নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ সেপ্ঢেম্বর৷৷ নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে৷ সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম চালু হওয়ার পর বিভিন্ন শিল্পসংস্থা রাজ্যে শিল্প স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করছে৷ চলতি অর্থবছরের সেপ্ঢেম্বর মাস পর্যন্ত ১১টি শিল্পসংস্থাকে বিভিন্ন শিল্পতালুকে শিল্প স্থাপনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে৷ বিনিয়োগ হবে ৭৩ কোটি টাকারও বেশি৷ শুক্রবার শিল্প ভবনে আয়োজিত সংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগম (টিআইডিসি)-এর চেয়ারম্যান টিঙ্কু রায় এই তথ্য জানান৷

টিঙ্কুবাবু জানান, বর্তমানে টিআইডিসি-র অধীনে রাজ্যে ১৪টি শিল্পতালুক রয়েছে৷ গত তিনটি অর্থবছরে এই শিল্পতালুকগুলিতে ৬০টি নতুন শিল্পসংস্থাকে শিল্প স্থাপনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়েছে৷ তাঁরা বিনিয়োগ করবে ২১৩ কোটি টাকা৷ বর্তমানে ১৪টি শিল্পতালুকে ২২২টি শিল্প কারখানা রয়েছে৷ চেয়ারম্যান জানান, রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শিল্প স্থাপনে গতি এসেছে৷ ইতিমধ্যেই তুলাকোনা শিল্পতালুকে সিকারিয়া মেগা ফুড পার্ক প্রাইভেট লিমিটেড ৬১.৭১ একর জায়গায় ফুড পার্ক স্থাপন করেছে৷ তিনি জানান, রাজ্যে শিল্প স্থাপন প্রক্রিয়া সহজতর করতে সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম চালু করা হয়েছে৷ শিল্প স্থাপনে আগ্রহীদের জন্য ডিপিআর তৈরি করা, ঋণের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে৷ বিভিন্ন শিল্পতালুকে পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে৷ এরমধ্যে রয়েছে পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্যাস লাইন সংযোগ, রাস্তা তৈরি করা প্রভৃতি৷ বোধজংনগরে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তার জন্য টিএসআর ক্যাম্প স্থাপন, সিসি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে৷
চেয়ারম্যান জানান, ত্রিপুরা ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (টিএনজিসিএল) পাইপ লাইনের মাধ্যমে জ্বালানি গ্যাস সরবরাহ করছে৷ এতে টিআইডিসি, গেইল এবং আসাম গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের অংশীদারিত্ব রয়েছে৷ টিআইডিসি-র বোর্ড মিটিঙে টিআইডিসি তার অংশূদারিত্ব (ইকুইটি পার্টিসিপেশন) বাড়িয়ে ২৫.৫১ শতাংশ করেছে এবং টিএনজিসিএল-এ ৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছে৷ তিনি বলেন, সম্প্রতি ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরকে নগর, ধর্মনগরের মিশনটিলা, এডিনগর এবং বাধারঘাটে শিল্পতালুকের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷ এডিনগর শিল্পতালুকে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য ‘উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার’ করা হবে৷ সেখানে মহিলাদের উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করার জন্য স্টলও থাকবে৷ আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করা হবে৷
চেয়ারম্যান জানান, রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে আগর গাছ রয়েছে৷ ধর্মনগরের কদমতলায় টিআইডিসি থেকে ঋণ নিয়ে একটি আগর কারখানা করা হচ্ছে৷ এ-বছর রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই বিলোনিয়া এবং ধর্মনগরে রাইসমিল বসানোর কাজ চলছে৷ কুমারঘাটে ধূপকাঠির শলা তৈরির জন্য নতুন করে শেড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় যে-সব শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেগুলি খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷
রাজ্যে শিল্পের অগ্রগতির কথা বলতে গিয়ে তিনি এ-বছর অনুষ্ঠিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলার কথাও উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, গত বছর মেলায় ৮৫টি স্টল খোলা হয়েছিল৷ এ-বছর মেলায় স্টল ছিল ১৯২টি৷ মেলায় বিক্রির পরিমাণ ৩ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা৷ চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে৷ উদ্যোগীরা যেন শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসেন৷

