নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ ডিসেম্বর৷৷ ভাড়ারে টান, তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং জুটমিলের কর্মচারীদের পাওনা গন্ডা মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না৷ এমনকি সুপ্রিমকোর্টের রায় অনুসারে সমান চাকরিতে সমান বেতন, তাও দিতে পারবে না রাজ্য সরকার৷ এবিষয়ে অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা বলেন, আর্থিক ক্ষমতা না থাকলে কোনভাবেই দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়৷ এক্ষেত্রে আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে, অক্ষমতার কারণেই কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং জুটমিল কর্মীদের পাওনা গন্ডা মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব হচেছ না৷
এদিকে, সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার বিষয়েও হিসেব নিকেশ করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনেক দেরিতে দেওয়া সম্ভব হয়েছিল৷ সপ্তম বেতন কমিশনের বিষয়েও অর্থদপ্তর হিসেব নিকেশ শুরু করে দিয়েছে৷ তবে, পে কমিশন নাকি পে রিভিউ কমিটি তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি৷
এদিন তিনি জানান, যোজনা কমিশন মুছে গিয়ে নীতি আয়োগ এবং চতুদর্শ অর্থ কমিশনের দৌলতে যে অর্থ মিলেছে তাতে প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে৷ চলতি অর্থ বছরে সে ঘাটতি পূরণ হবে এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই৷ ফলে, আগাম কোন কিছুই বলা সম্ভব নয়৷ তিনি জানান, সময়মত ঘোষণা করা হবে এবিষয়ে৷
এদিন তিনি জানান, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের উচ্চ আদালতের সিঙ্গেল ব্যাঞ্চের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়েছে৷ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দিতে ব্যয় ভার বহন করার ক্ষমতাই না থাকলে রাজ্য সরকারের পক্ষে এই রায় মেনে নেওয়া সম্ভব নয়৷ তবে তিনি দাবি করেন, উচ্চ আদালত রায়ে বলেছে, সামর্থ্য থাকলে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দাও৷
এদিকে, আগামীদিনে পে কমিশন রূপান্তর হয়ে পে এন্ড প্রোডাক্টিভিটি কমিশনে পরিণত হতে পারে৷ এবিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, নীতিগতভাবে এর বিরুদ্ধে আমাদের কোন বক্তব্য নেই৷ এই পদ্ধতি চালু হলে কাজ কত হয়েছে তার হিসেব করেই মিলবে টাকা৷ আর এই পদ্ধতি সরকারি দপ্তরগুলিতে যারা কর্মসংসৃকতি লাটে তুলেছেন তাদেরকে শায়েস্তা করার লক্ষ্যেই আনা হচ্ছে এবিষয়ে সহমত পোষণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে অনেকেরই কাজ না করার মানসিকতা রয়েছে৷ একটা অংশ সব সময় শুধুই নিজের জন্য ভাবেন৷ ফলে, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মসংসৃকতিতে আঘাত এসেছে৷ তবে তিনি এও মনে করেন, এই পদ্ধতি চালু হলে পুনরায় দাসবৃত্তি শুরু হয়ে যাবে৷ তোষণ না করলে মিলবে না পদোন্নতি৷ বিষয়টি ভয়ানক রূপ নিতে পারে বলেও তিনি মনে করেন৷
2016-12-15