
নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ১৩ সেপ্ঢেম্বর ৷৷ সৎ-মায়ের অত্যাচারে অতিষ্ট আট বছরের দ্বিতীয় শ্রেনির পড়ূয়া রাজদ্বীপ নাথ৷ কখনো সুপারি কাটার শরতা, কখনো গরম রড, কখনো লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পাশন্ডিক অত্যাচার৷ আট বছরের অবুঝ ছেলেকে দিয়ে বাথরুম, টয়লেট পরিস্কার থেকে শুরু করে ফিল্টারে জল দেওয়ার কাজ , ঘর দোর পরিস্কার সবই কাজ করানো হত৷ কাজ করতে না চাইলে মারধর করে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হত৷ টিফিন যাই দূরে থাক ঠিকভাবে খাবার দাবার দেওয়া হতনা৷ সকালবেলা সুকল থেকে খেয়ে আসলে সারাদিন আর খাওয়ার জুটতো না৷
এমনই এক চাঞ্চল্যকর ভারাক্রান্ত অমানবিক অভিযোগ উঠল সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ৬ নং ওয়ার্ডের জগদীশ নাথের দ্বিতীয়া স্ত্রী বিপুলা নাথের বিরুদ্ধে৷ জগদীশ দেবনাথ মুখ-বধীর, পেশায় চা-পান দোকানদার৷ জগদীশ নাথের একমাত্র সন্তান রাজদ্বীপের বয়স যখন চার বছর তখন তার মা মারা যায়৷ ছোট্ট ছেলেকে দেখভালের জন্য জগদীশ দ্বিতীয় বিয়ে করে বিপুলাকে৷ বিয়ের মাসখানেক পর থেকে রাজদ্বীপ যেন বোঝা হয়ে দাড়ালো জগদীশ বিপুলার সংসারে৷ দিনের পর দিন শুরু হয় রাজদ্বীপের উপর অত্যাচার৷ জগদীশ নাথ কথা বলতে পারে না৷ সকালবেলা দোকানে চলে যায় ফিরে রাত্রি বেলায়৷ ছেলেকে নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তির কথা আঁচ করতে পেরে রাজদ্বীপকে মনুঘাটে জগদীশের বড় ভাইয়ের বাড়ীতে দিয়ে আসে৷
জ্যেঠামশায়ের বাড়ীতে খুব ভালোভাবে চলছিল রাজদ্বীপের পড়া লেখা৷ মনুঘাট সুকলে ভর্তি করানো হয় তাকে৷ তারপর হঠাৎ করে একদিন তার বাবা এবং মা জেঠামশায়ের বাড়ী থেকে সাব্রুমে নিজের বাড়ীতে নিয়ে আসে৷ শুরু হয় রাজদ্বীপের উপর নির্মম পাশবিক অত্যাচার৷ গত কিছুদিন আগে রাত্রিবেলা তাকে প্রচন্ড মারধর করে সারারাত বাড়ীর বাইরে রাখে৷ মারের চোটে গলায় এবং মাথায় আঘাত পেয়েছে৷ সকালবেলা পাড়ার লোকেরা দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ ডঃ দেখিয়ে থেকে ওর বাবা ওকে জেঠামশায়ের বাড়ীতে রেখে আসে৷
এই খবর ডিসিএম উত্তম দাস শুনতে পেয়ে সাথে সাথে চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে৷ আজ বিকাল বেলা চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তা, ডিসিএম উত্তম দাস বৈঞ্চব এবং সাব্রুম থানার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগে রাজদ্বীপকে তার জেঠামশায়ের বাড়ি থেকে জবান বন্দী নেওয়া হয়৷ আজ তাকে মেডিক্যাল করে চাইল্ড হোমে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ডিসিএম উত্তম দাস বৈঞ্চবের সহযোগীতায় রাজদ্বীপ তার সৎ-মার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে এক নতূন আশ্রয় পেল৷

