
নরেন্দ্রপুর, ২২ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : প্যারা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে রবিবার ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিল নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েস স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র বুদ্ধদেব জানা। আগামী ২৫ থেকে ২৭ শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডে এই খেলার আসর বসতে চলেছে। সেখানে ভারতীয় দলে বাংলা থেকে একমাত্র বুদ্ধদেবই সুযোগ পেয়েছে। ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন বুদ্ধদেবের এই সাফল্যে খুশি স্কুলের শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব থেকে তার পরিবারের সকলে।
ছোট থেকে খুবই ডানপিটে ছিল বুদ্ধদেব। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার চোখের সমস্যা সামনে আসে। তার চোখের দৃশ্যমানতা কম থাকায় পরিবারের লোকেরা নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েস স্কুলে ওকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। এই স্কুলে ভর্তি হয়েই নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে থাকে সে। ২০১০ সালে এখানে ভর্তি হয় বুদ্ধদেব। প্রথমে সাঁতারের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ ছিল তার। জাতীয় স্তরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বেশ কিছু পদক ও জিতেছে সে। কিন্তু গত চার বছর ধরে জুডোতে আগ্রহ বাড়ায় জুডো প্রাকটিসই চালিয়ে যাচ্ছে বুদ্ধদেব। মাস কয়েক আগে একটা প্রতিযোগিতায় গিয়ে জুডোতে প্রথম স্থান অধিকার করে এই ছাত্র। সেই থেকেই নজরে পড়ে যান নির্বাচক মণ্ডলীর। এবার ইংল্যান্ডে আয়োজিত প্যারা কমনওয়েলথ গেমসের জন্য বুদ্ধদেবকে জুডো দলে নির্বাচন করেন তারা।
ছাত্রের এই সাফল্যে ভীষণ খুশি নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েস হাইস্কুলের প্রিন্সিপাল বিশ্বজিৎ ঘোষ। তিনি বলেন, “বুদ্ধদেব আমাদের স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা চাই ও সফল হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক।” মিশনের ছাত্রের এই সাফল্যে খুশি হয়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের সেক্রেটারি মহারাজ স্বামী সর্বলোকানন্দ মহারাজ ও। তিনি বলেন, “ব্লাইন্ড বয়েজের ছাত্ররা দেখিয়ে দিয়েছে যে তারাও কোন অংশে কম নয়। শুধু জুডো নয়, সাঁতার সহ আরও বিভিন্ন বিভাগে ওরা নিজেদের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তাই চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে, তাহলে সাফল্য আসতে বাধ্য।” রবিবার বুদ্ধদেবকে শুভেচ্ছা জানাতে স্কুলের পড়ুয়া থেকে শিক্ষক সকলেই উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ওর বাবা মা-ও। ছেলের সাফল্যে খুশি তারা।

