নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ ডিসেম্বর৷৷ গলায় বিষ ধারণ করে নীলকন্ঠ হয়েছি৷ ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সর্বোচ্চ শিখরে পৌছাব৷ শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে জোর গলায় এই দাবি করেন ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বি এল ধারুরকর৷ তাঁর কথায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনের উৎকৃষ্ট পরিবেশ গড়ে তুলব৷ অতীতের সমস্ত অনিয়ম, অব্যাবস্থা শুধরে নেওয়াই এখন একমাত্র লক্ষ্য৷ তাঁর আশ্বাস, শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ তাতে, কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবো না৷ তিনি জানিয়েছেন, ই-বুক কেলেঙ্কারীর তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে৷
ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে অধ্যাপক ধারুরকর এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন৷ তিনি জানান, শিক্ষার কোন বিকল্প নেই৷ শিক্ষার মাধ্যমেই সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন হয়৷ রাষ্ট্র গঠনেও শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম৷ তাই, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন কোর্স চালু করা হবে৷ তাতে, নানাভাবে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবেন৷
তাঁর কথায়, এরাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে৷ কিন্তু, সেদিকে এতদিন কোন নজর দেওয়া হয়নি৷ মানব সম্পদ উন্নয়ন সাথে কর্মসংস্থানের প্রশ্ণে কার্যকরী কোর্স ছাত্রছাত্রীদের দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে৷ নিশ্চিত কর্মসংস্থান এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বাবলম্বী করে তোলার
জন্য ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১টি নতুন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কোর্স চালু করা হবে, বলেন অধ্যাপক ধারুরকর৷
তাঁর দাবি, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ১১টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি কোর্স চালু করা হবে তাতে রয়েছে, আর্কিওলজি এন্ড এনসিয়ান্ট ইন্ডিয়ান কালচার, ট্যুরিসম ডেভলপমেন্ট, লিবারেল আর্টস, সোসিয়াল ওয়ার্কস উইথ স্পেশাল রেফারেন্স টু সোসিয়াল ডেভলপমেন্ট, এন্টারপ্রেনারশিপ ডেভলপমেন্ট ফর টেক্সটাইলস, ব্যাম্বো প্ল্যান্টস, মাইথলজি, হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ন্যানো টেকনোলজি, বায়ো টেকনোলজি এবং যোগা স্টাডিজ৷ অধ্যাপকর ধারুরকরের কথায়, ওই নতুন কোর্স চালুর জন্য ইউজিসি’র সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছি৷
এদিন তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে৷ কিন্তু, ওই সমস্যাগুলি সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চলছে৷ অধ্যাপক ও অধ্যাপিকাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বহিরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞদের এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ তিনি জোর গলায় দাবি করেন, রাজ্যে শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷
সাথে তিনি যোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌছানোর জন্য গলায় বিষ ধারণ করেছি৷ নানাহ অব্যবস্থা কাটিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে৷ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কিছু ময়লা আবর্জনা থাকে৷ তা পরিস্কার করার কাজ তিনি শুরু করে দিয়েছেন৷ তাঁর কথায়, সকলের সমর্থন চাইছি৷ তবেই, উৎকৃষ্টমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে৷ তাঁর দাবি, মাস দুয়েকের মধ্যে সমস্ত অব্যবস্থা দূর করা হবে৷ অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অনিয়ম হয়েছে, তার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, ই-বুক কেলেঙ্কারি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ ওই কমিটি শীঘ্রই রিপোর্ট জমা দেবে৷ তাতে, যে সমস্ত অনিয়ম ধরা পড়বে, সে মোতাবেক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ অধ্যাপক ধারুরকরের দাবি, ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আত্মসয়ম্ভর করতে চাইছি৷
2018-12-16

