বিশেষ প্রতিনিধি, বিলোনীয়া/অমরপুর, ২৪ ডিসেম্বর৷৷ বিলোনীয়া ও অমরপুরে দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু৷ এক গৃহবধূকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলানো হল মৃতদেহ৷ অন্যদিকে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য্য হয়ে বিষাদে সুকলেই আত্মঘাতী এক ছাত্র৷
ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার গৃহবধুর মৃতদেহ৷ হত্যা না আত্মহত্যা এনিয়ে রয়েছে প্রশ্ণ৷ বিলোনীয়া মহিলা থানায় অভিযোগ৷ ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য বিলোনীয়া থানাধীন উত্তর সোনাইছড়ি এলাকায়৷ শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নিজ বাড়ির পাশের রাবার বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল বীনা দে (৩২) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ৷
মৃতদেহ উদ্ধারের খবর দেওয়া হয় বিলোনীয়া থানায়৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে৷ খবর পাঠানো হয় মৃতার বাপের বাড়িতে৷ বাপের বাড়ি সাব্রুমের সাতচাঁদে৷ খবর পেয়ে ছুটে আসনে মৃতার ভাই সমীর দত্ত৷ শ্রীদত্তের অভিযোগ তাঁর বোনকে হত্যা করে রাবার বাগানে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে৷ অভিযুক্ত স্বামী শঙ্কর চন্দ্র দে, ভাসুর তপন চন্দ্র দে এবং জা শেফালী দে৷ তাঁরা মিলে বীনা দেকে হত্যা করেছে৷ এই ব্যাপারে বিলোনীয়া মহিলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷
জানা গিয়েছে, প্রায় ষোল বছর আগে সামাজিক রীতিনীতিতেই বিয়ে হয়েছে বীনার৷ বর্তমানে চৌদ্দ বছরের এক ছেলে ও ৯ বছরের এক মেয়ে রয়েএছ৷ মৃতার ভাই অভিযোগ করেছেন স্বামী, ভাসুর ও জা প্রতিনিয়ত তাঁর বোনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত৷ কিছুদিন আগে অভিযুক্তরা তার বোন বীনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়৷ প্রায়ই তাকে খাবার দিত না৷ তাই উপবাস করে থাকতে হত৷ কিন্তু, আজ ভোরে ভাসুর পোন করে মৃতার ভাইকে জানান যে তাঁর বোনকে পাওয়া যাচ্ছে না৷ আবার দশ মিনিট পর জানা যে তাঁর বোন আত্মহত্যা করেছে৷ এসে যেভাবে বোনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় তাতে সন্দেহ হয় যে তাঁর বোনকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে৷ খেন সে তাঁর বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন৷ রাতে খবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ অভিযুক্তরা পলাতক বলে পুলিশের দাবি৷
এদিকে, অমরপুরে আত্মঘাতি হল এক পরীক্ষার্থী৷ তার নাম রাহুল মালি৷ সে অমরপুর দক্ষিণ দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র৷ এবছর মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষায় বসেছিল৷ টেস্ট পরীক্ষায় সে উত্তীর্ণ হতে পারেনি৷ সে কারণেই সুকলের শৌচালয়ে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছে ছাত্রটি৷ ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে৷ ফাঁসিতে অনুত্তীর্ণ ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুজনিত একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ এদিকে, রাহুলের ফাঁসিতে আত্মহত্যার ফলে তার মা-বাবা শোকে পাথর হয়ে যাওয়ার উপক্রম৷ আত্মীয় পরিজন ও এলাকাবাসী শোকে বিহ্বল৷
2016-12-25