কোহিমা (নাগাল্যান্ড), ২ জুলাই (হি.স.) : এবার নাগাল্যান্ড সরকারও রাজ্যের ভূমিপুত্রদের চিহ্নিত করে এক তালিকা প্ৰস্তুত করতে পদক্ষেপ গ্ৰহণ করেছে। রাজ্যের গৃহ কমিশনার এ সম্পর্কে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগাল্যান্ডের আদি বাসিন্দা নাগরিকপঞ্জি (রেজিস্টার অব ইন্ডিজেনাস ইনহেভিট্যান্টস অব নাগাল্যান্ড সংক্ষেপে আরআইআইএন)-র প্ৰস্তুতির কাজ আগামী ১০ জুলাই থেকে শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ৬০ দিন অর্থাৎ দু-মাসের মধ্যে সম্পূৰ্ণ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরকে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অবৈধ ব্যক্তিদের আদি বাসিন্দার প্ৰমাণপত্ৰ (আইআইসি) প্ৰদান বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ গ্ৰহণ করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, এই প্ৰক্ৰিয়া রাজ্যের প্ৰতিটি গ্রাম এবং ওয়াৰ্ড বাসিন্দাদের ওপর ব্যাপকহারে সর্বেক্ষণের মাধ্যমে চলবে। এতে নাগরিকদের হাতে উপলব্ধ সরকারি তথ্যাবলি গ্ৰাহ্য হবে। সর্বেক্ষণে কোনও আদি বাসিন্দা তাঁর স্থায়ী বাসগৃহে বসবাস করছেন কিনা, না-অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন, যদি অন্যত্র চলে যান তা-হলে কেন গিয়েছেন ইত্যাদি নানা বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
গৃহ কমিশনার তাঁর বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, একবার সব বাসিন্দার তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ হওয়ার পর আদি বাসিন্দাদের প্ৰারম্ভিক তালিকা প্ৰকাশ করা হবে। এই তালিকার যথার্থতা নির্ণয় করবেন সংশ্লিষ্ট গ্রাম এবং ওয়াৰ্ড কৰ্তৃপক্ষ। গ্রাম ও ওয়াৰ্ড এবং প্ৰত্যেক জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে তালিকাগুলো আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্ৰকাশ করা হবে। এর ভিত্তিতে দাবি ও আপত্তির জন্য বাসিন্দাদের ৩০ দিনের সময় দেওয়া হবে।
এই প্ৰক্রিয়া চালাতে রাজ্যের সব গ্রাম পঞ্চায়েত ও জনজাতীয় পরিষদকে অবগত করতে জেলাশাসকদের টিম গঠন করতে নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা সরকারি তথ্য এবং প্রদর্শিত নথিপত্ৰের ওপর ভিত্তি করে দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তি করবেন। প্ৰত্যেক আদি বাসিন্দাকে একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে আগামী ১০ ডিসেম্বর বা তার আগে চূড়ান্ত তালিকা প্ৰস্তুত করা হবে বলেও সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাগাল্যান্ড সরকারের গৃহ দফতরের জনৈক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য, ‘এই প্ৰক্ৰিয়া সম্পূৰ্ণ হলে সব ভূমিপূত্রকে আদি বাসিন্দার প্ৰমাণপত্ৰ (আইআইসি) দেওয়া হবে। এর পর স্বাভাবিকভাবে তাঁদের বৰ্তমান আইআইসিগুলো বাতিল বা অকেজো হয়ে যাবে।’ তিনি জানান, ‘একবার এই প্ৰক্ৰিয়া সম্পূৰ্ণ হওয়ার পর কোনও নতুন আদি বাসিন্দার প্ৰমাণপত্ৰ ইস্যু করা হবে না। তবে কোনও আদি বাসিন্দার নবজাতক সন্তানদের আইআইসি প্ৰদান করা হবে এবং তার নাম আদি বাসিন্দার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।’
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, অসমে জাতীয় নাহগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নবায়ন প্রক্রিয়া চলছে। তা প্ৰায় শেষ পৰ্যায়ে এসে পৌঁছেছে। গত বছরের জুলাই মাসে এনআরসি-র চূড়ান্ত খসড়া প্ৰকাশিত হয়েছিল। ওই খসড়ায় ২,৮৯,৮৩,৬৭৭ জন নাগরিকের নাম অন্তৰ্ভুক্ত হলেও বাদ পড়েছিল ৪০,০৭,৭০৭ জনের নাম। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিরীক্ষণে চলমান এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা আগামী ৩১ জুলাই প্ৰকাশিত হবে।
