অবিরাম বর্ষণে প্লাবিত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা, ত্রাণ শিবিরে ১৪ সহস্রাধিক মানুষ, ফসলের মারাত্মক ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ জুলাই৷৷ অবিরাম বর্ষণে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে৷ কারণ, হাওড়া নদীর জলস্তর বিপদসীমায় উঠানামা করছে৷ ইতিমধ্যে পশ্চিম জেলায় ৪৬টি শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১২৮৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন৷ সারা ত্রিপুরা মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৪৯০ জন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন৷ পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ড় সন্দীপ এম মহাত্মে জানিয়েছেন, হাওড়া নদীর জলস্তর আজ সকালের ভারী বর্ষণে পুণরায় বাড়তে শুরু করেছিল৷ কিন্তু, এখন জলস্তর স্বাভাবিক রয়েছে৷ তবে, সমস্ত দূযর্োগ মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে৷ গত দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ টানা বর্ষণের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল যেমন প্লাবিত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমিও৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও মহকুমা প্রশাসন থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে৷


তিনদিন ধরে অবিরাম বর্ষণে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে৷ রবিবার হাওড়া নদী পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় আগরতলায় বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল৷ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা শাসকের কথায়, ১৩ জুলাই ৯৫ এমএম, ১৪ জুলাই ১৬৫ এমএম এবং আজ দুপুর বারটা পর্যন্ত ৫১ এমএম বৃষ্টিপাত হয়েছে পশ্চিম জেলায় বিভিন্ন এলাকায়৷ বিশেষ করে আগরতলায় টানা বৃষ্টিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে৷ তিনি বলেন, অবিরাম বর্ষণে গতকাল হাওড়া নদীর জলস্তর ১৩.৭ মিটারে পৌছে গিয়েছিল৷ সাধারণত, ১০.৫ মিটার অতিক্রম হলেই বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায় জলস্তর৷ কিন্তু, রাতের দিকে জলস্তর অনেকটাই নেমে গিয়েছিল৷


তিনি জানান, গতকাল রাত থেকে ফের বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে৷ আজ সকালেও প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে৷ তাতে, দুপুর সাড়ে বারটা নাগাদ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী অনুযায়ী হাওড়ার জলস্তর ১০.৩ মিটারে পৌছে গিয়েছে৷ তাঁর দাবি, বন্যা পরিস্থিতির উপর প্রশাসন প্রতিনিয়ত নজর রেখে চলেছে৷ হাওড়ার বাঁধ সংলগ্ণ এলাকায় বাসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে৷ তাঁর কথায়, হাওড়ার বাঁধের অবস্থার উপরণ কড়া নজর রাখা হয়েছে৷ কোন অবস্থাতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেদিনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন৷


পশ্চিম জেলা শাসকের বক্তব্য, গতকাল আগরতলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ৩০টি শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে৷ তাতে ১৭০০ পরিবারের প্রায় ৭০০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন৷ শিবিরে বসবাসকারীদের পানীয় জল, খাবার ও ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তিনি জানান, অবিরাম বর্ষণে আগরতলা শহরেও প্রভাব পড়েছে৷ আগরতলায় বিভিন্ন রাস্তা জলমগ্ণ হয়ে পড়েছে৷ তাঁর কথায়, আগরতলায় বর্তমানে ১৪টি পাম্প জল নিস্কাশনে ব্যবহৃত হচ্ছে৷ তাতে, স্বল্প সময়ের মধ্যেই অনেক রাস্তায় জল নেমে গিয়েছে৷ কিন্তু, কয়েকটি রাস্তা এখনো জলমগ্ণ হয়ে রয়েছে৷ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রাতের মধ্যে সমস্ত জল নেমে যাবে৷


