নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ ফেব্রুয়ারী৷৷ চলন্ত ট্রাকে এক মহিলা যাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছিল চালক৷ কিন্তু ভুক্তভোগিণীর বুদ্ধিমত্তায় পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেছে অভিযুক্ত৷ ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার সকালে৷ ধৃত লরি চালককে রাজ্যের তেলিয়ামুড়ার খোয়াই এলাকার জনৈক রঞ্জিত দাসের বছর তিরিশের সুমন দাস বলে পরিচয় পাওয়া গেছে৷ মঙ্গলবার কাকভোরে উত্তর ত্রিপুরার পেঁচারথলে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পড়শি অসমের পাথারকান্দিতে সুকল পড়ুয়া ছেলেকে দেখতে গুয়াহাটিগামী এনএল ০১ কিউ ০১২৮ নম্বরের একটি লরিতে কোলের শিশু নিয়ে চাঁপেন বাজাড়িছড়া থানা এলাকার ছাগলমোয়া গ্রামের রেবা দাস (ছদ্মনাম)৷

লরিতে অন্য এক যাত্রী, চালক এবং সহ-চালক নিয়ে মোট তিনজন পুরুষ ছিলেন৷ লরিটি ত্রিপুরার চোরাইবাড়ি সীমান্তগেটে আসার পর পুরুষ যাত্রীটি গাড়ি নেমে চলে যান৷ এখান থেকে আট নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে চলতে থাকে লরিটি৷ কিন্তু মতলবি মোকামের পাশে আসার পর প্রাকৃতিক কাজের অজুহাতে লরি দাঁড় করিয়ে সহ-চালক পার্শবর্তী এক পাহাড়ি ছড়ায় পাশে চলে যায়৷ তখন একাকিত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লরি চালক মহিলা যাত্রীকে ঝাপটে ধরে তার সঙ্গে কুকর্ম করার প্রচেষ্টা করে৷ তবে মহিলার মরনপণ বাঁধায় সে তার কুকর্ম চরিতার্থ করতে ব্যর্থ হয়৷ইত্যবসরে সহ-চালক চলে আসে৷ ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ার প্রতিশোধে সহ-চালকের সামনেই চালকটি মহিলার শ্বাসনালি চেঁপে ধরে প্রাণে মারার চেষ্টা চালায়৷ তখন সহ-চালক তার ওস্তাদকে বাধা দেয়৷ এই সুযোগে মহিলাটি ফোন করেন পাথারকান্দিতে তাঁর এক ভগ্ণিপতির কাছে৷ ততক্ষণে লরিটি পাথারকান্দি পৌঁছে যায়৷ এদিকে ভগ্ণিপতি পাথারকান্দি পুলিশের সহযোগিতায় লরিটি দাঁড় করিয়ে চালককে আটক করেন৷ পরে নিয়ম অনুযায়ী আটক চালককে পাথারকান্দি পুলিশ বাজারিছড়া থানায় সমঝে দেয়৷এ মর্মে স্থানীয় থানার ওসিগৌতম দাস জানান যে উক্ত মহিলার লিখিত বয়ানের ভিত্তিত্বে লরি চালকের নামে শ্লীলতাহানির মামলা রজু করা হয়েছে৷ তাকে আগামীকাল বুধবার করিমগঞ্জের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হবে৷ এদিকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভুক্তভোগী মহিলাকে তাঁর স্বামীর কাছে সমঝে দিয়েছে পুলিশ৷