নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ অক্টোবর৷৷ সারা ত্রিপুরায় ২৪৫৯টি দূর্গা পূজা হবে৷ এই দুগর্োৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্বে ৯২৫০ জন পুলিশ ও টিএসআর মোতায়েন থাকবেন৷ এছাড়া ৮৯টি ওয়াচ টাওয়ার এবং ১১৯টি সিসিটিভি বসানো হবে৷ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক এ কে শুক্লা৷ তাঁর দাবি, দুগর্োৎসবকে আরও আনন্দমূখর করে তুলতে নিরাপত্তায় কোন ঘাটতি রাখা হবে না৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরায় আপাতত কোন ধরনের নাশকতামূলক গতিবিধির হুমকি নেই৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে তেমন কোন সতর্কতাও জারি করা হয়নি৷ তবুও, বাড়তি নিরাপত্তার আয়োজনও করা হয়েছে৷

এদিন তিনি জানান, ত্রিপুরায় এবছর ২৪৫৯টি দূর্গা পূজা এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত হয়েছে৷ তার মধ্যে শহর এলাকায় ৮৬৯টি এবং গ্রামীণ এলাকায় ১৫৯০টি দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে৷ তাঁর কথায়, আগরতলা এবং তৎসংলগ্ণ এলাকায় ৫০৩টি দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে, এর মধ্যে বাড়িঘরের পূজা রয়েছে ২০০টি৷
ডিজিপি এ কে শুক্লা বলেন, দুগর্োৎসবকে নির্বিঘ্নে এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, দূর্গা পূজায় নিরাপত্তায় ৯২৫০ জন পুলিশ ও টিএসআর মোতায়েন থাকবেন৷ তাঁদের মধ্যে ৫১৫০ জন টিএসআর এবং ৪১০০ জন পুলিশ কর্মী রয়েছেন৷ তাঁর দাবি, ওই নিরাপত্তা কর্মীরা দুগর্োৎসবে ত্রিপুরার আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করবেন৷
এদিন তিনি জানান, এই দুগর্োৎসবকে ঘিরে সারা ত্রিপুরায় ২০৮টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র খোলা হবে৷ তার মধ্যে আগরতলা শহরের জন্যই রয়েছে ৫২টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র৷ তিনি আরও জানান, সারা ত্রিপুরায় ৮৯টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে৷ তার মধ্যে আগরতলায় স্পর্শকাতর এলাকায় ২৯টি টাওয়ার্স বসানো হয়েছে৷ ডিজিপি জানিয়েছেন, সিসিটিভির মাধ্যমেও নজরদারি রাখা হবে৷ তাই, সারা ত্রিপুরায় ১১৯টি স্থানে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে৷ তার মধ্যে আগরতলা শহরের ৩৫টি গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে৷
ডিজিপি শ্রীশুক্লা জানিয়েছেন, এবছর রেলের তরফে প্রচুর নিরাপত্তা কর্মী পাওয়া যাবে৷ তাঁর অনুমান, পার্শবর্তী রাজ্য এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূজা দেখতে প্রচুর মানুষ আগরতলায় আসবেন৷ ফলে, তাঁদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত রেলওয়ে পুলিশ মোতায়েন থাকবে৷
এদিকে, বিএসএফ এবং সিআরপিএফ-র সাথেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি বৈঠক করেছেন বলে জানিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, বিএসএফ সীমান্ত নিরাপত্তা এবং টহলদারি আরও মজবুত করা হবে আশ্বাস দিয়েছে৷ সিআরপিএফও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নিশ্চিয়তা দিয়েছে৷ ডিজিপি-র কথায়, ত্রিপুরায় স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে জেলা পুলিশ এবং টিএসআর বাহিনী নজরদারি রাখবে৷ সে-ক্ষেত্রে ৫০৯টি পুলিশ বিটকে সতর্ক করা হয়েছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, প্রতিটি রেল স্টেশনের এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাও সুনিশ্চিত করা হয়েছে৷ ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে আরপিএফ এবং জিআরপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে৷
এদিন ডিজিপি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবছর গত বছরের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে৷ সাথে তিনি জানান, ত্রিপুরায় দুগর্োৎসবকে ঘিরে কোন নাশকতামূলক গতিবিধির হুমকির নেই৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও ত্রিপুরার জন্য কোন সতর্কতা জারি করেনি৷ তবুও, সারা ত্রিপুরায় ১৮টি বোম্ব ডিস্পোজাল স্কোয়াড তৈরি রাখা হয়েছে৷ তার মধ্যে ৮টি বোম্ব স্কোয়াড আগরতলার জন্য তৈরি রাখা হয়েছে৷ তাঁরা প্রতিনিয়ত নজর রাখবে৷ ডিজিপি এদিন ত্রিপুরাবাসীকে অভয় দিয়ে বলেন, সাদা পোশাকে মহিলা পুলিশ সহ পুলিশ কর্মী বিভিন্ন দিকে ঘোরাফেরা করবে৷ তাঁরা সমস্ত পরিস্থিতির দিকে ক্রমাগত নজর রাখবে৷
এদিন ডিজিপি ত্রিপুরাবাসীকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন৷ তার কথায়, আইন-শৃঙ্খলা জনিত কোন ধরনের খবর যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না৷ প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিয়ে ওই খবরের সত্যতা যাচাই করে তবেই বিশ্বাস করবেন৷ তাঁর পরামর্শ, সজাগ এবং সতর্ক থাকুন৷ তবেই, দুগর্োৎসব আরও আনন্দমূখর হয়ে উঠবে৷

