাগরিক সুরক্ষা মঞ্চ এই ছয়টি সংগঠন একত্রিত হয়ে সংযুক্ত কমিটি গঠন করেছি৷ ওই কমিটির ব্যানারে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সকাল-সন্ধ্যা অনির্দিষ্টকালের বনধ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷


তাঁর কথায়, ত্রিপুরা সরকার রিয়াং শরণার্থীদের জন্য ঢালাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে৷ অথচ, হিংসার স্বীকার বাঙালি উদ্বাস্তুদের সহযোগিতার বদলে তাদের রেশন বন্ধ করে দিয়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরা সরকার বাঙালি উদ্বাস্তুদের সাথে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে৷ তাই, দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের বনধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে৷ তাঁর দাবি, রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে প্রত্যাবর্তন, তা নাহলে তাদের কাঞ্চনপুর মহকুমা ছাড়া অন্যত্র পুনর্বাসন দেওয়া হোক৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ২০০০ সলথেকে উদ্বস্তুর মতো জীবনযাপন করছেন বাঙালিদের ক্ষতিপূরণ সহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুক ত্রিপুরা সরকার৷ শুধু তাই নয়, হিংসার স্বীকার আনন্দবাজার থানায় আশ্রিত বাঙালি উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন না দেওয়া পর্যন্ত রেশন ও আর্থিক সাহায্য পুনরায় চালু করা হোক৷


তিনি বলেন, ওই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সমগ্র কাঞ্চনপুর মহকুমায় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের বনধ পালন করা হবে৷ তাঁর হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বনধের সিদ্ধান্ত থেকে পিছপা হব না আমরা৷