নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ ডিসেম্বর৷৷ আমাদের রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের সরকারের উপর আস্থা রয়েছে৷ সরকারেরও আস্থা রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপর৷ আজ বিধানসভার দ্বিতীল বেলার অধিবেশনে শিক্ষক- কর্মচারী- অবসরপ্রাপ্তদের বেতন ভাতা সম্পর্কিত একটি স্বল্প সময়ের আলোচনার উপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একথা বলেন৷ বিধায়ক রতনলাল নাথ এই স্বল্প সময়ের আলোচ্য বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেন৷ স্বল্প সময়ের আলোচ্য বিষয়টি ছিল নিম্নরূপ ঃ কেন্দ্রীয় সরকারের সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক ১লা জানুযায়ী, ২০১৬ইং থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষক কর্মচারী অবসরপ্রাপ্তদের জন্য কার্য্যকর হওয়া সংশোধীত বেতন-ভাতার ন্যায় ত্রিপুরা সরকারের শিক্ষক কর্মচারী অবসরপ্রাপ্তদের সংশোধীত বেতন ভাতা ১লা জানুয়ারী ২০১৬ই তারিখকে ভিত্তি করে শীঘ্রই চালু করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, সরকারি কর্মচারী শিক্ষক অবসরপ্রাপ্তদের ন্যায্য দাবী দাওয়া নিয়ে সরকার কোন রকম প্রতারণার আশ্রয় নেবে না৷ সীমিত ক্ষমতায় কর্মচারীদের দাবী দাওয়া মিটিয়ে দিতেও সরকার কুন্ঠবোধ করবে না৷
এই স্বল্প সময়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য গঠিত সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কেন্দ্রীয় সরকার জুলাই মাসে চালু করেছে৷ বেতনক্রম ব্যতীত অন্যান্য বিষয়গুলি নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি৷ এই বেতনক্রম এ পর্যন্ত দেশের ৪টি রাজ্য চালু করেছে৷ অন্যান্য রাজ্যে এখনও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে৷
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্য ত্রিপুরাতে এই বেতন কমিশন চালু করতে গেলে কি প্রয়োজন তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে৷ রাজ্য বামফ্রন্ট সরকার বরাবরই শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী দাওয়া কার্য্যকরী করার পক্ষে৷ এ ক্ষেত্রেও সেই চেষ্টা থাকবে৷ রাজ্য সরকারের সীমাবদ্ধ আর্থিক ক্ষমতা সম্পর্কে এ রাজ্যের শিক্ষক – কর্মচারীরা ওয়াকিবহল৷ তাদের জন্য উন্নত বেতনক্রম ও ভাতা প্রদানে বামফ্রন্ট সরকারই বন্ধুর ভূমিকায় ছিল, আছে ও থাকবে৷
তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের নিজস্ব আয়, কেন্দ্রীয় করের অংশ গ্যাপ গ্রান্ট সহ সম্মিলিত অর্থ থেকে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের বেতন ভাতা, পেনশনারের ভাতা, গৃহীত ঋণের সুদ সহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালন খরচ ব্যয় করা হয়৷ সামাজিক সুরক্ষা ভাতা, সৃষ্ট সম্পদের মেরামতি সহ অন্যান্য পরিকল্পনা বহির্ভূত খরচও এই প্রাপ্ত অর্থ থেকেই খরচ করতে হয়৷ রাজ্যের শিক্ষক- কর্মচারীদের ন্যায্য দাবীর প্রতি রাজ্য সরকার সহানুভূতিশীল৷ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে যথাসময়ে এই বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে৷ বিষয়টি উত্থাপন করে বিধায়ক রতনলাল নাথ বলেন, শিক্ষক-কর্মচারী- অবসরপ্রাপ্তদের বেতনভাতা সংক্রান্ত সংক্রান্ত বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ কর্মচারীরাই সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচী রূপায়ণ করেন৷ সরকারের এবিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচি ৷ বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, রাজ্যের শিক্ষক-কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তগণ এক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের সপ্তম পে-কমিশনের রিপোর্ট গ্রহণ করে তা রূপায়ণ করা নিয়ে সরকারের সদিচ্ছায় অভাব রয়েছে৷
2016-12-20