৷৷ সন্দীপ বিশ্বাস ৷৷ আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি৷৷ ভোটের মুখে দরাজ হাতে স্বপ্ণের বাজেট পেশ করল বিজেপি- আইপিএফটি জোট সরকার৷ শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণই নয়, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ সহ রাজ্যের গরীব অংশের মানুষের কথা মাথায় রেখেই অর্থমন্ত্রী তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা বাজেট পেশ করেছেন৷ এখানেই চমক থেমে থাকেনি৷ কোন নতুন কর আরোপ না করে আবারও ঘাটতিহীন বাজেট নিঃসন্দেহে সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ১৭ হাজার ৫৩০ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনে এই বাজেটের ইতিবাচক প্রভাব প্রতিফলিত হবে৷

আজ বিধানসভায় বাজেট ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বাজেটের মতোই ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটও ঘাটতিহীন পেশ করছি৷ সেই সঙ্গে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫৩০ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব করছি৷ তিনি বলেন, ভারত সরকারের অনুরূপ আয় ও ব্যয়ের শ্রেণিবিন্যাস প্ল্যান এবং ননপ্ল্যানের পরিবর্তে রাজস্ব ও মূলধনী হিসাবে তৈরি করা হয়েছে৷ বাজেটে নতুন কোনও কর প্রস্তাব করা হয়নি৷ সাথে যোগ করেন, সামাজিক ভাতা বৃদ্ধি করে প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করা হয়েছে৷ এর ফলে বছরে ১২৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে৷
এবার ১৭৫৩০৪৬ কোটি টাকার যে ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তাতে রাজস্ব খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৪০৬১৩২ কোটি টাকা এবং মূলধনী খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪৬৯১৪ কোটি টাকা৷ ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট বরাদ্দে রাজ্যের নিজস্ব কর সংক্রান্ত রাজস্ব ধরা হয়েছে ২০৪৮৯৫ কোটি টাকা৷ অর্থাৎ ২০১৮-১৯’র সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের তুলনায় ১৪৪৩ শতাংশ বেশি৷ ২০১৯-২০ বাজেট প্রস্তাবে রাজ্যের কর বহির্ভূত রাজস্বের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৮৫২১ কোটি টাকা৷ ২০১৮-১৯’র সংশোধিত বাজেট বরাদ্দের ১২৫০৬১৮ কোটি টাকার নিরীখে এ বছরের বাজেট বরাদ্দে কেন্দ্র থেকে মোট প্রাপ্তির পরিমান (কেন্দ্রীয় করের অংশ এবং অনুদান মিলিয়ে) ধরা হয়েছে ১২৭৬৪৩০ কোটি টাকা৷ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মোট ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৪৩০০০ কোটি টাকা৷
২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট হিসাব ও পেশ করার পদ্ধতির নিরীখে আগের বাজেটের তুলনায় আলাদা৷ এতে ভারত সরকারের রাজস্ব ও মূলধন শ্রেণী বিন্যাস পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে৷ এ্যাকাউন্টস ও ব্যয়ের সহজতর শ্রেণী বিভাগ করার জন্য প্ল্যান এবং নন-প্ল্যান’র শ্রেণী বিন্যাস তুলে দেওয়া হয়েছে৷ অর্থমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা তার বাজেট ভাষণে বলেছেন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে কর বাবদ রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ১৭৯০ কোটি টাকা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এই সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ১৪২২ কোটি টাকা৷ তাই চলতি বছরে কর সংগ্রহের পরিমাণ বিগত বছরের তুলনায় ২৫৮ শতাংশ বেশি হতে পারে৷
২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবে অর্থ দপ্তর ছাড়া সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ধরা হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের জন্য৷ এই দপ্তরের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২০৮১ শতাংশ৷ এরপরই রয়েছে গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের স্থান৷ গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত দপ্তরের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১১৯৭ শতাংশ৷ ওয়াটার রিসোর্স, পানীয়জল ও স্বাস্থ্য বিধি এবং আর এণ্ড বি সহ পূর্ত দপ্তরের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৬৫ শতাংশ৷ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৭২ শতাংশ৷