এদিকে, রাজ্য দূযর্োগ মোকাবিলা দপ্তর থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পশ্চিম জেলায় ৪৬টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ তাতে, ৩১৩০ পরিবারের ১২ হাজার ৮৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন৷ এছাড়া খোয়াই জেলায় তেলিয়ামুড়ায় ৭টি শরণার্থী শিবিরে ২১৫ পরিবারের ৮৯৮ জন এবং, খোয়াইতে ৪টি শরণার্থী শিবিরে ১৫৪ পরিবারের ৬১০ জন আশ্রয় নিয়েছেন৷ বাকি জেলাগুলির মধ্যে ঊনকোটি জেলায় কৈলাসহরের গৌরনগরে ২টি শণণার্থী শিবিরে ২৭টি পরিবারের ১০৬ জন এবং গোমতি জেলায় ১টি শরণার্থী শিবিরে ১০ পরিবারের ৩৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন৷ রাজ্য দূযর্োগ মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিক শরৎ দাসের মতে, পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও আগরতলায় শরণার্থী শিবির খোলা হতে পারে৷ তিনি আরও জানান, আগামী দুইদিন আবহাওয়া একই রকম থাকবে মৌসম বিভাগের পূর্বাভাসে জানা গিয়েছে৷


এদিকে, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন আজ আগরতলায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছে৷ পাশাপাশি, শরণার্থী শিবিরের বসবাসকারীদের খোঁজ খবর নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, প্রকৃতির উপর কারোর হাত নেই৷ তবে, মানুষের কোন অসুবিধা যাতে না হয় সেদিকে সবরকম খেয়াল রাখা হচ্ছে৷ পাশাপাশি, বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক সংস্থা, রাজনৈতিক দল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে৷
গত দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷ টানা বর্ষণের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল যেমন প্লাবিত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমিও৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও মহকুমা প্রশাসন থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে৷


বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা থেকে বন্যা পরিস্থিতিজনিত সংবাদে জানা গেছে, কমলপুর মহকুমার দুর্গাচৌমুহনি কৃষি মহকুমায় কৃষিজমি ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ কৃষি তত্ত্বাবধায়কের অফিস থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গাচৌমুহনি কৃষি মহকুমায় ৫৫ হেক্টর জমির আউশ ধান, ১.৫ হেক্টর জমির আমন ধান, ৩৩ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সব্জি চাষের এলাকা জলমগ্ণ হয়ে পড়েছে৷ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬৩১টি কৃষক পরিবার৷ অতি বৃষ্টির জন্য দুর্গাচৌমুহনি কৃষি মহকুমার ৮৯.৫০ হেক্টর কৃষিজমির ফসল নষ্ট হয়েছে৷ কৃষি তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী কৃষি বীমা যোজনায় সহায়তা করা হবে৷ কমলপুর মহকুমার মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, ধলাই নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও সতর্কতা সীমা অতিক্রম করেছে৷ বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রাকৃতিক দুযর্োগ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিশেষ গ্রুপ সহ মহকুমা প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে৷
বর্ষণের ফলে জম্পুইজলা মহকুমায় দুটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে৷ এই মহকুমার উত্তর টাকারজলা এডিসি ভিলেজের বিশু দেববর্মার বসতবাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিশু দেববর্মাকে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য এসডিআরএফ থেকে ৯৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে৷ এছাড়া মহকুমার পেকুয়ারজলা এডিসি ভিলেজের হীরালাল দেববর্মার বসতবাড়িটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে৷ মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হীরালাল দেববর্মাকে ঘর মেরামতের জন্য ৫০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে৷ মহকুমা শাসক সঞ্জিত দেববর্মা আজ এখবর জানিয়েছেন৷


এদিকে আমবাসাতেও গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জাতীয় সড়কের কিছু অংশে জল জমে যায়৷ আজ সকাল থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে৷ আমবাসায় ধলাই নদীর উপর বিপিন চন্দ্র সেতুটির এপ্রোচে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে অসুুবিধার সৃষ্টি হয়৷ তবে, আজ সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে৷ মহকুমা শাসক জে বি দোয়াতি জানান, আমবাসা মহকুমায় ১২টি বসতবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ মহকুমা প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে৷
উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর ও পানিসাগরে গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে বিভিন্ন নীচু জায়গায় জল জমলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি৷ তবে মহকুমা প্রশাসন থেকে সম্ভাব্য পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে৷ যে কোনও তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য জেলার ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের টোল ফ্রি নম্বর ১০৭৭-এ যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে৷


