নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারী৷৷ এনআরসি ইস্যুতে যারাই রাজ্যে এবং গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না৷ রাজনৈতিক লাভালাভের বিষয়টি মাথায় রেখেই একটি অংশ এনিয়ে বাজার গরম করার চেষ্টা করছে৷ তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষ এর সঠিক জবাব দেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ আট টাউন বড়দোয়ালী মন্ডল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি প্রদেশ সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দবে বলেন, এনআরসি ইস্যুটি শুধুমাত্র উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য নয়৷ এটি দেশের সার্বিক বিকাশের কথা চিন্তা করেই মোদি সরকার করতে চাইছে৷ গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলের মতো রাজস্থান, গুজরাট, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যেও একই ভাবে এই ইস্যুতে আন্দোলন থাকার কথা৷ সেখানেও পাকিস্তান সীমান্ত রযেছে৷ কিন্তু কোথায়? সেখানে তো কোনও আন্দোলন নেই৷ এক্ষেত্রে যারাই উত্তর পূর্বাঞ্চলে এই ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়, তাতে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে বাধা দেবের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন৷ তাঁর কথায় ১৯৪৭ সালের পর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রের ইউপিএ সরকারের সময় (অটল বিহারী বাজপেয়ীকে বাদ দিলে) এনিয়ে কোনও আন্দোলন হয়নি কেন?

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার গতকাল যে অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছে তা ঐতিহাসিক ও জনমুখী বাজেট৷ এই বাজেট ভারতবর্ষের গরীব, কৃষক ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের উন্নয়নে যে সকল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তার ৮০ শতাংশ প্রকল্প রেখেছেন মহিলাদের জন্য৷ এবারের বাজেটে এম জি এন রেগা খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে৷ গতবার ছিলো ৫০ হাজার কোটি টাকা৷ দেশের ক’ষক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে যারা কাজ করেন সেইসব শ্রমিকদের কল্যাণেও কেন্দ্রীয় সরকার এই বাজেটে কিছু সুুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে৷ এতে ক’ষক এবং শ্রমিকরা লাভবান হবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য গতবারের চাইতে এবার ২১ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে৷ দেশকে এগিয়ে নিতে আর্থ-সামাজিক ও সাংস্ক’তিক উন্নয়নের পাশাপাশি এবার বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেবল উত্তর-পূর্বা’লের রাজ্যগুলির উন্নয়ন নয়, পুরো ভারতবর্ষকে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলার প্রয়াস নিয়েছেন৷ তার পথ ধরেই আমরা ত্রিপুরাকে মডেল স্টেট-এ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছি৷ বর্তমানে রাজ্যে সৌভাগ্য যোজনায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার গরীব পরিবারে বিদ্যৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী উজ্জলা যোজনায় ২ লক্ষ পরিবারে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ই-চালান, ই-পিডিএস, ই-টেণ্ডার ইত্যাদি ব্যবস্থা চালু করেছি৷ গতকাল প’ায়েত সচিবদের জন্য অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে৷ আমরা পর্যটন, ক’ষি, বন, শিল্প ও বাণিজ্যের পাশাপাশি মহিলাদের উপর নির্যাতন বন্ধের ব্যবস্থা নিয়েছি৷ আগের সরকারের আমল থেকে এই নির্যাতন অনেক কমে গেছে৷ তবে শূন্য বলবো না৷ এবারের শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় মোট স্টল রয়েছে ১৭০টি৷ গতবার ছিলো ৮৫টি৷ আজ মরিশাস, ত্রিনিদাদ, সুুরিনাম, ফিজি, মায়ানমার প্রভ’তি দেশের ৪০ জন সদস্য ত্রিপুরার নানা পর্যটন কেন্দ্র দেখে ত্রিপুরার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৷ এই মাটি মা ত্রিপুরাসুুন্দরী মায়ের মাটি ও মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের মাটি৷ কেউ একে পদানত করতে পারবে না৷ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আজ উত্তর-পূর্বা’লের দূরত্ব কমে গেছে৷ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে৷ কেন্দ্রে ও আমাদের রাজ্যে একই সরকার থাকায় উন্নয়ন দ্রতগতিতে এগিয়ে চলেছে৷ এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল ও সমাজসেবী প্রতিমা ভৌমিক৷