ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের পরিসংখ্যানের দেশের মধ্যে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ

malariaনয়াদিল্লি-কলকাতা, ৬ ডিসেম্বর (হি.স): ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রকের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের চিত্রটা উদ্বেগজনক জায়গায় রয়েছে| চলতি বছর ৩০ অক্টোবর পর‌্যন্ত ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের পরিসংখ্যানের দিক থেকে দেশের মধ্যে এই রাজ্যের স্থান দ্বিতীয়| অপরদিকে এনকেফেলাইটিসের উপসর্গ নিয়ে এবং জাপানিস এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত এবং মৃতু্যর সংখ্যা কিন্তু গত দুই বছরে এই রাজ্যে কমছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ্য করা হয়েছে| কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী জগত প্রকাশ নাড্ডা তার ২১ নভেম্বর লোকসভায় পেশ করা রিপোর্টে বলেছেন, এই বছর ৩১ অক্টোবর পর‌্যন্ত ডেঙ্গিতে পশ্চিমবঙ্গে এবং উত্তরপ্রদেশে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন যথাক্রমে ২৮ এবং ২৯ জন| যদিও এই রাজ্যও একই সময়ে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের পরিসংখ্যানের (১১ হাজার ৬৯ জন) দিক থেকেও প্রথম স্থানে রয়েছে| কিন্তু এই সময়ে আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওড়িশা, ৭ হাজার ৮৬৫ জন| যদিও গত বছর ডেঙ্গিতে আক্রান্তের দিক থেকে দিল্লি ছিল প্রথম (১৫ হাজার ৮৬৭ জন)| গত বছর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮ হাজার ৫১২ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ১৪ জন| রিপোর্টে মন্ত্রীর পরিসংখ্যান থেকেই জানা গিয়েছে, চলতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত এই রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হন ২২ হাজার ৩০ জন, মারা গিয়েছেন ৫৫ জন| পশ্চিমবঙ্গে গত বছর এই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ২০৮ জন, মারা গিয়েছিলেন ৩৪ জন আক্রান্তের দিক থেকে এই বছর এই রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও, মৃতু্যর সংখ্যা বেড়েছে গত বছরের তুলনায়| অন্যদিকে এই বছর সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩৩২ জন, মারা যান ৬৫ জন| অথর্যাত্ ওড়িশা প্রথম হলেও পশ্চিমবঙ্গ কিন্তু দেশে এবার ম্যালেরিয়ার আক্রান্ত ও মৃতু্যর পরিসংখ্যানের দিক থেকে দ্বিতীয়| চিকনগুনিয়াতে যেখানে গত বছর এই রাজ্যে আক্রান্ত হন ১ হাজার ১৩ জন, তুলনায় এই বছর ৩১ অক্টোবর পর‌্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯১২ জন| কোনও মৃতু্য হয়নি|
অপরদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল ভেক্টর বর্ন ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম বিভাগের এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ্য করা হয়েছে, গত বছর দেশের মধ্যে এনকেফেলাইটিসের উপসর্গ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হন ২ হাজার ১৬৫ জন, এবং মারা যান ৩৫১ জন| গত বছরই জাপানিজ এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হন ৩৪২ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৭৫ জন| এই বছর অক্টোবর পর‌্যন্ত এই পরিসংখ্যান যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৬ ও ২২১ জন এবং ১৩৪ ও ২৬ জন| এই বছর এই মশাবাহিত রোগে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান প্রতিবেশী দেশ াসামের| আসামে এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হন ১ হাজার ৬৬২ ও ১৮৩ জন মারা যান| এবং জাপানিজ এনকেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪১০ জন এবং মারা গিয়েছেন ৮৪ জন| কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এই মশাবাহিত অর্থাত্ ভেক্টর বর্ন রোগ নিরাময়ে কেন্দ্র প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছে| কিন্তু দেখা যাচ্ছে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গিতে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থাকলেও গত বছর ১৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হলেও এই বছর অনুমোদিত ১৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে এখন পর‌্যন্ত বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৭ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা| সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে ওড়িশ রাজ্য ৫৫ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা| এদিকে ন্যাশনাল ভেক্টর বর্ন ডিজিস কন্ট্রোল প্রোগ্রামের নির্দেশক ডঃ এ সি ধারিওয়াল তার রিপোর্টে বলেছেন, দেশ জুড়ে ডেঙ্গি কিছু রাজ্যে মহামারির আকার ধারন করতে চলেছে| র‌্যাপিড ডাইগনস্টিক কিট দিয়ে ডেঙ্গির পরীক্ষা পদ্ধতিতে তারা অনুমতি দেননা| ডেঙ্গির প্রতিরোধে নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ বা ভ্যাকসিন নেই| তাই নতুন বিল্ডিং নির্মাণ, বাড়িতে বদ্ধ জলাশয় বা জল যেনও ধরে রাখআ না হয়, এমন জায়গায় মশার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায় এটা রুখতে হবে| মানুষের তৈরি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যাতে ডেঙ্গির মশার বৃদ্ধি না করে সেদিকে নজর রাখতে হবে| এই বিষয়ে পঞ্চায়েত পুরসভা বা সিভিক বডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে ডঃ ধারিওয়াল রিপোর্টে বলেছেন|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *