নেপিয়ার, ২৩ জানুয়ারি (হি.স.) : ধাওয়ান ও কোহলির দুরন্ত ইনিংসের জেরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচ জয় করল টিম ইন্ডিয়া৷ তিন উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন মহম্মদ শামি৷ আর ভারতের হয়ে শেষটা করলেন শিখর ধাওয়ান৷১০৩ বলে ৭৫ রানের কার্যকারী ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন শিখর৷ ১৫৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা(ডাক ওয়ার্থ লিউস পদ্ধতিতে) তাড়া করতে নেমে আট উইকেটে প্রথম একদিনের জিতে নিল কোহলির ভারত৷ সেই সঙ্গে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল মেন ইন ব্লু৷ অজি বধের পর এবার কিউয়িদের ডেরায় ব্যাট-বলে দাদাগিরি ভারতের৷রান তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় উইকেটে কোহলি-ধাওয়ানের ৯১ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচের ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়৷ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ধাওয়ান ৭৫ রান ছাড়া কোহলি এদিন ৪৫ রান হাঁকান৷ অল্পের জন্য অর্ধশতরান মাঠে ফেলে আসেন অধিনায়ক৷ রোহিত ১১ ও রায়ডু ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন৷ নিউজিল্যান্ড ইনিংসের পরই যেন ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ভারতের জয় ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা। কারণ কদিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় তিনশো রান তাড়া করেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ভারত। আর যেখানে রান তাড়া করার বিষয়ে নজির গড়ে ফেলেছেন বিরাট কোহলিরা, সেখানে ১৫৮ রান করে জেতা তো বাঁয়ে হাত কা খেল। তাও আবার ডাকওয়ার্থ লুইস মতে জয়ের জন্য় আরও দু’রান কমে গিয়েছিল।

বুধবার ম্যাকলিন পার্কে ধাওয়ান-কোহলি জুটিতেই কুপোকাত কিউয়ি বাহিনী। তবে তার আগেই পাঁচ ম্যাচের একদিনের সিরিজে জয় দিয়ে ভারতের খাতা খোলা একপ্রকার নিশ্চিতই করে দিয়েছিলেন বোলাররা। বুধবার ম্যাকলিন পার্কে প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু ভারতীয় বোলিং ঝড়ে মাত্র ৩৮ ওভারে ১৫৭ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার সেই দাপটই নিউজিল্যান্ডের পিচে বজায় রাখলেন ভারতীয় পেসার ও স্পিনাররা। মহম্মদ শামি থেকে কুলদীপ যাদব, ভারতের ঝোড়ো বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারলেন না কেউই। ৬ ওভারে ১৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন বাংলার পেসার শামি। সেই সঙ্গেই তৈরি হয় নয়া নজির। ভারতীয় বোলার হিসেবে দ্রুততম একশোটি ওয়ানডে উইকেটের মালিক হয়ে গেলেন তিনি। চারটি উইকেট ঝুলিতে ভরেন চায়নাম্যান কুলদীপ। একা অধিনায়ক উইলিয়ামসনই ব্য়াট হাতে দলের মুখরক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ল কিউয়িদের বাকি ব্যাটিং অর্ডার। চাহাল-কেদারদের সামনে যেন অসহায় আত্মসমর্পণই করে দিলেন ব্যাটসম্যানরা। তারপর বাকি কাজটা সারলেন শিখর ধাওয়ান ও ক্যাপ্টেন কোহলি।অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ জয় যে ভারতীয় শিবিরকে কতটা চাঙ্গা ও আত্মবিশ্বাসী করে দিয়েছে, এদিন তা প্রতিপদে টের পাওয়া গেল। নিজেদের ঘরেই কোণঠাসা কিউয়িরা। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, চলতি বছর বিশ্বকাপের আগে আসল পরীক্ষার মঞ্চ নিউজিল্যান্ড সিরিজই। আর তার উদ্বোধনেই লেটার মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ দল। বিরাটকে স্বস্তি দিচ্ছে দলের সার্বিক পারফরম্যান্স। বর্তমানের টিম ইন্ডিয়া যে জয়ের জন্য কোনও একজনের উপর নির্ভরশীল নয়, সেটাই এদিন প্রমাণিত।