নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারী৷৷ রাজ্যের পৃথক স্থানে বিরোধী দল বামফ্রন্টের উপর হামলা হুজ্জুতির অভিযোগ তুলেছে সিপিএম৷ বিলোনীয়া এবং বাগমায় সিপিএম নেতৃত্বের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক বাদল চৌধুরী৷ শুধু তাই নয় আক্রমণে আহতদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েও আক্রমণের শিকার হন বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব৷ এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার যেমন সমালোচনা করা হয়েছে তেমনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্য সফরের পরদিন রবিবার শাসক দলের দুসৃকতীরা বিলোনীয়া মহকুমার রাজনগর বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় সংশ্লিষ্ট জনগণের সাথে কথা বলতে গেলে একের পর এক সমস্যায় পড়েছেন প্রতিনিদিরা৷ এমনকী দুসৃকতীরা তাদেরকে লক্ষ করে ইট পাটকেলও ছঁুড়ছে বলে সোমবার অভিযোগ করলেন বিরোধী দলের উপ-নেতা বাদল চৌধুরী৷
এদিন, এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, তারা আহত না হলেও তাদের বেশ কয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদেরকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েকজন পুলিশ এবং নিরাপত্তা রক্ষীরা৷ অন্যদিকে, সোমবার সকালেই উদয়পুর মহকুমার বাগমায় রবিবার গভীর রাতে আক্রান্ত দুজন লোক্যাল কমিটির সদস্যদের বাড়িতে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী রতন ভৌমিক সহ বামফ্রন্টের কয়েকজন নেতৃত্ব৷ বিরোধী দলের উপ-নেতা বলেন সেখানে তাদেরকে মারধর করা হয়েছে৷ প্রাক্তন মন্ত্রী রতন ভৌমিক সহ দলের মোট চারজন নেতাকে শেষমেশ হাসপাতালে পর্যন্ত ভর্তি করতে হয়েছে৷
এদিন, সাংবাদিক সম্মেলনে বাদলবাবুর প্রশ্ণ যেখানে প্রধানমন্ত্রী এসে রাজ্যে গণতন্ত্রের কথা বলছেন, সেখানে কোথায় যাচ্ছে গণতন্ত্র? মানুষের সুখ- দুঃখের কথা জানতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পর্যন্ত বেরোতে পারছে না৷ রবিবারের ঘটনায় তিনি মোট আঠার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন৷ বিস্তারিতভাবে এসব ঘটনা জানিয়ে সোমবার সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে শাসক দলের হিংস্র আক্রমণের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষকে প্রতিবাদে সোচ্চার হবার আহ্বান জানানো হয়ে৷ এক বিবৃতিতে বিরোাধী দলনেতা মানিক সরকারও পুলিশ প্রশাসন সহ রাজ্য সরকারকে এধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকরী ভূমিক গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন৷