বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ সেপ্ঢেম্বর৷৷ কেন্দ্রীয় জলশক্তি ও সামাজিক ন্যায় মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী রতন লাল কাঠারিয়া আজ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন৷ তাদের মধ্যে রাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়৷ আলোচনাকালে ন্যাশনাল ওভারসীস স্কলারশীপ ফর এস সি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়৷ তপশীলি জাতি সম্পদায়ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রী যাদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে এবং তারা যদি বিদেশের কোন স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর ও পি এইচ ডি করার জন্য নির্বাচিত হন সেক্ষেত্রে তারা এই প্রকল্পের সুুযোগ পেতে পারেন৷ আবেদনকারীদের আয় অবশ্যই বছরে ৬ লক্ষ টাকার নিচে হতে হবে৷


আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশে পাঠরতদের ক্ষেত্রে পড়াশুনা করার জন্য এই প্রকল্পে বছরে ১৫৪০০ ডলার এবং বৃটেনে পড়াশুনার ক্ষেত্রে ৯৯০০ পাউণ্ড স্কলারশীপ পাবার সুুযোগ রয়েছে৷ পি এইচ ডি’র ক্ষেত্রে চার বছর এবং মাষ্টার ডিগ্রির ক্ষেত্রে তিন বছর স্কলারশীপ পাওয়া যাবে৷ মহিলা শিক্ষার্থীর জন্য ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে৷ রাজ্য থেকেও যাতে এই প্রকল্পে ত্রিপুরার ছাত্র-ছাত্রীরা স্কলারশীপের সুুযোগ পেতে পারেন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন৷ তাছাড়াও বৈঠকে তফশীলি জাতি ও জনজাতি সম্পদায়ভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের পোষ্ট-মেট্রিক ও প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপের বিষয় নিয়ে আলোচনাকালে রাজ্যের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী দাবি জানালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কাঠারিয়া তা মিটিয়ে দেবার আশ্বাস দেন৷ এই ক্ষেত্রে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে ৯ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে৷ তবে পোষ্ট-মেট্রিক স্কলারশিপের বর্তমানে কোন বকেয়া নেই৷ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বালিকাদের জন্য ২টি হোষ্টেল নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল৷ তারমধ্যে ১ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল৷ বাকী টাকা দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন৷


রাজ্যেকে নেশামুক্ত করা এবং প্রবীণ নাগরিকদের অবস্থান সম্পর্কেও মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কাঠারিয়াকে অবহিত করেন৷ বড়মুড়ায় জল সংরক্ষণের জন্য যে দুটি বাঁধের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল সে বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কাঠারিয়াকে অনুরোধ জানান৷ রাজ্যের বিভিন্ন বৃদ্ধাবাসগুলিতে সুুযোগ সুুবিধা সম্পসারণের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন৷ সেগুলির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী কাঠারিয়া৷ আগামী ১ অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় বয়োশ্রেষ্ট সম্মানের জন্য রাজ্য থেকে মনোনয়ন পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করেন৷


আজকের বৈঠকে মুখ্যসচিব ইউ ভেঙ্কটেশ্বরলু, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব কুমার অলক, পূর্তদপ্তরের প্রধান সচিব শশীর’ন কুমার, তপশীলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব মানিক লাল দে এবং সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব চৈতন্যমুর্তি উপস্থিত ছিলেন৷