
শ্রীনগর, ২৬ জানুয়ারি (হি.স.) : প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালেই ফের উত্তপ্ত উপত্যকা। কড়া নিরাপত্তার আ়ড়ালেই শ্রীনগরে লুকিয়ে একাধিক জঙ্গি। শনিবার সেনার গুলিতে ইতিমধ্যেই দুই জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে বলে খবর। শ্রীনগরের কোলমোহ গ্রামে কোনও এক স্থানীয়র বাড়িতে লুকিয়ে জঙ্গিরা। এলাকা ঘিরে ফেলেছে সেনা। আরও বেশ কয়েকজন জঙ্গি লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
শনিবার সকালে জঙ্গি লুকিয়ে থাকার খবর পায় নিরাপত্তাবাহিনী। শুরু হয় অভিযান। ৫০ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ, কাশ্মীর পুলিশের মিলিত অভিযান চলছে শ্রীনগর জুড়ে। উপত্যকায় জঙ্গিদের হামলা গতকাল থেকেই জারি। শুক্রবার অনন্তনাগে পুলিশের এক টহলদার বাহিনীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়ে জঙ্গিরা। এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। অপর একটি ঘটনায় পুলওয়ামার তাহাবে সিআরপিএফের ক্যাম্পে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। উত্তর কাশ্মীরের সোপোর শহরে সিআরপিএফের বাঙ্কারের কাছেও আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা।সেনা সূত্রে খবর, গতকাল যে জঙ্গিরা কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায়, তারাই শনিবার শ্রীনগরের খোনমোহে লুকিয়ে পড়ে। গভীর রাতেই গ্রামে ঢোকে জঙ্গিরা। পরপর জঙ্গি হামলার জেরে কাল রাত থেকে আরও কড়া হয় জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা বলয়। বিভিন্ন সেনা সেক্টর সহ কাশ্মীরের প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন জারি থাকে সেনা টহলদারি। শনিবার ভোরে সেই টহলদারি চলার সময়ই সেনাদের উপর গুলি চালায় জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনা। আপাতত খোনমোহ গ্রামটি খালি করেছে সেনা। গ্রামবাসীদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবসে জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতার ছক করে জঙ্গিরা। তাই সজাগ থাকতে উপত্যকার বেশ কয়েকটি সেনা ক্যাম্প প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে বিরত থাকে। মূলত শ্রীনগেরই থাকে মূল কর্মসূচি। এবার সেই শ্রীনগরেই লুকিয়ে জঙ্গিরা।