
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ সেপ্ঢেম্বর ৷৷ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় শুক্ল বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ধর্ণা আন্দোলন সংগঠিত করেছে বিরোধী দল সিপিএম এবং কংগ্রেস৷ এদিন, আগরতলা সরকারী মেডিকেল কলেজ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের সামনে সংগঠিত করা হয়েছে ধর্ণা ও বিক্ষোভ অবস্থান৷ পাশাপাশি আগরতলা শহরে সংগঠিত করা হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল৷ দাবী করা হয়েছে অবিলম্বে চিকিৎসায় শুল্ক বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা কিংবা প্রত্যাহার করা৷
স্বাস্থ্য পরিষেবায় ফি বৃদ্ধির বিরোধিতায় সিপিআইএম স্বাস্থ্য অধিকর্তা অফিসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে ৷ প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ পবিত্র করের নেতৃত্বে বাম সমর্থিত একদল কর্মী সোমবার ত্রিপুরা সরকারের সমালোচনায় সুর বেঁধেছে ৷ পবিত্র কর ওই সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি বিষোদগার প্রকাশ করেছেন ৷ তিনি বলেন, বামফ্রন্ট জমানায় স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সকলের কাছে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল ৷ কিন্তু এখন গরিব-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য ব্যয় বহন করা দায় হয়ে দাঁড়াবে ৷ তাই এই অমানবিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে রাজ্য সরকারের প্রতি আবেদন জানান তিনি ৷
এদিন, সকালে সিপিএম কর্মীরা আগরতলার গোর্খাবস্তিস্থিত স্বাস্থ্য অধিকর্তার অফিসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন চলাকালীন পথসভায় বক্তব্য পেশ করেন প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ পবিত্র কর ৷ তিনি বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা পরিষেবার গুরুত্ব অপরিসীম ৷ কিন্তু দিন দিন চিকিৎসা খরচ মানুষের সাধ্যের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ৷ এ-ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হচ্ছে৷
তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণেই সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়ে থাকে৷ কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, রাজস্ব আয় বৃদ্ধির নামে গরিব মানুষের পকেটে কাঁচি চালিয়েছে সরকার ৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সমস্ত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্যে প্রদান করেছে ৷ অথচ, এখন ন্যূনতম রেজিস্ট্রেশনের জন্যও কড়ি গুণতে হবে গরিব মানুষের ৷ তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ওই অমানবিক সিদ্ধান্ত ত্রিপুরার ইতিহাসে বিরল ৷ এতে বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার ত্রিপুরায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ৷
তাঁর কথায়, সমগ্র ত্রিপুরাবাসী চাইছেন ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হোক ৷ বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারও এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ৷ তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বিধানসভায় এ-সংক্রান্ত কোনও বিল আনেনি সরকার ৷ অথচ বিধানসভা অধিবেশন সমাপ্ত হতেই এ-বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিয়েছে ৷ তাঁর মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবায় শুল্ক চাপানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত ৷ কারণ, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলে ত্রিপুরাবাসীর জন্য উপকারী হবে ৷ তাই তিনিও ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ৷
এদিকে, সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবায় শুল্ক বৃদ্ধি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগরতলায় জিবি হাসপাতালের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস ৷ শুধু তা-ই নয়, বিক্ষোভ মিছিলও সংগঠিত করেছেন তাঁরা ৷
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবায় শুল্ক বৃদ্ধি সম্পর্কে রাজ্য সরকারের নয়া ফরমানে তোলপাড় শুরু হয়েছে ৷ এই সুযোগে বিরোধীরা ময়দানে নেমে পড়েছেন এবং জনগণের ভাবাবেগে সুড়সুড়ি দিতেও শুরু করে দিয়েছেন ৷ নয়া ফরমান অনুযায়ী, ত্রিপুরায় সমস্ত সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন করে শুল্ক লাগিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ শুধু তা-ই নয়, বেশ কিছু পরিষেবায় শুল্ক বাড়ানো হয়েছে ৷ তাতে, বিরোধী কংগ্রেস গতকাল থেকেই ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে ৷
সোমবার সকাল থেকে কংগ্রেস ওই ইস্যুতে মাঠে নেমে পড়েছে ৷ এদিন সকাল সাড়ে এগারটা নাগাদ প্রদেশ কংগ্রেস তাদের যুব ব্রিগেডকে সাথে নিয়ে জিবি হাসপাতালে মৌন প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছে ৷ মূলত, ওই প্রতিবাদ কর্মসূচি ব্লক কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত হলেও, তাতে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃবৃন্দও যুক্ত ছিলেন ৷ আজ জিবি হাসপাতালের সামনে কংগ্রেস কর্মীরা হাতে প্ল্যা-কার্ড নিয়ে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ৷
এ-বিষয়ে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত সেনচৌধুরী বলেন, হাসপাতাল চত্বরে কোনও ধরনের হইচই হোক তা আমরা চাইনি ৷ তাই, মুখে কালো কাপড় বেঁধে স্বাস্থ্য পরিষেবায় শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছি ৷ তাঁর কথায়, হঠাৎ করে মানুষের কাঁধে স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার ৷ এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি গরিব মানুষরা ভীষণ সমস্যায় পড়বেন ৷ তাঁর দাবি, ওই তুঘলকি সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক ৷
এদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস নেত্রী পান্না দে আজ ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছেন ৷ তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে গরিব মানুষ নিখরচায় চিকিৎসার সুযোগ নেবেন, গণতান্ত্রিক সরকার সেই ব্যবস্থা করে থাকে ৷ অথচ, ত্রিপুরায় দেখা যাচ্ছে, সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার নামে ব্যবসা শুরু করেছে ৷ রাজ্যের আয় বৃদ্ধির জন্য ওই পদক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি ৷ সাথে যোগ করেন, অবিলম্বে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে মানুষের পাশে দাঁড়াক ত্রিপুরা সরকার ৷
এদিকে, আজ বিকেলে প্রদেশ কংগ্রেস একই ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল সংগঠিত করেছে ৷
প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল রায়, সুবল ভৌমিক এবং প্রদেশ কংগ্রেস সহ-সভাপতি পীযূষ বিশ্বাস-সহ যুবকংগ্রেস এবং এনএসইউআই নেতৃবৃন্দ ওই মিছিলে পা মিলিয়েছেন ৷ প্রাক্তন বিধায়ক গোপাল রায় ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় এভাবে সাধারণ মানুষের কাঁধে বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা অতীতে কখনও ঘটেনি ৷ ব্যবসায়িক চিন্তাধারার এই সিদ্ধান্তে বহু মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিতে পারবেন না ৷ তাই, জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক, দাবি জানান তিনি ৷

