স্বার্থান্বেষী একটি চক্র সমাজকে বিভাজিত করতে চাইছে ঃ মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ জুলাই ৷৷ ত্রিপুরা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর৷ এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার জন্য ত্রিপুরার সম্পদকে কাজে লাগাতে

বুধবার আগরতলায় হজ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ ছবি নিজস্ব৷

হবে৷ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ত্রিপুরা সরকার সেই দিশায় কাজ করছে৷ আজ আগরতলায় মেলারমাঠে নবনির্মিত ত্রিপুরা হজ ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধশালী৷ ত্রিপুরার উন্নয়নে এই সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে৷ এখানে রয়েছে ক্যুইন প্রজাতির মতো আনারস৷ রয়েছে রাবার, কাঁঠালের মতো ফল ও বাঁশ৷ আর রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস৷ এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরাকে দেশের মধ্যে একটি উন্নত রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা যাবে৷
ত্রিপুরা হজ ভবনের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোনও রাজ্যের উন্নয়নে একটি জরুরি বিষয় হলো-নেশামুক্ত সমাজ৷ কারণ নেশামুক্ত দেশ বা রাজ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে উঠে৷ এজন্যই চীন, জাপান, দুবাই, আমেরিকা, সৌদি আরবের মতো দেশগুলি বিশ্বের মধ্যে উন্নত দেশ বলে পরিচিতি পেয়েছে৷ নেশামুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে যে দেশ বা রাজ্য উন্নত সেই দেশ বা রাজ্য সর্বশ্রেষ্ঠ হতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য রাজ্য সরকার নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার সংকল্প নিয়ে কাজ করছে৷ রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক চিন্তাধারা রাজ্যের প্রতিটি ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বার্থান্বেষী একটি শ্রেণী নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সমাজকে বিভাজিত করতে চাইছে৷ রাজ্য সরকার এই বিভাজন মুছে দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথ সবকা সাথ সবকা বিকাশ, নীতিতে রাজ্যের সামগ্রিক বিকাশে কাজ করে চলেছে৷ তিনি বলেন, পূর্বতন সরকার তাদের দীর্ঘ শাসনে ত্রিপুরাকে একটি স্বনির্ভর রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারেনি৷ এই সময়ে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলো৷ অথচ রাজন্য আমলেও ত্রিপুরা ছিলো স্বনির্ভর৷ ত্রিপুরার নতুন সরকার ত্রিপুরাকে স্বনির্ভর করার জন্য নতুন চিন্তাধারা নতুন দিশায় সমগ্র ত্রিপুরাবাসীকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইছে৷ এজন্য নেওয়া হয়েছে স্বচ্ছ নিয়োগনীতি৷ এর ফলে প্রকৃত গরীব মেধাবীরাই তাদের অধিকার পাবে৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, রাজ্যের সংখ্যালঘু অংশের মানুষের শিক্ষা, সংসৃকতি ও আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে৷ সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তর কি কি কর্মসূচি নিয়েছে তার উল্লেখ করে বলেন, রাজ্যে এখন সংখ্যালঘুদের কল্যাণে ৩৭টি বহুমুখী উন্নয়ন কর্মসূচির কাজ চলছে৷ এর মধ্যে ৩৩টি হলো প্রধানমন্ত্রী জনবিকাশ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত৷ এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়ে অতিরিক্তক শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরা সকল ধর্মের এক মিলনক্ষেত্র৷ সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাদের স্ব স্ব ধর্মীয় অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন এবং উপভোঘ করতে পারেন৷ সংখ্যালঘু কল্যাণমন্ত্রী শ্রীনাথ বলেন, রাজ্যের হজ যাত্রীরা যেন সকলে একসাথে মিলে মিশে থাকতে পারেন এবং হজযাত্রায় যেতে পারেন সে জন্যই কেন্দ্রীয় হজ কমিটির নির্দেশিকা অনুসারে কেন্দ্রীয় হজ কমিটি ও কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় এই হজ ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে৷ সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের তত্বাবধানে এই হজ ভবনটি নির্মাণ করা হয়৷ ভবনটি নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৭ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা৷ ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে ১০৮ টি শয্যা রয়েছে৷ ভবনটি নির্মাণ করেছে ত্রিপুরা সরকারের পূর্ত দপ্তর৷
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা থেকে এবছর ১৫০ জন হজযাত্রী হজ-এ যাচ্ছেন৷ এর মধ্যে ৫১ জন মহিলা এবং ৯৯ জন পুরুষ হজযাত্রী রয়েছেন৷ গত বছর ত্রিপুরা থেকে ১২৩ জন হজযাত্রী হজ এ গিয়েছিলেন৷ উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরা থেকে ১৩৭৩ জন হজযাত্রী হজ-এ গিয়েছেন৷ ত্রিপুরা হজ ভবনের দ্বারোদঘাটন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক আশিস কুমার সাহা, সংখ্যালঘু কল্যাণ দপ্তরের সচিব এম এল দে৷ স্বাগত বক্তব্য রাখেন দপ্তরের অধিকর্তা কে বি চৌধুরী৷ তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক, ত্রিপুরা ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম মজুমদার, ত্রিপুরা রাজ্য হজ কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক জহিরউদ্দিন৷ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ত্রিপুরা রাজ্য হজ কমিটির চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *