নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর ৷৷ ত্রিপুরায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জেরবার বিজেপি। নব্য এবং আদি বিজেপি কার্যকর্তাদের মধ্যে ঘনঘন সংঘাত হচ্ছে। এমনই এক সংঘাতের ঘটনায় শনিবার এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। রাস্তা নির্মাণকে ঘিরে ধলাই জেলার কমলপুর মহকুমার হারেরখোলা গ্রাম পঞ্চায়েত-প্রধানের স্বামী এবং উপপ্রধানের মধ্যে সংঘাত রক্তারক্তি পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।

সূত্রের খবর, হারেরখোলা গ্রামপ্রধানের স্বামী পরিতোষ দাস আজ সকালে নিজের রবার বাগানে যাওয়ার পথে উপপ্রধান সঞ্জিত দাস এবং তাঁর ভাতিজা শিফন দাসের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁকে আক্রমণ করেছে। সূত্রের দাবি, দুষ্কৃতকারীরা পরিতোষ দাসকে বাইক থেকে নামিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে। ইট এবং লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয় কয়েকজন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করে কমলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে কুলাই জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাঁর অবস্থা ক্রমশ অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পারিবারিক সদস্যদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৩ মার্চের আগে এবং পরে বিজেপি সদস্যদের মধ্যে ইদানিং প্রচণ্ড ঝামেলা হচ্ছে সারা ত্রিপুরায়। কারণ, নব্য বিজেপি কার্যকর্তাদের কোনওভাবেই বরদাস্ত করতে পারছেন না পুরানো তথা আদি বিজেপি কার্যকর্তারা। ফলে, প্রায়ই সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে তাঁদের মধ্যে। কমলপুরেও ওই ঘটনা বিক্ষিপ্ত নয়। ফলে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ত্রিপুরায় কলংকিত হচ্ছে বিজেপি।
হারেরখোলা পঞ্চায়েত এলাকায় সংঘটিত ঘটনায় পুলিশ মামলা নিলেও তদন্ত করতে পারছে বলে অভিযোগ। কারণ, বিজেপি কার্যকর্তার বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীর অভিযোগকে ঘিরে বেকায়দায় পড়েছে পুলিশ। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

