জামায়াত নিয়ে জটিলতা বাড়ছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টে

বাসুদেব ধর (ঢাকা), ২৩ জানুয়ারি (হি. স.) : একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত এবং শীর্ষ আদালতের রায়ে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে জটিলতা বাড়ছে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে। তাই স্থির হয়েছে, এখন থেকে যৌথভাবে কোনও কর্মসূচি পালন করবে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দুই জোটেরই নেতৃত্বে রয়েছেন এমন বিএনপি নেতারা একথা স্বীকার করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকটি জেলার জনসভায় জামায়াতে ইসলামি ছাড়া ২০ দলের অন্য শরিকরা অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টে থাকা গণফোরাম তাদের আপত্তির কথা স্পষ্ট জানিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে যে কোনও ইস্যুতে আলাদা কর্মসূচি পালনে এ সিদ্ধান্ত দুই জোটের। ঐক্য টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্তে রাজি গণফোরামও। এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাভোগের এক বছর পূর্ণ হবে।

এ উপলক্ষ্যে তাঁর মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সহ দুই জোট। ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়কারী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বলেন, “কর্মসূচির বিষয়ে ২০ দলীয় জোটে এখনও পর্যন্ত কোনও আলাপ-আলোচনা হয়নি। ঐক্যফ্রন্ট পৃথক একটি সত্তা। ২০ দল পৃথক জোট। ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচির সঙ্গে আমাদেরটা এক হবে না।” জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই সংকটে ছিল বিএনপি। ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরামসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে দেরি করে মূলত জামায়াতের কারণে। পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট হলেও শুরুর দিকে বিভিন্ন জনসভায় ২০ দলে থাকা অন্য শরিক দলগুলোর (জামায়াত বাদে) শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হত না।


এ নিয়ে শরিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জামায়াত নেতাদের ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে আসন ছাড় দেয়ায় নির্বাচনের পর অসন্তোষ ব্যক্ত করেন ড. কামাল হোসেন। এক সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে জামায়াতের ২২ নেতাকে যে ধানের শীষ প্রতীক দেয়া হবে, তা তিনি জানতেন না। জামায়াতের সঙ্গে একই প্রতীকে ভোট করাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জামায়াত ছাড়তে বিএনপিকে চাপ দেওয়া যেতে পারে। এরপর থেকেই বিএনপি ‘কৌশলী’ অবস্থান নিয়েছে।” উল্লেখ্য, ১৫ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিলেট সফরে গেলেও সেখানে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের কাউকে নেওয়া হয়নি। তারা ভোটের দিন সহিংসতায় নিহত সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমেদ সোহেলের কবর জিয়ারত ও তার পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে যান। ২১ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্ট নেতারা লালমনিরহাটে যান ভোটের দিন সহিংসতায় নিহত তোজাম্মেল হকের বাড়িতে। দ্বিতীয় দফার সফরেও নেওয়া হয়নি ২০ দলীয় জোট শরিকদের কাউকে। দুই জোটের একাধিক নেতা বলেন, ঐক্যফ্রন্টের কোনো কর্মসূচিতে ২০ দলকে জড়াতে চাইছে না বিএনপি। তারা দুই জোটের ঐক্য ধরে রাখাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এটা আপাতত বিএনপির একটি কৌশল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *