
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর ৷৷ কাঠ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে রবিবার রাতে তেলিয়ামুড়ার ৪৩ মাইল এলাকায় আক্রান্ত হলেন বন দফতরের কর্মীরা৷ বন দফতরের টহলধারী গাড়িটি বনদস্যুরা ভাঙচুর করেছে৷ আত্মরক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন বন কর্মীরা৷
প্রসঙ্গত, রাজ্যের মূল্যবান বনজ সম্পদ ধবংস করে, গাছের লগ ও কাঠ পাচারের ঘটনা উপর্যুপরি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ কর্মী স্বল্পতা ও উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও বন দফতরের কর্মীরা বনজ সম্পদ রক্ষায় সঠিকভাবে কাজ করতে পারছেন না৷ বন দফতর অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েও সময়মতো সাহায্য পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ৷ সমন্বয়ের অভাবে এ-সব ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে৷ আরও অভিযোগ, মুঙ্গিয়াকামী থানার পুলিশ গতকাল রাতে আক্রান্ত বন দফতরের কর্মীদের পাশে দাঁড়ায়নি৷ আক্রান্ত বনকর্মীরা থানায় এসে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে দায় সেরেছে পুলিশ৷ অথচ ৪৩ মাইলে গাছের লগ বোঝাই গাড়িটি পুলিশের সহযোগিতা পেলে অনায়াসে আটক করতে সক্ষম হতেন বলে দাবি বন দফতরের কর্মীদের৷
এ-বিষয়ে রেঞ্জ ফরেস্টার জানান, তাঁদের কাছে আগাম খবর ছিল, একটি লরি বোঝাই করে গাছের লগ পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হবে৷ সেই খবরের ভিত্তিতে তেলিয়ামুড়া বন দফতরের কর্মীরা রবিবার রাতে এসডিএফও-র টিআর-০১-এ-১১৬১ নম্বরের গাড়ি নিয়ে টহলে বের হন৷ ৪৩ মাইল এলাকায় তাঁরা গাড়িটির হদিশ পান৷ লগ বোঝাই গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলে চালক দ্রুত গাড়ি নিয়ে একটি উপজাতি মহল্লার দিকে অগ্রসর হয়৷ বন দফতরের টহলধারী গাড়িটিও লগ বোঝাই গাড়ির পেছনে ধাওয়া করে৷ তাতেই বিপত্তি দেখা দেয়৷ তিনি জানান, স্থানীয় কিছু লোকজন-সহ পাচারকারীরা বন দফতরের কর্মীদের উপর পাল্টা চড়াও হয়৷ তারা বন দফতরের গাড়িটি ভাঙচুর করেন৷ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গাড়ি নিয়ে বনকর্মীরা সেখান থেকে কোনওক্রমে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন৷
তিনি আরও জানান, সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁরা মুঙ্গিয়াকামী থানার সাহায্য চেয়ে রীতিমতো হতাশ হয়েছেন৷ তাঁর দাবি, পুলিশ রাতেই যদি বনরক্ষীদের সহযোগিতা করত, তা-হলে লগ বোঝাই গাড়িটি হেফাজতে নিয়ে আসা সম্ভব হত৷ এ-ঘটনায় স্থানীয় জনমনেও প্রশ্ণ উঠেছে, ত্রিপুরা সরকারের দুই দফতরের মধ্যে এ-ধরনের সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিলে সরকারি প্রয়াস স্বার্থকতা পাবে কীভাবে?

