ভিজন ডকুমেন্টের প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে সরকার বদ্ধপরিকর : মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ সেপ্ঢেম্বর৷৷ রাজ্যবাসীর কল্যাণে ভিজন ডকুমেন্টের প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে সরকার বদ্ধপরিকর৷ রাজ্যের ৩৭ লক্ষ মানুষের কল্যাণে ভিজন ডকুমেন্টে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রূপায়ণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে৷ আজ খোয়াই অফিসটিলায় খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতের নবনির্মিত ত্রিতল ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এ-কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷


জেলা ও দায়রা আদালতের নতুন ভবনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী দেব বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দেওয়া৷ সরকার সেই লক্ষ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে৷ তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ৩ বছরে রাজ্যকে একটি মডেল রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলা৷ জনকল্যাণে রূপায়িত কর্মসূচি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হবে৷ তিনি বলেন, মেধা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে রাজ্যকে মডেল রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব৷ এজন্য চাই কর্মসংসৃকতি ও গুণগত কাজ৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যকে নেশামুক্ত করার লক্ষ্যে যে অভিযান শুরু হয়েছিল তাতে অনেকটাই সাফল্য এসেছে৷ নেশাসামগ্রীর কারবার ছাড়া অন্য পথেও রোজগার করা সম্ভব৷ আর এতেই সমাজের মঙ্গল৷ কারণ নেশার কারণে মহিলাদের উপর নির্যাতন বৃদ্ধি পায়৷ মুখ্যমন্ত্রী নেশা কারবারি, কালোবাজারি ও মহিলাদের উপর নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কৃষকদের আর্থ-সামাজিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে ২ লক্ষ ১৫ হাজার কৃষককে তিন কিস্তিতে বছরে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে৷ কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৮৮ কোটি টাকা রাজ্যের গরিব কৃষকদের কাছে গেছে৷ এই প্রকল্পে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থরাশি যাচ্ছে৷ তিনি বলেন, এই প্রথম রাজ্য সরকার ভারতীয় খাদ্য নিগমের মাধ্যমে যৌথভাবে ন্যূনতম সহায়কমূল্যে ধান ক্রয় করেছে৷


এই কর্মসূচিতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতি কেজি ১৭.৫০ টাকা মূল্যে ১০,৪০৬ মেট্রিক টন এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৬,৪৭০ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে৷ এতে উপকৃত হয়েছেন রাজ্যের কৃষকরা৷ আগে তাঁরা ১০ টাকা কেজি দরে ধান বিক্রি করতেন৷ এখন ১৭.৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শূন্য থেকে শুরু করেছে৷ ত্রিপুরা এবং ত্রিপুরাবাসীর উন্নয়নে বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে অপরাধীদের সাজার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭ শতাংশ হয়েছে৷


খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় কারোল৷ তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিধানসভায় বিজেপি-র মুখ্য সচেতক বিধায়ক কল্যাণী রায়, খোয়াই জেলা পরিষদের সভাধিপতি জয়দেব দেববর্মা, উপ-সভাধিপতি হরিশঙ্কর পাল, ত্রিপুরা হাইকোর্টের বিচারপতি সুভাশিস তলাপাত্র, বিচারপতি অরিন্দম লোধ, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল অরুণকান্তি ভৌমিক প্রমুখ৷


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জয় কারোল বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নবনির্মিত এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে৷ তিনি জানান, খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতের নির্মাণ কাজ সময়মতো শেষ করার ক্ষেত্রে খোয়াই জেলা প্রশাসন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে৷ জেলা প্রশাসনের এই ভূমিকার তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন৷ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেছেন খোয়াই জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারপতি পিকে দত্ত৷ ধন্যবাদসূচক বক্তব্য পেশ করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস নাথ৷ অনুষ্ঠানে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, খোয়াই বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ের আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