জিবি হাসপাতালের জনশৌচালয় নোংরা-পুঁতিময়, চলছে অরাজকতা, নাজেহাল সাধারণ মানুষ

gv-jan-toiletআগরতলা থেকে ফিরে খোয়াই প্রতিনিধি, ৪ ডিসেম্বর৷৷ ত্রিপুরা রাজ্যের গরীব-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের প্রতিদিনকার সরকারী সুযোগ-সুবিধা নামে  হয়রানী, লাঞ্ছনা, অপমানের খবর রাখেন না  রাজ্যের মন্ত্রি-আমলারা৷ শুধু বিজ্ঞাপন আর মিছিল -মিটিং, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বুলি চলে৷ কিভাবে রাতের পর রাত, দিনের পর দিন রাজ্যের বিভিন্ন মহকুমা বা জেলা থেকে আসা গরীব মানুষ রাজধানীর জিবি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে ব্যাগ ভর্তি করে টাকা না নিলে বাবুর বাড়ীর সারমেয় থেকে খারাপ অবস্থা হয় তারও খোঁজ রাখেন না৷ কি সমস্যা? কিভাবেই বা নাজেহাল হল ত্রিপুরার জনসাধারন? ১) জিবি হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড৷ ২) প্রায় সেবক-সেকিা৷ ৩) প্রায় ডাক্তার বাবু৷ ৪) প্রায় ড্রেসার৷ ৫) ঔষুষ৷ ৬) কেন্টিন৷ ৭) জননী সুরক্ষা সহ নানান প্রকল্প৷ ৮) চোরের দল৷ ৯) অসভ্য ব্যবহার-প্রবীন ও নবীনদের সাথে৷ ১০) যেকোন সার্টিফিকেট৷ ১১) গাড়ী৷ ১২) শৌচালয়৷ এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ১২টি সমস্যা নিত্যদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শ্রমিক -কৃষক-মেহনতি মানুষকে ভোগ করতে হয়৷ আজ শুধু ১নং পয়েন্ট অর্থ্যাৎ শৌচালয় নিয়ে বিস্তারিত তোলে ধরা হল৷ বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে কোন মহিলা থেকে ইউনিরন পয়েন্টের জন্য টাকা নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷ কিন্তু জিবি হাসপাতালের শৌচালয়ে ৩ টাকা এবং ৫ টাকা রাখা হয়৷ ভাল টয়লেটে গেলে ১০ টাকা এবং নুংরা-পুঁতিময় টয়লেটে গেলে ৫ টাকা রাখা হয়৷ জিনিষপত্র চুরি হলে কর্তপক্ষ দায়ী থাকেনা৷ প্রায় শৌচালয় থেকেই চুরি হয়৷ বিশেষ করে মহিলাদের বেশী লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়৷ যার ফলে মা-বোনেদের বারবার ইউরিন পয়েন্টে যেতে হলে খুচরো নিয়ে চলতে হয়৷ এক ধরনের বৈজ্ঞানিক রিগিং চলছে৷ যার ফলে শৌচালয়ে অরাজকতা৷ প্রায় প্রতিদিন জিবি হাসপাতালে রাত্র ১১ টায় পর থেকে জল থাকেনা৷ যেকারনে রোগী এবং আত্মীয় পরিজনদের কাপর-চোপর নিয়ে  শৌচালয়ে যেতে হয়৷ সেখানে মর্জিমাফিক কর বসানো হয়৷ এত পুরনো নুংরা পুঁতিময় শৌচালয় রাজ্যে আর আছে কিনা প্রশাসনের কর্মকর্তারাই বলতে পারেন৷ সব উন্নতি হলেও জিবি হাসপাতালের মান্ধাতা আমলের শৌচালয়ের পরিবর্তন নেই৷ জনগনের অভিযোগ কোন আমলা বা মন্ত্রির পরিবার শৌচালয় ব্যবহার করেনা৷ গরীব মানুষরাই ব্যবহার করেন৷ ভিভিআইপিদের জন্য জিবি হাসপাতালের ভেতরে সর্ব সুবিধা পাওয়া যায়৷ সুতরাং উনারা গরীব মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন না৷ মান্ধাতা আমলের শৌচালয় পরিবর্তন করে নতুন একটি শৌচালয় তৈরী করার দাবি জনসাধারনের৷ সেই সাথে পরিসেবা উন্নিত করারও দাবি জানানো হয়েছে৷ তাছাড়া অচিরেই আমলা-কর্তারা যেন গোপনীয়ভাবে শৌচালয় পরিদর্শন করে এই রহস্য ভেদ করেন সেজন্যও দাবি জানানো  হয়েছে৷ তবেই সমস্যার সমাধান বলে মনে করছেন রাজ্যের গরীব শ্রমিক মেহনতি মানুষরা৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *