নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর ৷৷ বাধারঘাট কেন্দ্রে উপনির্বাচনে প্রচারের অন্তিম দিনে শাসক-বিরোধী উভয় দল কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে সকাল থেকেই। বিজেপি প্রদেশ মহিলা মোর্চা সভানেত্রী পাপিয়া দত্ত আজ প্রচারের কামান সামলেছেন। এদিকে বামফ্রন্ট প্রার্থীকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক রতন ভৌমিক। থেমে থাকেনি কংগ্রেসও। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা এবং কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক এদিন শেষ মুহূর্তের প্রচারে অংশ নিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী রতন চন্দ্র দাসকে নিয়ে বীরজিৎ সিনহা রোড শো করেছেন। এদিন বিকাল চারটা বাজতেই সমাপ্ত হয় সারাব প্রচার।

আজ বিজেপি প্রদেশ মহিলা মোর্চা সভানেত্রী পাপিয়া দত্ত বলেন, বাধারঘাট কেন্দ্রে জয় দিয়ে ভাবছি না। জয়ের ব্যবধান বাড়ানো লক্ষ্য আমাদের। তাঁর দাবি, মানুষ কংগ্রেস-সিপিএমের মিতালি সম্পর্কে জানেন। ফলে তাঁদের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত আছেন বাধারঘাটবাসী, দৃঢ়তার সাথে জানান তিনি। তাঁর কথায়, উপনির্বাচনে সিপিএম-কংগ্রেসের জামানত জব্দ হবে। কারণ, ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর নতুন সরকার একের পর এক জনমুখী প্রকল্পের সূচনা করেছে। তার সুফল মানুষ পাচ্ছেন। ফলে উপনির্বাচনে জয় নিয়ে ভাবছে না বিজেপি। তাঁর দাবি, প্রচারের প্রত্যেক মুহূর্তে মহিলা কর্মীদের অংশগ্রহণ সকলের মনোবল বাড়িয়েছে। কারণ, বিপুল সংখ্যায় মহিলা কর্মী প্রচারে অংশ নিয়েছেন।
এদিন বিধায়ক রতন ভৌমিক বলেন, বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী বুল্টি বিশ্বাসকে নিয়ে প্রচারে বিপুল সাড়া মিলেছে। মানুষ আমাদের কাছে পেয়ে উৎসাহিত হয়েছেন। তার দাবি, প্রচারে জনসামর্থন দেখে মনে হচ্ছে উপনির্বাচনে জয় নিশ্চিত। সে-ক্ষেত্রে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। তার কথায়, মানুষ ভোট দিতে পারলে বামফ্রন্টের জয় কেউ আটকাতে পারবে না।
এদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী রতন চন্দ্র দাসকে নিয়ে প্রচার করেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি বীরজিৎ সিনহা। এদিন তাঁরা বাধারঘাট কেন্দ্রে রোড শোও করেছেন। বীরজিৎবাবু বলেন, ত্রিপুরায় ১৮ মাসে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের রাজত্বে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাঁর দাবি, ওই সরকারের উপর ভীষণ বিরক্ত। কারণ, তাঁরা নির্বাচনের কোন প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না। তাই, উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয় ১০০% নিশ্চিত, দাবি করেন তিনি। একই সুরে জয় নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক। তাঁর কথায়, মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে। এখন মোহ ভঙ্গ হয়েছে তাঁদের।
এদিকে, আজ বাধারঘাট উপনির্বাচনে সরব প্রচার সমাপ্ত হয়েছে। বিকাল চারটা বাজতেই নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দল প্রচার থামিয়ে দিয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। গণনা হবে ২৭ সেপ্টেম্বর।

