নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ ডিসেম্বর৷৷ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার রেগা বন্ধই করে দিতে চেয়েছিল৷ তখন আর কেউ নয়, একমাত্র ত্রিপুরাই কেন্দ্রের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল৷ ত্রিপুরার পরিবেশ-পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ এরপরও সত্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে৷ আজ মহাকরণের ২নং কনফারেন্স হলে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এম জি এন রেগা কর্মসূচী রূপায়ণ সম্পর্কিত পর্যালোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷
মুখ্যমন্ত্রীর পৌরোহিত্যে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী নরেশ জমাতিয়া, স্বশাসিত জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রাধাচরণ দেববর্মা, মুখ্যসচিব যশপাল সিং, প্রধান সচিব ড জি এস জি আয়েঙ্গার ও ডা রাকেশ সারোয়াল, আট জেলার সভাধিপতি সহ সভাধিপতি জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসকরা৷
পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ জনগণের জীবিকা নির্বাহ সুনিশ্চিত করতে রেগার মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে৷ এজন্য প্রকৃত জনমুখী ভূমিকা নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে৷ তিনি বলেন, রেগায় টাকা কমিয়ে দিয়ে এবং নিত্য নতুন ব্যবস্থা চালু করে গরিব মানুষকে ঠকাবার ফন্দি করছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ যারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে তাদের কাজে বাধার সৃষ্টি করতেই এসব করছে তারা৷ এর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি রাখতে হবে৷
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার রেগা কর্মসূচী রূপায়ণের মাধ্যমে যে সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে তার চিহ্ণিতকরণের ক্ষেত্রে জিও ট্যাগিং ব্যবস্থা চালু করেছে৷ এর জন্য রেগার সুপারভাইজারদের এন্ড্রয়েড মোবাইলের মাধ্যমে এই স্থায়ী সম্পদের ছবি তুলে জিও ট্যাগিং এর জন্য সে ছবি এম আই এস এ আপলোড করতে হবে৷ এই ব্যবস্থা পরিচালিত হবে ইসরোর মাধ্যমে৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জিও ট্যাগিং এর বিরুদ্ধে নই৷ বরং আমরাই প্রথম স্থায়ী সম্পদের ছবি তুলে দিল্লীতে রিপোর্ট পাঠিয়েছি৷ এরপরও সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গেই কাজ করতে হবে৷ দফতরের প্রধান সচিব জানান, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৬-১৭ এর এ সময় পর্যন্ত রেগার মাধ্যমে সারা রাজ্যে ২,৯০,২২৯টি বিভিন্ন ধরনের স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে৷ এখন সব জেলাতেই এই সম্পদগুলোর জিও ট্যাগিং এর কাজ শুরু হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৩ হাজারের মতো সম্পদের জিও ট্যাগিং সম্পন্ন হয়েছে৷
গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের প্রধান সচিব জানান, রেগার মাধ্যমে জমির মানোন্নয়নের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তাতে চলতি ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আট জেলায় ব্লকের মাধ্যমে মোট ৮৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৪১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ওয়েজ বাবদ৷ প্রতিটি জেলায় জেলা শাসক ও সভাধিপতিদের তত্ত্বাবধানে জমির মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজের শুরু ও শেষে ছবি তুলে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখতেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন৷
রেগায় কর্মসূচী পর্যালোচনার বাইরেও মুখ্যমন্ত্রী সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচী নিয়মিত প্রতিপালন, সাক্ষরতার কর্মসূচীর অন্তর্গত প্রবহমান শিক্ষা রূপায়ণ এবং গৃহ নির্মাণ প্রকল্প রূপায়ণ নিয়েও পর্যালোচনা করেন৷ প্রতিটি জেলায় প্রধান সড়কের দু’পাশ, মোটরস্ট্যান্ড ও পার্কিং এরিয়া, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কার্যালয় প্রভৃতি নিয়মিতভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে জেলাশাসকদের দায়িত্ব নিতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন৷ আগামী ২৬ জানুয়ারির আগেই এই কাজ শুরু করতে বলেছেন তিনি৷ এজন্য এডিসিকেও উদ্যোগ নিতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন৷ আগামী ২৬ জানুয়ারির আগেই এই কাজ শুরু করতে বলেছেন তিনি৷ এজন্য এডিসিকেও উদ্যোগ নিতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন৷ সাক্ষরতার কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবহমান শিক্ষার কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন৷ এছাড়া ২০১৭-র জানুয়ারির মধ্যে পুরোনো ইন্দিরা আবাস যোজনায় ঘর তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজও দ্রুত শুরু করতে বলেছেন তিনি৷
2016-12-30