নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ ডিসেম্বর৷৷ সাতসকালে বস্তাবন্দি এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ ওই ঘটনায় মৃত কিশোরের এক বন্ধুকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ তাকে জেরা করেই মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ৷

গত ২১ ডিসেম্বর বন্ধুদের সাথে টাকারজলায় ট্রিং উৎসব দেখতে গিয়েছিল বিশ্রামগঞ্জ আদিবাসী কলোনির বাসিন্দা সঞ্জীব দেববর্মার ছেলে অনিকেত দেববর্মা(১৭)৷ আজ দক্ষিণ চড়িলাম রেল ব্রিজের নিচে নালা থেকে তার বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, বন্ধুদের সাথে ট্রিং উৎসবে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি অনিকেত দেববর্মা৷ তার বাবা গত ২৪ ডিসেম্বর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন৷ তদন্তে নেমে এলাকাবাসীর সন্দেহে ভিত্তিতে তার বন্ধু সুমন দেববর্মাকে আটক করা হয়েছিল৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মৃতদেহের হদিস মিলেছে, জানিয়েছে পুলিশ৷
এদিকে ধৃত সুমনের বক্তব্য, ২১ ডিসেম্বর টাকারজলায় ট্রিং উৎসব থেকে ফেরার সময় অনিকেতের সুকটিতে একটি মেয়ে উঠেছিল৷ তাকে বিশ্রামগঞ্জ নামিয়ে দেয় অনিকেত৷ তারপর আমরা সবাই মাইল সুতারমুড়া ৫০ পরিবার এলাকায় মেলায় গিয়েছিলাম৷ সেখান ফেরার সময় অনিকেত অসুস্থতা অনুভব করছিল৷ তাই, তাকে বাসতলি জাঙ্গালিয়ায় নিজ বাড়িতে রেখে বেরিয়ে যাই আমরা, দাবি সুমনের৷ তার আরও দাবি, ২২ ডিসেম্বর গভীর রাতে অনিকেতের মৃত্যু হয়৷ তাই ভয়ে তার দেহ বস্তাবন্দি করে নালায় ফেলে দেই আমরা৷
পুলিশ অবশ্য, সুমনের বক্তব্য সম্পূর্ণ সত্য বলে এখনও মেনে নেয় নি৷ পুলিশের দাবি, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার এ-বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে৷ বর্তমানে সুমন থানার লকআপে রয়েছে৷
এদিকে, রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ণ জয়নগরের দশমীঘাট মহাবীর ক্লাব সংলগ্ণ এলাকার এক বৃদ্ধার জলে ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ শুক্রবার সকালে বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ মৃতার নাম সুনীতি আচার্য৷ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এই ঘটনা৷ পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দিনের মতোই বৃদ্ধা নাকি ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন৷ সকালে তাদেরই নিকট আত্মীয় ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান৷ তাতে সন্দেহ দেখা দেয়৷ ঘরে গিয়ে দেখা যায় বিছানায় লেপ কাঁথা সব পড়ে আছে, কিন্তু ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বিছানায় নেই৷ বৃদ্ধার ছেলের শ্বশুর এদিনও প্রতিদিনের মতো ফুল তুলতে গিয়ে বৃদ্ধার ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করতেই খোঁজাখুঁজি শুরু হয় বৃদ্ধার৷ তিনি প্রথম দেখতে পান মৃতদেহটি বাড়ির পাশের জলাশয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে৷ তখনই তারা প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করে বিষয়টি জানান৷ খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকেও৷
দমকল বাহিনী সেখান থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে৷ মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে৷ তবে, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে৷ কেন না, বৃদ্ধার পক্ষে ওই জলাশয়ে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়৷ ঘটনার সঠিক তদন্ত হলে আসল রহস্য অনায়াসে বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন অনেকেই৷ এ ব্যাপারে পুলিশ একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷
এদিকে, শুক্রবার সকালে কমলাসাগর ফিসারী অফিসে নাইট গার্ডের ফাঁসিতে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷ নিহত ব্যক্তির নাম মন্টু দে৷ বয়স আনুমানিক ৫০৷ জানা গিয়েছে, অন্যান্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার তিনি অফিসে গিয়েছিলেন৷ শুক্রবার সকালে অফিসের অন্যান্য কর্মীদের সাথে কথা বলে সে হঠাৎই একটি কক্ষে চলে যায়! দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও তিনি ওই ঘর থেকে বের হয়নি৷ পরে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে দেখা যায় মন্টুর ঝুলন্ত লাশ৷

