নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৩ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটির অন্তর্গত প্রতিটি বাজার এলাকাকে স্বচ্ছ ও নির্মল রাখার উদ্দেশ্যে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব তার ছয় মাসের বেতন দান করার ঘোষণা দিয়েছেন৷ আগামী ১৭ সেপ্ঢেম্বর দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সামাজিক কর্মসূচি হিসাবে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান৷ আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে প’ায়েত দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের নবনির্বাচিত পদাধিকারীদের নিয়ে একদিবসীয় কর্মশালার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এই ঘোষণা করেন৷

উদ্বোধকের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাজ্যে আগামী ১৪ থেকে ২০ সেপ্ঢেম্বর ‘সেবা সপ্তাহ’ হিসাবে পালন করা হবে৷ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে রাজ্য জড়ে রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ গড়ার সচেতনতামূলক অভিযান ইত্যাদি কর্মসূচির আয়োজন করা হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী আজ অনুষ্ঠানমঞ্চে রাজ্যের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের পদাধিকারী, পুরনিগম, পুর পরিষদ ও বি এ সি’র পদাধিকারীগণের বেতনভাতা বৃদ্ধিরও ঘোষণা দেন৷ তিনি জানান, জিলা পরিষদের সভাধিপতিগণের বেতনভাতা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা৷ তা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা৷ সহকারী সভাধিপতিগণের বেতনভাতা চার হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে৷ প’ায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ও বি এ সি’র চেয়ারম্যানগণের বেতনভাতা ৩২৫০টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে৷ পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান ও বি এ সি’র ভাইস চেয়ারম্যানগণের বেতনভাতা ২৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা করা হয়েছে৷
গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বেতনভাতা ১২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা এবং উপ-প্রধানের বেতনভাতা এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হয়েছে৷ এছাড়াও জিলাপরিষদের এবং পঞ্চায়েত সমিতির স্ট্যাণ্ডিং কমিটির সভাগুলিতে অংশগ্রহণ করার জন্য কমিটির সদস্য-সদস্যাদের আগে ১০৫ টাকা প্রদান করা হত৷ এখন তা বৃদ্ধি করে করা হয়েছে ২০০ টাকা৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের পদাধিকারীগণের পাশাপাশি আগরতলা পুরনিগম, বিভিন্ন পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েতের পদাধিকারীগণের বেতনভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হবে৷ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়েই জনপ্রতিনিধিগণ সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে থাকেন৷ জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুুফলগুলি জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়াই জনপ্রতিনিধিগণের গুরুদায়িত্ব৷ তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে ভ্রষ্টাচারমুক্ত করার লক্ষ্যে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে৷ পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি গ্রামকে স্বচ্ছ ও শ্রেষ্ঠ গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলার সংকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে৷ তবেই রাজ্যকে মডেল রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে৷
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্য সরকার ’অটল জলধারা মিশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২০২২ সালের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি বাড়ীতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে৷ সেই প্রকল্পকে গ্রামস্তরে সঠিক ও সফলভাবে রূপায়ণ করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের সচেষ্ট থাকতে হবে৷ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সঠিকভাবে রূপায়ণের লক্ষ্যে গ্রাম প্রধানকে মাঠে গিয়ে তদারকি করতে হবে৷ তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলির উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ত্রিপুরাকে মহিলা নির্যাতনমুক্ত ও ভ্রষ্টাচারমুক্ত রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ গ্রাম, শ্রেষ্ঠ জেলা তৈরী করার জন্য নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে সাংসদ প্রতিমা ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ সবকা বিকাশ মন্ত্রকে সঠিকভাবে রূপায়ণের কারিগর হলেন জনপ্রতিনিধিগণ৷ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যেসকল উন্নয়নমূলক প্রকল্প রয়েছে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিগণের৷ এছাড়াও রাজ্য সরকার যে সব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে তা গ্রামস্তরে পৌঁছানোর জন্যও জনপ্রতিনিধিগণের দায়িত্ব নিতে হবে৷ বিশেষ অতিথির ভাষণে রাজস্বমন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা মৎস্য ও রাজস্ব দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেন এবং সেগুলি গ্রামস্তরে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান৷
বিশেষ অতিথির ভাষণে কৃষিমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বলেন, কৃষকদের কল্যাণে যেসব প্রকল্প রয়েছে তার সুুবিধা নেওয়ার জন্য ক’ষকদের সচেতন করতে হবে জনপ্রতিনিধিগণের৷ দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তা বাস্তবায়ণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে৷
অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন মুখ্যসচিব ইউ ভেঙ্কটেশ্বরলু, গ্রামোন্নয়ন (প’ায়েত) দপ্তরের সচিব সৌম্যা গুপ্তা, পঞ্চায়েত দপ্তরের অধিকর্তা রাজেন্দ্র নোয়াতিয়া এবং গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ সিং৷ অনুষ্ঠান মঞ্চে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষামন্ত্রী সান্তনা চাকমা, বনমন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া এবং রাজ্যের ৮ জেলার জিলা পরিষদের নব নির্বাচিত সভাধিপতিগণ৷

