নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জানুয়ারি৷৷ সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে গত ক’দিন যাবৎ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ এবং খাদ্য সংকটের যে অভিযোগ আনা হচ্ছে বৃহস্পতিবার তা প্রত্যাখ্যান করলো শাসক বিজেপি৷ দলের পক্ষে সহ সভাপতি রাম প্রসাদ পাল এদিন উল্টো অভিযোগ করে বলেন, কার্যত সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কাজ এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়নি৷ সংকট দেখা দিয়েছে দলীয় ক্যাডারদের মধ্যেই৷

প্রদেশ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, এতোদিন জিও টেগিং এর আগে পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের ভুয়ো জব কার্ড দিয়ে কাজ না করিয়েই সরকারি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো৷এখন সরকার বদলের পর তা করা যাচ্ছে না বলেই যতো অভিযোগ আনা হচ্ছে৷ বিগত দিনে বামেদের দৌলতেই এখন স্রমিকদের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷ গত ৩ মাসে শহরতলীর ডুকলি আর ডি ব্লকের একটা উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, যেকানেই কাজ করতে যাওয়া হচ্ছে জিও টেগিং এর মাধমে সেখানেই হয় জলাশয়, না হয় কোনও রাস্তা না হয় কোনও না কোনও কিচু দেখাচ্ছে৷ আগে রাজ্যের আয়তন প্রায় সাড়ে ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার হলেওকাজ দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার৷ কী করে সম্ভব?
এদিন এই ব্লকের ক্ষেত্রে মোট ২০,০০০৭টি জব কার্ড থাকলেও সরকার বদলের পর মাত্র ১০৩০৬টি জব কার্ডের হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে তিনি জানান৷ বাকীদের ক্ষেত্রে অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, এরা সবাই দলীয় পৃষ্ঠাপোষক৷ কাজ না করেই টাকা হাতিয়ে নিতো৷ সরকার বদলের পর কাজ করে টাকা নিতে এখন আর রাজি হচ্ছে না তারা৷ রাজ্য বিধানসভার সদস্য এদিন তথ্য দিয়ে বলেছেন, বিগত সরকার কোনও কোনও সময় ৭০, ৮০ কিংবা ৯০ দিনও শ্রম দিবস দেখাতো৷ জিও টেগিং এর পর ২০১৬-১৭ সালে তা ৬ দিনও দেকাতে পারেনি৷ ২০১৭-১৮ সালে দেকিয়েছে ৬৯৯ শ্রমি দিবস৷ ২০১৮ সালে যতোদিন ক্ষমতায় ছিলো এর মধ্যে শ্রম দিবস চিলো শূন্য৷ আর নতুন সরকার ৩ মাসে ক্ষমতায় এসে সেই দেখিয়েছে ১০৫ শ্রমি দিবস৷ পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনি জানান, বিগত সরকার সার্বিকভাবে শ্রমদিবস দেখিয়েছে ৩৩৬৮ শতাংশ৷ আর এখন ১০ মাসের এই সরকার শ্রম দিবস নিয়ে দাঁড় করিয়েছে ৩৮৫ শখতাংশ৷ সব মিলে এদিন তিন কাজ এবং খাদ্য সংকটকে সরাসরি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন৷
তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, বাস্তব চিত্রটা তাই বলে৷ এদিন বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল আরও জানিয়েছেন, জব কাডে৪র হিসেব অনুযায়ী ডুকলী আর ডি ব্লকে রেগা বাবদ প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আসতো প্রতি বছর৷ এই টাকায় শ্রমিকদের যেমন কাজের ব্যবস্থা হতো, দলীয় ক্যাডারদেরও তা থেকেই লালন পালন হতো৷ এক্ষেত্রে সরকারের কী কোনও লাভ হয়েছে? প্রশ্ণ বিধায়কের৷ তিনি জানান,এবাবেই রাজ্যের মোট ৫৮টি ব্লকে একই কাণ্ড ঘটিয়েছে এতদিন৷ এখন জিও টেগিং এর পর মনগড়া অভিযোগ আনছেন তারা৷ তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে প্রায় ১১ লাখ জব কার্ড রয়েছে৷ তবে কতো টাকা গেলো দলীয় ক্যাডারদের ঘরে? এই করে তো গত ২০০৫ সালের শুরু থেকেই চালিয়ে গিয়েছে৷