নিজস্ব প্রতিনিধি, তেলিয়ামুড়া, ৩০ নভেম্বর৷৷ সেই দিনটা ছিল মঙ্গলবার ভোর৷ জম্মু কাশ্মীরের নাগরোটায় পাক জঙ্গীদের

আত্মঘাতী হামলায় শহীদের মৃত্যু বরণ করেছেন সেনা বাহিনীর নায়েক তথা ত্রিপুরার যুবক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা৷ এই বীর জওয়ান শহীদ হওয়ার খবর পৌঁছতেই কল্যাণপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, জম্মুর নাগরোটা এলাকায় মঙ্গলবার পাকিস্তানের জঙ্গীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই সেনা আধিকারীক সহ সাতজন শহীদ হয়েছে৷ তাঁদের মধ্যে চিত্তরঞ্জন দেববর্মাও রয়েছেন৷ তেলিয়ামুড়া মহকুমার কল্যাণপুর ব্লকের পাগলাবাড়ি এডিসি ভিলেজের গারিং পাড়ার মধুসুধন দেববর্মার ছোট ছেলে তথা দুই সন্তানের পিতা চিত্তরঞ্জন দেববর্মা দেশের গর্ব অক্ষুন্ন রাখতে শহীদ হয়েছেন৷
মঙ্গলবার সকাল ছযটা নাগাদ পাক জঙ্গীরা আচমকা হামলা চালায় সেনা ছাউনিতে৷ দেশের সম্মান রক্ষার্থে জওয়ানরাও পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানায়৷ গুলি ও বোমার লড়াইয়ে শহীদ হয়েছেন চিত্তরঞ্জন দেববর্মা৷ শহীদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ চিত্তরঞ্জন দেববর্মা ভগ্ণিপতির কাছে ফোন করেছিলেন৷ তিনি স্পর্শকাতর এলাকায় আছেন কর্তব্য পালনে৷ বাঁচবেন কি, শহীদ হবেন তা তিনি জানেন না বলে ভগ্ণিপতিকে জানিয়েছিলেন চিত্তরঞ্জন দেববর্মা৷ ঐ ফোন কলটিই ছিল তাঁর শেষ ফোন কল৷ তারপর থেকে আর ফোন করে তাঁকে পাওয়া যায়নি৷ সারাদিন পরিবারের লোকজন সেনা বাহিনীর ক্যাম্পে খোঁজ খবর নিয়েও কোন সন্ধান পায়নি তাঁর৷ রাত আনুমানিক নয়টা নাগাদ পরিবারের লোকজন জানতে পারেন চিত্তরঞ্জন দেববর্মা পাকিস্তানের জঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহীদ হয়েছেন৷ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতেই কল্যাণপুরের বড়ময়দান এলাকার মানুষজন শহীদের বাড়িতে যান৷বুধবার সকাল থেকে কল্যাণপুর এলাকার জাতি উপজাতি অংশের শত [vsw id=”MUH_J25r9Rk” source=”youtube” width=”425″ height=”344″ autoplay=”yes”]শত মানুষ গারিং পাড়াতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন৷ শহীদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে পৌঁছেন কল্যাণপুরের বিধায়ক মণিন্দ্র চন্দ্র দাস, কল্যাণপুর ব্লকের বিডিও, তেলিয়ামুড়া মহকুমার এসডিপিও লাকি চৌহান৷ এদিকে, শহীদ চিত্তরঞ্জন দেববর্মার বাবা মধুসুধন দেববর্মা জানিয়েছেন, তাঁর খুব আদরের ছেলে ছিল চিত্তরঞ্জন৷ ছোটবেলা থেকেই সেনা বাহিনীতে কাজ করার ইচ্ছা ছিল চিত্তরঞ্জনের৷ ১৯৯৯ সালে চিত্তরঞ্জন দেববর্মা ভারতীয় সেনা

বাহিনীতে যোগ দেন৷ চাকুরী জীবনের বেশীরভাগ সময়ই তিনি পশ্চিমবাঙ্গায় কর্মরত ছিলেন৷ সম্প্রতি তাঁকে জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ে যায় সেনা বাহিনী৷ ছেলের আত্মবলীদানে গর্বিত মা৷ যদিও সন্তানের জন্য সারা রাত কেঁদেই যাচ্ছেন মা নৈশ্বরী দেববর্মা৷ পুত্র হারানোর বেদনায় মা বাকরুদ্ধ৷ শহীদের স্ত্রী নমিতা দেববর্মা অনবরত কেঁদে চলেছেন৷ এদিকে বারো বছরের মেয়ে ইংলাফ দেববর্মা বাবার শহীদের মৃত্যুতে গর্বিত৷ গত জুনে বাবা ছুটিতে এসেছিলেন বাড়িতে৷ তার থেকে শুধু ফোনে কথা৷ সে নিজের পিতার আদর্শ অনুসারে চলতে চায়৷ ছোট ছেলে কুপলাই দেববর্মা মাত্র সাত বছরের৷ সে এখনও বুঝে না জন্ম-মৃত্যু কি৷ বাড়ীর সবাই কাঁদছে, তা দেখে সেও ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে৷
বৃহস্পতিবার সকালে বিমানে দিল্লী থেকে আগরতলায় নিয়ে আসা হবে শহীদ জওয়ান চিত্তরঞ্জন দেববর্মার মরদেহ৷ নিয়ে আসা হবে কল্যাণপুরের নিজ বাড়িতে৷ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই বীর জওয়ানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে৷
গতকাল জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরোটায় জঙ্গী হামলায় ত্রিপুরার সন্তান ভারতীয় সেনাবাহীনর জওয়ান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা প্রাণ হারিয়েছেন৷ তাঁর এ অকাল প্রয়াণে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এক শোকবার্তায় বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরোটায় জঙ্গি হামলায় ভারতীয় সেনা বাহিনীর জওয়ান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বীরের মৃত্যু বরণ করেছেন৷ ত্রিপুরার বীর সন্তান চিত্তরঞ্জন দেববর্মার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি৷ তাঁর পরিবার পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি৷ এদিকে, রাজ্যপালও সৈনিক চিত্তরঞ্জন দেববর্মার শহীহ হওয়ায় তাঁর পরিবার পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন৷ প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে কাশ্মীরের পুঞ্চে পাক জঙ্গীদের পোঁতা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে শহীদ হয়েছেন রাজ্যের যুবক তথা বিএসএফের হাবিলদার শম্ভু সাতমুড়া৷ শহীদ শম্ভু সাতমুড়ার পরিবার পরিজনদের প্রতিও গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাজ্যপাল তথাগত রায়৷