শান্তিরবাজার মহকুমাতেও কিছু কিছু এলাকায় জল জমলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি৷ মহকুমার লাউগাঙ ও মুহুরী নদীতে জলস্তর স্বাভাবিক রয়েছে৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে মহকুমা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে৷
তেলিয়ামুড়া মহকুমায় বেশ কিছু নীচু এলাকায় জল জমে বন্যা পরিস্থিতির স’ষ্টি হয়েছে৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত ৭টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ এর মধ্যে মহকুমার কুচপাড়া জে বি সুকলে, রামবাবু সম্পাদক পাড়া হাইসুকলে, গুংরাই পাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে, মারগং জে বি সুকলে, মারগং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে, মোহরছড়া হায়ার সেকেণ্ডারি সুকলে এবং বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনে বন্যা দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন৷ মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ শিবিরগুলিতে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে৷ তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসন থেকে এই সংবাদ জানানো হয়েছে৷


টানা বর্ষণের ফলে করবুক মহকুমার শিলাছড়ি ব্লকের ঘোড়াকাপ্পা থেকে নিউ গুঞ্জলিমা পাড়া পর্যন্ত সড়কে জমি ধসের ফলে যাতায়াতের অসুুবিধার সৃষ্টি হলে মহকুমা প্রশাসন থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছে৷ বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের উপযুক্ত করা হয়েছে৷ পূর্ত দপ্তরের মহকুমা আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে এন বি সি সি৷ এন বি সি সি কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়৷ তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ফলে সড়কটি চলাচলের উপযুক্ত হয়ে উঠেছে৷
সিপাহীজলা জেলার বিশালগড় মহকুমায় কিছু অংশ জলপ্লাবিত হয়েছে৷ মহকুমার পূর্ব গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুকুরিয়ামুড়া অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে একটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ এই শিবিরে ৭ পরিবারের ৩১ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে৷ ত্রাণ শিবিরে মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়েছে৷ সোনামুড়া মহকুমায় গোমতী নদীর জল সতর্কতামূলক স্তরের উপর দিয়ে বইছে৷


খোয়াই মহকুমার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল জলে প্লাবিত হয়েছে৷ বন্যা দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য মহকুমায় ৪টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷ এর মধ্যে শ্রীনাথ বিদ্যানিকেতন সুকলে, খোয়াই সরকারি বালক দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে, শ্রীকৃষ্ণ হাইসুকলে ও শেওড়াতলী জে বি সুকলে বন্যা দুর্গতরা আশ্রয় নিয়েছেন বলে মহকুমা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে৷ মহকুমা প্রশাসন ত্রাণ শিবিরগুলিতে খাবার ও পানীয় জল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে৷ মহকুমা প্রশাসন থেকে জানানো হয় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আজ শ্রীকৃষ্ণ হাইসুকলে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত পরিবারগুলির মধ্যে কোনও কোনও পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে৷ খোয়াই জেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই ত্রাণ শিবিরগুলিতে গতকাল স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়৷


এদিকে, গত ২৪ ঘন্টার বৃষ্টিপাতের ফলে সদর মহকুমার বিভিন্ন স্থান প্লাবিত হয়েছে৷ সদর মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে যেসব ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে সেগুলিতে পানীয় জল ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে৷ মহকুমা শাসক অসীম সাহা জানান, সিভিল ডিফেন্স, এন ডি আর এফ, টি এস আর, ত্রিপুরা পুলিশ এবং আগরতলা পুরনিগমের উদ্ধারকারী দল জলবন্দী মানুষকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরগুলিতে পৌঁছে দিয়েছে৷ ১৪টি ভ্রাম্যমান মেডিক্যাল টিমকে শিবিরগুলিতে আশ্রিত মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে৷ তাছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পি আর আই বডি, সমাজসেবীগণ ত্রাণ কাজে এগিয়ে এসেছেন৷